তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানাল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এঁরা সবাই বিএনপির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির সদস্য।

ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে দলটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপি এটিকে 'সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে মনে করছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দ্রুত স্থগিত করা আবশ্যক।

মন্তব্য করুন

পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান ঢাবি অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া (ইমন)।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন নিয়োগ

এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। তাঁর পদত্যাগের পর চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের পর এবার পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া।

মন্তব্য করুন

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর এ ভাষণে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, জাতীয় ঐক্য গঠন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

জাতীয় পর্যায়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

মন্তব্য করুন

৮ বিভাগে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ

দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সভায় বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জেলায় জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে। অথচ সরকারি মাদ্রাসা মাত্র তিনটি। এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক সভায় মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। আশা করছি, এ সরকারের আমলে এ বিষয়ে ভালো কিছু হবে।’

দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাত্র ৩টি

বর্তমানে দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে।

ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ১৭৮০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ঢাকার বকশীবাজারে বর্তমান স্থায়ী ক্যাম্পাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ১৯১৩ সালে আসাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধীনে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় এটি সিনিয়র মাদ্রাসা হিসেবে পুনঃস্থাপিত হয়। ১৯৩৩ সালে এটি নিউ স্কিম উচ্চ মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৩৫ সালে কামিল হাদিসের স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা ধারার প্রথম কামিল মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

সরকারি স্কুল-কলেজের তুলনায় মাদ্রাসা খুবই কম

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। সরকারি কলেজ রয়েছে ৭০৮টি। এছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে রয়েছে সরকারি স্কুল-কলেজের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯৪টি।

অন্যদিকে, দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৭টি, আলিম ১ হাজার ২৮৫টি, ফাজিল ৯৯৩টি এবং কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি। এছাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে ১ হাজার ২৫৮টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি স্কুল-কলেজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকলেও বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। সীমিত সুযোগের মধ্যেও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভালো করছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটসহ) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হচ্ছেন।

‘জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মানও বাড়বে’

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার তুলনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বর পেয়ে পড়াশোনা করছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।’

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা জাতীয়করণ হলে শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়বে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। তবে জাতীয়করণের বিষয়টি এখনো আলোচনা ও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানসম্মত সমন্বয়ের ওপর জোর, প্রাথমিক স্তরে আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

একাধিক শিক্ষাধারা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘জগাখিচুড়ি’ তৈরি করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা—এই ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়ছে। তাই সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম ও মানের মধ্যে সমন্বয় আনা জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সিলেটের ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েল ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট এডুকেশন (রাইজ) ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাধারা সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন মান ও দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি শিক্ষার মান নিশ্চিত না করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ও কর্মজীবনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী তৈরি না করে সব ধারার শিক্ষার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের মধ্যে সামঞ্জস্য ও কাছাকাছি মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু মৌলিক বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো উচিত। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাইজ স্কুল ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

দুর্গাপূজায় টানা ৭ দিনের ছুটি, সুবিধা পাবেন যারা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা কয়েক দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ টানা ৭ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার। মহানবমী উপলক্ষে এদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মূল সরকারি ছুটি দুই দিন।

এর আগে ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ফলে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এক দিনের ছুটি নিলে এর সঙ্গে পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে ছুটির ধারাবাহিকতা মিলিয়ে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধা পাবেন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

টানা ৭ দিনের এই ছুটির সুবিধা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটি পাবেন, তবে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে টানা ছুটি বাড়ানোর সুযোগ তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বন্ধ থাকবে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হতে পারে।

এ সময় এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে।

জরুরি সেবায় থাকছে না ছুটি

সরকারি ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। জনসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির দিনেও কর্মীদের দায়িত্বে রাখতে পারে।

এর মধ্যে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীরা রয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কর্মসূচি অনুযায়ী ছুটির নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির নিয়ম আলাদা

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটির নিয়ম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে।

সরকারি ছুটির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন
×