ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়ায় বাবার দাফনে আপত্তি মেয়ের, গাইবান্ধায় পারিবারিক বিরোধ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জীবদ্দশায় ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর পর বাবার জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জানাজা ও দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন মেয়ে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা মীমাংসার উদ্যোগ নেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারি (৭০)। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলীর (৪০) নামে প্রায় চার বিঘা জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নাজির উদ্দিন ছেলের নামে ওই জমি লিখে দেন। তবে মেয়ে হালিমা বেগম (৫০) জমি না পাওয়ায় এ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। এর মধ্যে রোববার দুপুর ২টার দিকে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা। এতে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় বোন হালিমা বেগমকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন ইদ্রিস আলী। তবে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি আমার ন্যায্য অধিকার চাই।’ বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক বিরোধের সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইদ্রিস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মিষ্টি বলেন, নাজির উদ্দিনের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সম্পত্তির বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমঝোতার জন্য উভয় পক্ষ ও গ্রামবাসীকে নিয়ে আলোচনা চলছে। বিরোধের সমাধান করে নাজির উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন করাই তাঁদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইস্তেকার হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক এ বিরোধের সমাধানে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য করুন

শহীদ জেহাদ দিবস আজ, তাঁর আত্মত্যাগে গতি পায় এরশাদবিরোধী আন্দোলন

আজ ১০ অক্টোবর, শহীদ জেহাদ দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন ছাত্রদল নেতা নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায়। জেহাদের আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়। সেই ঐক্য ও ধারাবাহিক গণআন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন ঘটে এরশাদ সরকারের।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সন্তান নাজির উদ্দিন আহমেদ জেহাদ ছিলেন সরকারি আকবর আলী কলেজ শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর এরশাদ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ নিতে সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি।

সেদিন সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ও বিরোধী দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পল্টন এলাকায় পুলিশের লাঠিপেটা ও গুলিতে জেহাদ গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রসমাজসহ আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

অপরাজেয় বাংলায় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য

জেহাদের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিয়ে আসার পর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে গড়ে ওঠে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারাও এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ছাত্রনেতারা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। এ সময় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, বাকশাল ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতারাও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এরশাদের শাসনের অবসান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর এই ঐক্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। মিছিল, সমাবেশ, ধর্মঘট ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ছাত্র আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর থেকেই তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং ১৯৮৭ সালে নূর হোসেনের আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে আছে।

১৯৯০ সালে এসে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট এবং বামপন্থী দলগুলোর পাঁচদলীয় জোট এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়। পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাদের দাবির মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়।

১০ অক্টোবর জেহাদের মৃত্যুর পর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের তৎপরতা এই আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করে। ছাত্রসমাজের পাশাপাশি শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। ক্রমেই তা দেশব্যাপী গণপ্রতিরোধে রূপ নেয়।

ডা. মিলনের মৃত্যু ও এরশাদের পতন

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তাঁর মৃত্যুর পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

এর আগে ১৯ নভেম্বর তিনটি রাজনৈতিক জোট গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করে। এতে এরশাদের পদত্যাগ, নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

অবশেষে গণআন্দোলনের মুখে ৪ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণা দেন। ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রায় নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে জেহাদের আত্মত্যাগ

শহীদ জেহাদ দিবস বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাঁর মৃত্যু ছাত্রসংগঠনগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

জেহাদের আত্মত্যাগ, সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ভূমিকা, রাজনৈতিক জোটগুলোর আন্দোলন এবং ডা. মিলনের মৃত্যুর পর গণপ্রতিরোধের বিস্তার—সব মিলিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর শহীদ জেহাদ দিবসে তাঁর আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়। দিনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা, রাজনৈতিক ঐক্য এবং জনগণের অংশগ্রহণের ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়।

মন্তব্য করুন

আজ প্রকাশ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি কার্যক্রমের ২য় ও সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকা আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশ করা হবে। বিকেল ৪টায় SMS-এর মাধ্যমে এবং রাত ৯টা থেকে অনলাইনে এ ফলাফল দেখা যাবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা থেকে SMS-এর মাধ্যমে ফলাফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে nu athn Application ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। এছাড়া রাত ৯টা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd/admissions-এ প্রবেশ করে ফলাফল জানা যাবে।

ভর্তি ফরম পূরণ ও ফি জমা

২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩১ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে চূড়ান্ত ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের পর এর প্রিন্ট কপি অথবা PDF কপি সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর ১ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভর্তি ফরমসহ রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১ হাজার ১৩০ টাকা সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা দিতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চয়ন করবে।

দ্বৈত ভর্তি হলে বাতিল হবে ভর্তি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে অন্য কোনো শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি থাকলে তাকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বাতিল করতে হবে।

পূর্ববর্তী ভর্তি বাতিলের পর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি ফরম পূরণ করতে হবে। অন্যথায় দ্বৈত ভর্তির কারণে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে।

এদিকে, ২য় রিলিজ স্লিপের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয় পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকবে না।

তথ্য যাচাই করে ভর্তি নিশ্চয়নের নির্দেশ

কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ভর্তি ফরমে প্রদর্শিত তথ্য ও ছবি সনদপত্র এবং নম্বরপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য বা ছবিতে অসংগতি পাওয়া গেলে ভর্তি নিশ্চয়ন না করে বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

এছাড়া ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি জনপ্রতি ১ হাজার ১৩০ টাকা হারে ১৩ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেকোনো সোনালী ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে ইলিশের দাম বাড়ল, কেজিতে বেড়েছে ৩০০-৪০০ টাকা

