নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি: ৭ অক্টোবর পর্যন্ত, ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু

সম্প্রতি দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে দেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি শুরু হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে, যা চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মনে করেছেন, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আসলে সঠিক নয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী এই বিষয়ে পরিষ্কার করেছেন যে, ছুটি শুধুমাত্র ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ৮ অক্টোবর থেকে শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। ৮ ও ৯ অক্টোবর শুধুমাত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, তবে স্কুল খুলে যাবে।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির বিষয়, এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোনো ছুটি বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, তারা ভুল করেছে। সঠিক তথ্য পেতে চাইলে মাউশিতে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 
মন্তব্য করুন

মাধ্যমিকের বইয়ে যুক্ত ‘রাতের ভোট’; সাহিত্য-কণিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ

রাতের ভোট
রাতের ভোট

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আলোচিত ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গটি এবার যুক্ত হচ্ছে নবম–দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন সংযোজিত অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পূরণ এবং ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা করেছিল; যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বাদ যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে এই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়; অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এটি ছিল ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে।

পাঠ্যবইয়ের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে—দমনমূলক শাসন যত শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠা জনপ্রতিরোধের কাছে পরাজয় অনিবার্য।

২০২৬ সালের বইয়ে পতিত সরকারের অনিয়ম–দুর্নীতির বিবরণও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কমিশনের তথ্যমতে, গত ১৬ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বইয়ের নতুন অংশে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ফলে বাকশাল গঠনের কথা, জিয়াউর রহমানের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাবির্ভাব, এরশাদের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী গণআন্দোলনও বর্ণনা করা হয়েছে। নুর হোসেন, জেহাদ, ডা. মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ এবং ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনও এতে রয়েছে।

আরেক অংশে বলা হয়েছে—২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—এসবই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বইতে লেখা হয়েছে—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ে। পরদিন রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল শান্তসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত বল প্রয়োগে শত শত মানুষ নিহত হয়। দমননীতি বাড়তে থাকলে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশত্যাগ করেন—এ তথ্যও বইতে স্থান পেয়েছে।

বইয়ে আন্দোলনের দুই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
১) নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণ,
২) সারাদেশে দেয়ালে–দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি; যেখানে অধিকার, ইনসাফ, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসার পর ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালের বইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব শ্রেণির বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকছে। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বৃহৎ সঞ্চয়ের সন্ধানে: দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে 'ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক', ২০ হাজার কোটি টাকার সরকারি ভরসা!

ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাঁচটি বেসরকারি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূতকরণের এক ঐতিহাসিক প্রস্তাবনা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই বিশাল সমন্বয়ের ফলে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা।

৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেন, দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি মোকাবেলা করতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যে পাঁচ ব্যাংক মিশে যাচ্ছে এক স্রোতে

একীভূত হয়ে যে নতুন ব্যাংকটি গঠিত হবে, তার জন্য প্রাথমিকভাবে 'ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক' অথবা 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' নামে দুটি প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তাদের পৃথক অস্তিত্ব বিলীন করে একটি বৃহত্তর শক্তিতে পরিণত হচ্ছে, তারা হলো—

১. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ২. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩. ইউনিয়ন ব্যাংক ৪. এক্সিম ব্যাংক ৫. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক

 

আমানত ও চাকরির নিরাপত্তা: সরকারের পূর্ণ আশ্বাস

এই একীভূতকরণের ফলে আমানতকারীদের মনে যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল, তার নিরসন করেছে সরকারের ঘোষণা। প্রেস সচিব দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, "একীভূত হওয়ার পর কেউ চাকরি হারাবেন না। আগের আমানত সবাই ফেরত পাবেন।"

তবে আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া হবে সুসংগঠিত। জানা গেছে, আমানত সুরক্ষা আইনের সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যেসব গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ২ লক্ষ টাকা বা তার কম, তারা এককালীন পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। বাকি আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। আমানত সুরক্ষা আইনকে যুগোপযোগী করে তোলার সংশোধনীও উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করেছে।

 

প্রাথমিক মূলধন ও মালিকানা কৌশল

নতুন এই ব্যাংকের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে সরকার এক বিশাল মূলধনের আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংকটির মূলধন হিসেবে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে। এই অতিরিক্ত পুঁজির জোগান আসবে বাজেট, বৈদেশিক ঋণ এবং প্রয়োজনে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থেকে।

মালিকানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকবে, যার তত্ত্বাবধানে থাকবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল করে তোলার পর, উপযুক্ত সময়ে তা বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে। সরকার আশা করছে, এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, এই একীভূতকরণের কার্যক্রম বাস্তবায়নে গত ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরকে আহ্বায়ক করে একটি আট সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যিনি হাসপাতালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করেন। গাড়িচালকের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খবর পেয়ে মাজহারুল ইসলামসহ ঘনিষ্ঠজনরা যান।

চিকিৎসকেরা জানান যে তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল। এরপর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্টিং করা (রিং পরানো) হয়।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ও লাইফ সাপোর্ট

শনিবার থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তাঁর অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। অবশেষে, আজ বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানসম্মত সমন্বয়ের ওপর জোর, প্রাথমিক স্তরে আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

একাধিক শিক্ষাধারা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘জগাখিচুড়ি’ তৈরি করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা—এই ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়ছে। তাই সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম ও মানের মধ্যে সমন্বয় আনা জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সিলেটের ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েল ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট এডুকেশন (রাইজ)ইউরোকিডস প্রি-স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাধারা সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন মান ও দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি শিক্ষার মান নিশ্চিত না করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ও কর্মজীবনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী তৈরি না করে সব ধারার শিক্ষার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের মধ্যে সামঞ্জস্য ও কাছাকাছি মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু মৌলিক বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো উচিত। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাইজ স্কুল ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন
×