জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন শেকৃবির অধ্যাপক ফজলুল করিম

কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা লাভ করতে যাচ্ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মো. ফজলুল করিম। 

আগামী ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই শিক্ষাবিদ বর্তমানে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) মাঠ ফসলের কৃষিতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন ড. ফজলুল করিম। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ডে যান এবং সেখানে সফলভাবে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেশে ফিরে ১৯৯০ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটে (বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উদ্ভিদ শারীরিকতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

শেকৃবিতে দীর্ঘ ৩১ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর ২০২১ সালে তিনি অবসরে যান। তবে শিক্ষকতা ও গবেষণার প্রতি তাঁর অনুরাগ থামিয়ে রাখেনি অবসর। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিনের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এখনো দেশের কৃষিশিক্ষার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তাঁর এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং কৃষি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষক দিবসের এই জাতীয় সম্মাননা দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

১৮ লাখে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ, জাকসুর দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৮ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক কাজ করেছে বলে দাবি করেছে। এ সময়ে সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, আবাসিক হলের সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ মোট ৩৩৮টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাকসুর সদ্য সাবেক এজিএস ফেরদৌস আল হাসান।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাকসুর কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আউটসোর্সিং ও স্পন্সরশিপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফেরদৌস আল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বাজেট সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের সহযোগিতা এবং স্পন্সরশিপের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

স্বাস্থ্য ও আবাসিক হলের উন্নয়ন

জাকসুর উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ২১টি আবাসিক হলে কম্পিউটার, ডেস্কটপ সেটআপ ও টেবিল সরবরাহে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া হলগুলোতে গরম ও ঠান্ডা পানির সুবিধাসহ আধুনিক ফিল্টার স্থাপনে প্রায় ৭ লাখ এবং প্রতিটি হলে বুস্টার স্থাপনে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ১৬টি আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

শিক্ষার্থীদের সেবা সহজ করতে ‘টিউটর হাব’, ‘জাবি’ ও রক্তদানবিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরিতে যথাক্রমে ৪৫ হাজার, ৫০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু ও বাসে ট্র্যাকার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে স্পন্সরশিপের কারণে এ খাতে জাকসুর প্রকৃত ব্যয় কমেছে বলে জানানো হয়।

ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন

শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষার সু

মন্তব্য করুন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ২৩ শিক্ষক অধ্যাপক, একজনের সিদ্ধান্ত স্থগিত

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৩ শিক্ষককে একসঙ্গে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা ২৪ শিক্ষকের মধ্যে ২৩ জনকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পদোন্নতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে একজন শিক্ষকের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অডিট আপত্তিসহ বিভিন্ন জটিলতায় পদোন্নতির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকে। অবশেষে রোববার ২৪ জনের মধ্যে ২৩ শিক্ষককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ড. প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. জামাল উদ্দীন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. সাদেকুর রহমান ও ড. তারেক মাহমুদ আবীর, লোক প্রশাসন বিভাগের ড. ইসরাত জাহান, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. হাফিজ আশরাফুল হক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. সুব্রত কুমার দাস, ইতিহাস বিভাগের ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ড. ধীমান কুমার রায় এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল।

এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, ড. হালিমা বেগম, ড. মো. নাজমুল কায়েস ও ড. মো. মাসুদ পারভেজ অধ্যাপক হয়েছেন।

গণিত বিভাগের ড. মো. শফিউল আলম, ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ড. বিজন কৃষ্ণ সাহা ও ড. হেনা রানী বিশ্বাস এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড. তাজিজুর রহমান, ড. সোহেল চৌধুরী ও ড. মো. আলমগীর মোল্লাও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

তবে অধ্যাপক পদে আবেদন করা ড. আবদুল কাইউমের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সিন্ডিকেট সদস্য জানান, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত হওয়া এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ড. আবদুল কাইউমের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তার পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পরে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মন্তব্য করুন

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুই বিষয়ে ভর্তি, থাকছে ৪০টি করে আসন

নতুন দুটি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্য দিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও দুটি বিষয়। নতুন বিষয়গুলোর পাঠদান পরিচালনার জন্য অ্যাকাডেমিক ভবন প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নতুন চালু হতে যাওয়া ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়েও ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

তিনি বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আধুনিক সুবিধা যুক্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসে