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে বেড়েছে ইলিশের দাম। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হঠাৎ দাম বাড়ায় মাছঘাটে এসে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। অনেকেই ইলিশ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে বড়স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে। ছোট আকারের ইলিশের দাম পড়ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে একই আকারের ইলিশের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম

ব্যবসায়ী নবীর হোসেন বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও।

তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ুক, এটা আমাদেরও কাম্য নয়। মূলত ইলিশের দাম কম থাকলে ক্রেতা বেশি আসে এবং বিক্রিও ভালো হয়। আগামী দুই দিনে যদি ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়ে, তাহলে দামও কমতে পারে।’

কুমিল্লা থেকে মাছ কিনতে আসা আসমা বেগম বলেন, ১০-১২ দিন আগেও চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাট থেকে ইলিশ কিনেছেন তিনি। তখন যে দামে মাছ কিনেছিলেন, এখন একই ধরনের ইলিশের দাম কেজিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি।

তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে ইলিশের দাম আরও কমবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো, দাম আরও বেড়ে গেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মনে হয় না আর ইলিশ কিনতে পারব।’

২২ দিন বন্ধ থাকবে ইলিশ ধরা ও বিক্রি

আগামী ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময় চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটেও ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, বর্তমানে মৌসুমের শেষ পর্যায়ের ইলিশ বেচাকেনা চলছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে।

তিনি জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে মাছ ধরা শুরু হলে আবার ঘাটে ইলিশের বেচাকেনা শুরু হবে।

নিষেধাজ্ঞার আগে বাকি দুই দিনে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সরবরাহ বাড়ুক এবং ইলিশের দাম কিছুটা কমে আসুক।’

মন্তব্য করুন

শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের জন্য পূবালী ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা চালু করতে পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শেকৃবির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম এবং পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা অনুযায়ী, শেকৃবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা কম খরচে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতা করবে পূবালী ব্যাংক। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল বাশার।

বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমন সহযোগিতা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা সহজ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে গতি আনতে পারে। এই সমঝোতার মাধ্যমে শেকৃবিয়ানরা ব্যাংকিং সেবায় বিশেষ সুবিধা পাবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেকৃবির পারস্পরিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। পূবালী ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ফলে শেকৃবিয়ানরা সাশ্রয়ী ও বিশেষায়িত ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন বলে আশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শেকৃবি ও পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

রাবিনা ট্যান্ডনের খোঁচা: “আজকাল কলেজের মেয়েরা তো প্রতি সপ্তাহেই নতুন প্রেমে!

বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় জুটি অক্ষয় কুমার ও রাবিনা ট্যান্ডন। নব্বইয়ের দশকে তাদের রোমান্স ছিল ইন্ডাস্ট্রির আলোচনার কেন্দ্রে। ‘মোহরা’ ছবির সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, যা পরে বাগদান পর্যন্ত গড়ায়। তবে কিছু বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাবিনাকে আবারও সেই পুরনো সম্পর্ক ও বাগদান ভাঙা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অভিনেত্রী হেসে বলেন, “আমি তো সেসব ভুলেই গেছি।” তিনি আরও বলেন, “কিছু অনস্ক্রিন জুটি মানুষ ভুলতে পারে না। ‘মোহরা’-র সময় আমরা হিট জুটি ছিলাম, এখনও কোথাও দেখা হলে খুব স্বাভাবিকভাবে কথা হয়। সবাই নিজের জীবনে এগিয়ে যায়।”

রাবিনা হালকা রসিকতার ছলে আরও বলেন, “আজকাল মেয়েরা কলেজে প্রতি সপ্তাহেই বয়ফ্রেন্ড বদলায়। আর আমার একটাই বাগদান ভাঙা— সেটাই এখনও লোকের মাথায় ঘুরছে! কেন জানি না। সবাই তো জীবনে এগিয়ে যায়, কেউ বিচ্ছেদ করে, কেউ নতুনভাবে শুরু করে— এতে এত ভাবনার কী আছে?”

বর্তমানে রাবিনা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী অনিল থাডানির সঙ্গে; তাদের ২১ বছরের সংসার। দম্পতির মেয়ে রাশা থাডানি এ বছরই বলিউডে পা রেখেছেন। অন্যদিকে, অক্ষয় কুমারও ২০০১ সালে অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্নাকে বিয়ে করে সংসারী হন।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার অক্ষয় ও রাবিনাকে আবার একসঙ্গে দেখা যাবে বড় পর্দায়— আসছে তাদের নতুন ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’।

মন্তব্য করুন

২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

 

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে রবিউস সানি মাস। সে হিসাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পালিত হবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, এমপি।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম রবিউস সানি মাসের ১১তম দিন। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।

ছুটি থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নেই। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় ২৪ সেপ্টেম্বর এ উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কার্যকর হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ উপলক্ষে ছুটি থাকবে। একইভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায়ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি রয়েছে। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বর ছুটি উল্লেখ করা হলেও তা চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কি বন্ধ থাকবে?

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এক নয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এদিন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে, আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রম চলতে পারে। তাই ২৩ সেপ্টেম্বর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী?

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মূলত রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনকে বোঝায়। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ ১১। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে এ দিনটি পালন করা হয়।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদের হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমী (রহ.)-এর কাছে মারেফাতের জ্ঞান অর্জন করেন।

মুসলিম সমাজে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর রবিউস সানি মাসের ১১তম দিনে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হয়।

মন্তব্য করুন
×