তাইমকে হত্যার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ কথাও বলেনি, তারপরও গুলি: রাষ্ট্রপক্ষ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ইমাম হাসান (তাইম) হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, পুলিশের গুলিতে তাইম নিহত হওয়ার সময় কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো কথাও বলেননি। তারপরও তাঁকে গুলি করা হয়। এমনকি তাইমকে উদ্ধারের চেষ্টা করা এক ব্যক্তিকেও গুলি করে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিনে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।

যুক্তিতর্কে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাইমকে উদ্ধারের চেষ্টা করা ব্যক্তিকেও পুলিশ গুলি করে। পরে ওই ব্যক্তি তাইমকে সেখানে রেখেই প্রাণভয়ে দৌড়ে চলে যান।

তাইম হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখানোর সময় ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না।’ যুক্তিতর্কের সময় ট্রাইব্যুনালে ভিডিওটি দেখানো হয়।

ইকবাল হোসাইনের বিষয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল, তা ইকবাল জানতেন। ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’—তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, হত্যাকাণ্ড চলছিল। কিন্তু তা বন্ধে তিনি কোনো চেষ্টা করেননি বলে যুক্তিতর্কে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

ইমাম হাসান (তাইম) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী-সেতুর কাছে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। তাইম নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার ১১ আসামির মধ্যে নয়জন পলাতক। তাঁরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক এবং সাবেক উপপরিদর্শক সাজ্জাদ উজ জামান।

অন্য দুই আসামি যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক উপপরিদর্শক মো. শাহদাত আলী কারাগারে রয়েছেন। সোমবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২২ ডিসেম্বর দাখিল করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

৯৫ জনের ৯৪ জন পেলেন নিয়োগপত্র, বাদ ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী তালহা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবু তালহা। আট মাসের অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও শেষ ধাপে এসে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন তিনি। পরে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দ্বিতীয় দফায় গাইবান্ধায় ছয়জন নিয়োগপত্র পেলেও তালহার ভাগ্যে জোটেনি নিয়োগপত্র। ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৯৫ জনের মধ্যে ৯৪ জন নিয়োগপত্র পেলেও একমাত্র তালহাই এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় নিয়োগপত্র প্রকাশের সময় তালহাসহ অনেক চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। পরে বিভিন্ন জেলার বঞ্চিত প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংগঠিত হয়ে নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

এরপর শাহবাগে জড়ো হয়ে দিনভর আন্দোলন করেন তারা। আন্দোলনের পর সরকার দ্বিতীয় দফায় বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু করে। বিভিন্ন ধাপে যোগদানের দিন পর্যন্ত অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পেলেও এখনো শতাধিক প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কেন বাদ পড়েছিলেন প্রার্থীরা?

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে দেশের ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

তবে ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায়, চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সবার নাম সেখানে নেই। প্রার্থীদের দাবি, প্রথম দফায় দুই হাজারের বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এনএসআই বা গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্য, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় অসংগতি এবং ফৌজদারি মামলাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক প্রার্থী প্রথম দফায় নিয়োগপত্র পাননি।

পরে নিয়োগপত্রবঞ্চিতরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের আন্দোলনের পর ধাপে ধাপে অনেককে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

আমরণ অনশনের ঘোষণা

এখনো শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে দাবি করছেন বঞ্চিতরা। তাঁদের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ত্রুটিও নেই। তারপরও তাঁরা নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নিয়োগের আগে পদায়নের দাবিতে এসব প্রার্থী আগামীকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন।

রোববার থেকে নতুন শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে আগামীকাল রবিবার (৪ অক্টোবর)। নতুন শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ধারণা দিতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন শেষে নতুন শিক্ষকদের ১১ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৪ অক্টোবর পদায়নের কথা জানানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের দাবি, পদায়নের আগে তাঁদের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক।

মন্তব্য করুন

পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২০২৭ সালের ২৭ মে’র মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে না। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। নির্বাচন কমিশন শুধু নির্বাচনের ধাপ ও তারিখ জানিয়ে দেবে।

এদিকে, গত সেপ্টেম্বরে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬’-এর সংশোধিত চূড়ান্ত গেজেটে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালার গেজেটে গত বৃহস্পতিবার ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করেন। পরে বুধবার এটি প্রকাশ করা হয়।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।

জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে তাঁর জামানত ফেরত দেওয়া হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এ ছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে অর্থ গ্রহণ না করলে তা অফেরতযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব খোলার বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে খরচ করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন-পূর্ব প্রচারণাসহ সব ধরনের নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিমালার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিধিমালার পরিপন্থি কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে নির্ধারিত আসনে বসেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমানসহ বিশিষ্টজন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিশেষ এ আয়োজনে শিশুদের অংশগ্রহণে থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া শিশুদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে ‘শৈশব’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী

কর্মসূচি অনুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি।

মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন। সেখানে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত আধুনিক সোলার প্যানেল ও সাবস্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

মন্তব্য করুন

মালবাহী ট্রেন বাড়িয়ে রেলের আয় বাড়ানোর নির্দেশ সংসদীয় কমিটির

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়াতে যাত্রীবাহী ক্যারেজের তুলনায় মালবাহী ক্যারেজের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে রেলের আয় বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার, এমপি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে রেল খাতকে বর্তমান লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

কমিটির বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় রেল পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নের অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল সেবা, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী লোকোমোটিভ তৈরি ও সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং প্রস্তাবিত পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেলপথের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের পাশাপাশি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতি তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করা হয়। আহতদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০, সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা

সরকারি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা অবিলম্বে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ১৩ গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সদস্যরা এই দাবি পেশ করেন।

 

মূল দাবি ও প্রস্তাবিত ভাতা

সংগঠনটি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে:

  • বাড়িভাড়া ভাতা:

    • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: মূল বেতনের ৮০%

    • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৭০%

    • অন্যান্য এলাকায়: ৬০%

  • চিকিৎসা ভাতা: ৬,০০০ টাকা

  • শিক্ষা ভাতা (সন্তান প্রতি): ৩,০০০ টাকা

  • যাতায়াত ভাতা:

    • ঢাকা: ৩,০০০ টাকা

    • অন্যান্য এলাকা: ২,০০০ টাকা

  • ইউটিলিটি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • টিফিন ভাতা: দৈনিক ১০০ টাকা (মাসিক ২,২০০ টাকা)

  • বৈশাখী ভাতা: ৫০%

  • ঝুঁকি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা: ৪০%

পেনশন ও অন্যান্য দাবি

ফোরাম পেনশন সুবিধা বিদ্যমান ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১ টাকায় ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পে স্কেলে ব্যাপক বৈষম্য ছিল এবং গত ১০ বছরে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা দুটি পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন, বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।


আল্টিমেটাম

সংগঠনটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক নবম পে কমিশন গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কমিশন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রস্তাব করবে।

মন্তব্য করুন

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রেস ক্লাবের সামনে অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অটোরিকশাচালকদের দাবি, ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছেন না তারা। ফলে গাড়ি চালাতে না পারায় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

যান চলাচলে ভোগান্তি

অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধের কারণে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আশপাশের সড়কেও তৈরি হয়েছে যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা। হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তাদের কর্মজীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এদিকে, বর্তমানে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করছেন অটোরিকশাচালকরা।

মন্তব্য করুন
×