জাবিপ্রবিতে ৩ নতুন বিভাগ, ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) তিনটি নতুন বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগগুলো হলো—ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে জমা দিলে জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউজিসির গবেষণা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গবেষণা ফান্ডের ২৫ শতাংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।’

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠালে শিক্ষার্থীরা মাসিক ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন।

জাবিপ্রবিতে খুলছে ৩ নতুন বিভাগ

শিল্প ও প্রযুক্তির পরিবর্তিত চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে জাবিপ্রবিতে ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স বিভাগ খোলার বিষয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এসব বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

স্টার্টআপে কর শূন্য শতাংশ

তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন ইউজিসি সদস্য।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ইনোভেশন ফান্ডে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর দাবি, তরুণ উদ্যোক্তাদের ইনোভেশন বা স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আগে ১৫ শতাংশ কর দিতে হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী তরুণদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’

শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ কোর্স চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রথম ধাপে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু করা হবে, যার মধ্যে জাবিপ্রবিও রয়েছে।

এ ছাড়া ‘আইসিটি স্কিলস উইথ এআই’, এথিক্স এবং সিভি লেখা ও ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো মৌলিক অন-জব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের মতো সরকারি ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ইউজিসির এই সদস্য।

মন্তব্য করুন

ক্যামেরার ফ্রেমে আর মঞ্চের অভিনয়ে শেকৃবিতে সমতার জয়গান

সমাজ বদলের হাতিয়ার হতে পারে শিল্প—এই বার্তারই জোরালো প্রতিধ্বনি মিলল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। লিঙ্গবৈষম্যের শেকল ভাঙার আহ্বান জানিয়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী। ‘ম্যাজেন্ডা প্রজেক্ট’-এর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও কিষাণ থিয়েটার।


এবারের আসরে অংশ নেয় দেশের ১০টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি প্রতিভাবান দল। লিঙ্গ সমতার ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ও চিন্তাজাগানিয়া ভিডিওগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৩টি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। ২৫ হাজার টাকার প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৫০ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পান যথাক্রমে ১৫ ও ১০ হাজার টাকা। পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত বিজয়ী প্রতিযোগী জারিফুল ইসলাম জিম বলেন, "সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে প্রশ্নবিদ্ধ করারই চেষ্টা ছিল আমাদের। এই স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ সৃজনশীল পথচলায় দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে।"


শিল্পের পাশাপাশি কথায় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপেও ছিল সমতার স্পষ্ট অঙ্গীকার। শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের সর্বত্র নারী বা পুরুষ পরিচয়ে নয়, সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।" পাশাপাশি তিনি জানান, শেকৃবিতে সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শেকৃবির ছাত্র পরিচালক অধ্যাপক আশাবুল হক প্রদর্শিত ২৭টি বাছাইকৃত ভিডিওচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেন, সমাজের একটি হাত নিষ্ক্রিয় রেখে প্রগতির পথে হাঁটা অসম্ভব; সুন্দর সমাজ গড়তে দুই হাতকেই সমানভাবে কাজে লাগাতে হবে।


পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা শেষে সমকালীন সমাজচিত্র নির্ভর নাটক ‘বহ্নিশিখা’ মঞ্চস্থ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'কিষাণ থিয়েটার'। নিজস্ব রচনা ও নির্দেশনার এই নাটকটি বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের সমতার চেতনায় নতুন করে আলোড়িত করে।

মন্তব্য করুন

রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের প্রধান গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় রাজশাহী রেলস্টেশনে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে আইয়ুব আলী সেখানে এগিয়ে গেলে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আইয়ুবের বন্ধু নাইমুল ইসলাম অভ্র জানান, মারধরের একপর্যায়ে আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। পরে তার জ্ঞান ছিল না। কয়েকবার বমি করার পাশাপাশি তার নাক দিয়ে রক্তপাতও হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে রাবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেললাইন অবরোধ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার পর তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে লং মার্চ করেন।

আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। তিনি জানান, আইয়ুবের চিকিৎসার বিষয়ে নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক-গবেষক পেলেন সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ শতাংশ ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।

এ বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশিত ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালের গবেষণাপত্র পুরস্কারের আওতায় এসেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

পুরস্কারের আওতায় আসা গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে ১২৪টি নিজ নিজ বিষয়ের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে।