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন শহরের বাইপাস সড়কসংলগ্ন বরুনকান্দি এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শহরের যানজট ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে কম্পিউটার ল্যাব, ওয়াই-ফাই, সাধারণ লাইব্রেরি ও ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ডাক বিভাগের কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় পুরো দেশের সম্পদ’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নওগাঁর  নয়, এটি পুরো দেশের সম্পদ। নওগাঁর সংসদ সদস্য, সুধীজন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।তিনি আরও বলেন, উত্তরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে নওগাঁকে দেশ-বিদেশে নতুনভাবে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক-গবেষক পেলেন সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ শতাংশ ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।

এ বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশিত ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালের গবেষণাপত্র পুরস্কারের আওতায় এসেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

পুরস্কারের আওতায় আসা গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে ১২৪টি নিজ নিজ বিষয়ের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে।

গবেষণায় উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বিষয়

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এসব গবেষণায় অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় কেন বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদান রয়েছে।

স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ খাতে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুতেও এসব গবেষণা ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা ও পাঠদান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও পাঠদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।’

গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ।

এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ ফাতেমা জোহরা

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ ফাতেমা জোহরা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে তাঁর এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিচালনা নির্দেশাবলী-২০২২-এর তৃতীয় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ৩(১২) এবং তফসিল ‘ক’-এ বর্ণিত অধ্যক্ষ নিয়োগের নীতিমালার ‘খ’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ ফাতেমা জোহরাকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগ আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগে মাসখানেকেও সার্টিফিকেট পাননি কুবির শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার ঘটনায় প্রায় এক মাস ধরে চেষ্টা করেও তাঁর বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সার্টিফিকেট নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে একটি পাল্টা মেসেজ দেন। ওই মেসেজে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। পরে তাঁর এ আচরণকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকের মেসেজে শিক্ষার্থীর দেওয়া ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’কে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, শিক্ষার্থীর এমন আচরণকে তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূত মনে করেছেন। বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুজিবুর রহমানের গত ১৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে বিভাগীয় প্রধান তাঁর আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে একটি অভিযোগ থাকায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আবেদনে মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগটি কী বিষয়ে এবং কেন তাঁকে সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে লিখিত কারণ জানতে চাইলেও তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, “আমরা কমিটির সময় কিছু বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। কারণ অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। তবে কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার সার্টিফিকেটটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আমার মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট হয়ে গেছে, সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে গেছে। তাই আমি বিবিএ ও এমবিএ—দুইটা সার্টিফিকেটই তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমার একটা সার্টিফিকেটও দেননি, একটা সার্টিফিকেটও সাইন করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “এ কারণে আমার অনেকগুলো সার্কুলার মিস হয়েছে। আমি কোথাও আবেদন করতে পারছি না। এমনকি বিবিএর সার্টিফিকেটটাও পাইনি। এটার জন্য আমি প্রায় এক মাস কুমিল্লায় ছিলাম। রেজিস্ট্রারের কাছে বারবার গেছি, দপ্তর থেকে দপ্তরে গেছি, বিভাগেও কয়েকবার গেছি। এমনকি উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।”

সার্টিফিকেট আটকে রাখার কারণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি দাবি করে মুজিবুর রহমান বলেন, “এখন এক মাস শেষ হয়েছে। আসলে আমি এখনও জানি না, এর প্রক্রিয়া কতটুকু। কেন সার্টিফিকেট আটকানো হলো বা আমি সার্টিফিকেটটা কবে পাব—তাঁরা আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি আসলে কিছুই জানি না।”

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, “এ সম্পর্কে তো আমি কিছুই জানি না। কারণ আমিও জানি না এটা কী হচ্ছে। আমি যতটুকু শুনেছি, তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারপর কী হচ্ছে না হচ্ছে, আমি একেবারে অবগত না। আমাকে কেউ ইভেন ডাকেও নাই, কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই।”

বিষয়টি নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, “সার্টিফিকেট প্রদান বা বিভাগীয় ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, “সার্টিফিকেট কেন আটকে রাখছে, বিভাগীয় প্রধানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী এখন যেকোনো সময় সার্টিফিকেট নিতে পারবে।”

মন্তব্য করুন
×