চুয়েটের ভিসির নিয়োগ নিয়ে সাদিক কায়েমের সমালোচনা, অপসারণের দাবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেকে তাঁকে চান না দাবি করে উপাচার্যের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি নবনিযুক্ত উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘নির্লজ্জতার এক নতুন উদাহরণ দেখা গেলো চুয়েটে। শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেউ চায় না, তবুও ভিসি হওয়ার লোভ যাচ্ছে না নিয়োগ পাওয়া বিএনপি নেতার।’

তিনি আরও বলেন, সকালে ছাত্রদলের ক্যাডারদের নিয়ে ‘সাধারণ শিক্ষক’ পরিচয়ে উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এটি উপাচার্যের ‘বাহাদুরির নমুনা ও যোগ্যতা’।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন ডাকসুর ভিপি। তিনি বলেন, ‘গত ৮ মাসে নজিরবিহীনভাবে ৪৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে দলীয় নেতাদের বসিয়েছে বিএনপি সরকার। এসব নিয়োগে যোগ্যতার বদলে দেখা হয়েছে কার গোলামি কত বেশি।’

সাদিক কায়েম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবরুদ্ধ উপাচার্যদের উদ্ধারে ছাত্রলীগের ভূমিকা দেখা গেছে। সে সময় ক্যাম্পাসে টেন্ডার ও উন্নয়নকাজে ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার ব্যবসা চলত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে রিপ্লেস করে ছাত্রদল এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনের দারোয়ানের ভূমিকা পালন করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে ভিসি পদটি বিশাল লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই, ভিসি নামের গোলামের অপসারণ চাই।’

মন্তব্য করুন

ক্যামেরার ফ্রেমে আর মঞ্চের অভিনয়ে শেকৃবিতে সমতার জয়গান

সমাজ বদলের হাতিয়ার হতে পারে শিল্প—এই বার্তারই জোরালো প্রতিধ্বনি মিলল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। লিঙ্গবৈষম্যের শেকল ভাঙার আহ্বান জানিয়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী। ‘ম্যাজেন্ডা প্রজেক্ট’-এর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও কিষাণ থিয়েটার।


এবারের আসরে অংশ নেয় দেশের ১০টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি প্রতিভাবান দল। লিঙ্গ সমতার ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ও চিন্তাজাগানিয়া ভিডিওগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৩টি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। ২৫ হাজার টাকার প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৫০ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পান যথাক্রমে ১৫ ও ১০ হাজার টাকা। পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত বিজয়ী প্রতিযোগী জারিফুল ইসলাম জিম বলেন, "সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে প্রশ্নবিদ্ধ করারই চেষ্টা ছিল আমাদের। এই স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ সৃজনশীল পথচলায় দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে।"


শিল্পের পাশাপাশি কথায় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপেও ছিল সমতার স্পষ্ট অঙ্গীকার। শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের সর্বত্র নারী বা পুরুষ পরিচয়ে নয়, সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।" পাশাপাশি তিনি জানান, শেকৃবিতে সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শেকৃবির ছাত্র পরিচালক অধ্যাপক আশাবুল হক প্রদর্শিত ২৭টি বাছাইকৃত ভিডিওচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেন, সমাজের একটি হাত নিষ্ক্রিয় রেখে প্রগতির পথে হাঁটা অসম্ভব; সুন্দর সমাজ গড়তে দুই হাতকেই সমানভাবে কাজে লাগাতে হবে।


পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা শেষে সমকালীন সমাজচিত্র নির্ভর নাটক ‘বহ্নিশিখা’ মঞ্চস্থ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'কিষাণ থিয়েটার'। নিজস্ব রচনা ও নির্দেশনার এই নাটকটি বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের সমতার চেতনায় নতুন করে আলোড়িত করে।

মন্তব্য করুন

চুয়েটে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

পরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে নির্ধারিত চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন এবং শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহান টিটুকে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল উপাচার্যের। এ জন্য ১০ অক্টোবর বিকেলে তাঁর ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পূর্বঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও সোমবার সকালে হঠাৎ চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলপন্থী বর্তমান ও সাবেক আট থেকে দশজন শিক্ষার্থীও তাঁর সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এসব কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি নিয়ে ক্ষোভ, প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তিতেও আপত্তি

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফি বাড়ানো এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ও সময়সীমা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের দিতে হবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা; মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা।

এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ৫০০ এবং মূল সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে মোট ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৮ হাজার ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা; সব মিলিয়ে তাদের দিতে হবে ৮ হাজার ৮০০ টাকা। এর বাইরে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য হবে।

প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় বেড়েছে ফি

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নিবন্ধন ফি ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা। মূল সনদ ফি ছিল ৪০০ টাকা। তখন সার্ভিস চার্জ ছিল ১ শতাংশ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন বাবদ মোট ৩ হাজার ৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সে তুলনায় জবির নির্ধারিত ফি প্রায় দ্বিগুণ। ফলে অতিরিক্ত এই ফি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা।

প্রফেশনাল শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আপত্তি

ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

জবির এক শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করা সমাবর্তনের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

আরেক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচ এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।’

ফি কমানোর সুযোগ নেই: রেজিস্ট্রার

এ বিষয়ে জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত সিদ্ধান্ত হওয়ায় বর্তমানে ফি পুনর্বিবেচনা বা কমানোর সুযোগ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় অনেক বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২ হাজার টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনেও এসব প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিলেন। এবার তাদের বাদ দিলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারত। সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, ৩ দফা দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।

৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফের অভিযোগ

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, ভেন্যু ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার উপাচার্যের।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’

তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ফলে এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পদোন্নতির রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ

এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য বিষয়টিতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে তা সংশোধন করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশাসনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় নিয়ম ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

তিন দফা দাবি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। দাবিগুলো হলো—

১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন।

২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

দুই মাস না যেতেই চুয়েটের উপাচার্য বদল, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

 

নিয়োগের দুই মাস না পেরোতেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসে মিছিল করে তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে বহাল রাখার দাবি জানান।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর প্রকাশের পরপরই বিক্ষোভে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকে তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে বহাল রাখার দাবি জানান।

দুই মাসেই পরিবর্তন

এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চার বছরের জন্য চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

তবে নিয়োগের প্রায় দুই মাসের মাথায় তাঁর স্থলে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

অধ্যাপক সায়েম সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময়ই তিনি নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন। অন্যদিকে নতুন নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কুয়েটের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাঁকে কুয়েটের উপ-উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

‘আমি ব্যাক করবো ক্যাম্পাসে’

চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমার মিশন-ভিশন এটাই। আমি জানি না কেন বাদ দিল।’

তিনি জানান, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ নিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও যান তিনি। ঢাকায় অবস্থান করেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন।

অধ্যাপক সায়েম বলেন, ‘আমি ব্যাক করবো ক্যাম্

মন্তব্য করুন

‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
×