গবেষণায় উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বিষয়

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এসব গবেষণায় অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় কেন বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদান রয়েছে।

স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ খাতে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুতেও এসব গবেষণা ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা ও পাঠদান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও পাঠদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।’

গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ।

এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না’—অধ্যাপক ড. রজব আলী

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ‘রূপালী বাংলাদেশ’ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফাহিম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে কক্ষে আটকে রাখা এবং ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য (রেজিস্ট্রেশন নম্বর) দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কমিটির আহ্বায়ক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সম্প্রতি শেকৃবিতে ২০০৯-২০২৪ সালের নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা জানতে অধ্যাপক ড. রজব আলীর কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম। কার্যালয়ে পৌঁছে কমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শেষে তিনি বের হওয়ার সময় তাকে পুনরায় ডেকে পাঠান অধ্যাপক রজব।

এ সময় পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও ওই অধ্যাপক তার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কোন বিভাগে এমএস করছেন এবং সুপারভাইজারের নাম জানতে চান। সাংবাদিক তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কথা জানালেও অধ্যাপক রজব আলী নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।

সাংবাদিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অধ্যাপক রজব আলী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না।”

তিনি আরও বলেন, “তুমি কি আমাকে চেনো? আমি এখানে ৩২ বছর শিক্ষকতা করছি। যদি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে না চাও, তাহলে সাংবাদিকতা করতে কেন এসেছ? যদি ডিগ্রির ভয় পাও, তাহলে কেন সাংবাদিকতা করতে এসেছ?”

একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন এবং প্রক্টরকে ফোন করে ওই সাংবাদিকের পরিচয় যাচাই করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে এই কমিটির তথ্য না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয় না, তিনি তাদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখেন এবং তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেন না। পরবর্তীতে শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহেদ মাহমুদ মাহিনকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর ওই সাংবাদিক কক্ষ ত্যাগ করেন।

শেকৃবিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতির নানা অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। কৃষি অনুষদের এন্টোমলজি (কীটতত্ত্ব) বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। মূলত সেই তদন্ত কমিটির অগ্রগতির খোঁজ নিতে গিয়েই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সংবাদকর্মী।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম ফয়সাল বলেন, “আমি আমার পেশাগত জায়গা থেকে যতটুকু সৌজন্যতা বজায় রাখা সম্ভব, তা বজায় রেখেছি। স্যারকে আমার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানানোই আমার একমাত্র অসৌজন্যমূলক আচরণ। তিনি আমাকে কোনো ডকুমেন্ট দেখাননি বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। বরং কয়েক বান্ডিল কাগজপত্র আমার সামনে রেখে দেখিয়েছেন যে তাঁরা কাজ করছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি গোপনীয় কাজের কোনো তথ্য এখন শেয়ার করব না। তুমি এখন আসতে পারো।’

তথ্য সংগ্রহ শেষে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে ফের ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে কক্ষ থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। পরবর্তী তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালককে ফোন দিবেন বলে ভয়ভীতি দিয়েছেন এবং পরে তিনি এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন দেন। আমি বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে অবগত করি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. রজব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “শুরুতে সে নিজেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। আলোচনা চলাকালে বিভিন্ন বিষয়ে সে আমাকে খোঁচা দিচ্ছিল। পরে তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাইলে সে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সে যদি সত্যিই ছাত্র হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে সমস্যা কোথায়?”

সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত রেজিস্ট্রেশন নম্বর কেন প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে নিজেকে ছাত্র পরিচয় দেওয়ায় আমি তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং তাকে অনেক কাগজপত্রও দেখিয়েছি। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা উচিত ছিল, সে তা বজায় রাখেনি।”

মন্তব্য করুন

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার মারধর, প্রতিবাদে সেই নেতার রুম ভাঙচুর

লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে; এমনকি একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া বা দৌড়ানি খাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের রাতুল হাসান রুম্মান নামে এক শিক্ষার্থী ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রের পরিচয় না দিয়ে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরবর্তীতে তা রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।

তথ্যসুত্রে জানা যায়,রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসাররী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সাথে সংঘর্ষ এ জড়ান। এসময় শরীফকে মারধরের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীফের সহপাঠীরা এসে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করে। পরবর্তীতে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাংচুর করে।

রুমমানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে, শরীফের দাবি—রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।

শরীফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান, গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলার হুমকি দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন
×