মর্গের এক্সহস্ট ফ্যানের দূষিত বাতাস ঢুকছে একাডেমিক ভবনে, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

মর্গের দুর্গন্ধে শেকৃবিতে ক্লাসে বমি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার পরিবেশ। তীব্র পচা গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা। এমনকি দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের বমি করা ও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের এক্সহস্ট ফ্যান দিয়ে বের হওয়া দূষিত বাতাস সরাসরি রাস্তার অপর পাশে থাকা শেকৃবির একাডেমিক ভবন ও প্রধান ফটক এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মাহবুবুজ্জামান ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা করা তিনটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোতে তীব্র দুর্গন্ধ ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী এক আনসার সদস্য মাস্ক পরে ডিউটি করছেন। তিনি বলেন, ‘পচা গন্ধে সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে ডিউটি করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পচা গন্ধে ক্লাসে টেকা যায় না। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকে ক্লাসের মধ্যেই বমি করে দিয়েছে। এই বিষাক্ত বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করা আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের শামিল।’

অসুস্থ হচ্ছেন শিক্ষকও

দুর্গন্ধের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মকর্তারাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘মর্গের তীব্র গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের ক্লাসরুমে অবস্থান করা যাচ্ছে না। আমি নিজেও এই গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করেছি। শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি কার্যকর সমাধান করা দরকার।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

বিষয়টি নিয়ে শেকৃবি রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম জানান, সমস্যা সমাধানে তারা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

‘মর্গ নির্মাণে শুরুতেই স্থাপত্যগত ভুল ছিল’

মর্গের অবকাঠামোগত ও নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) ডা. সোলায়মান কবীর।

তিনি বলেন, ‘স্থাপত্যগত দিক থেকে শুরুতেই বড় ভুল ছিল। মর্গ কখনোই একদম রাস্তার ওপর হতে পারে না। তাছাড়া অবকাঠামোতেও কিছু ত্রুটি আছে। তবে দুর্ভোগ কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বিষাক্ত বাতাস পরিশোধনে বিশেষ কেমিক্যাল আনা হচ্ছে। এটি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে আসবে।’

আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ কমানোর পরিবর্তে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

মর্গের বাতাস নির্গমনের ব্যবস্থা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর অথবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে শেকৃবি ক্যাম্পাসে দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার মারধর, প্রতিবাদে সেই নেতার রুম ভাঙচুর

লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে; এমনকি একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া বা দৌড়ানি খাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের রাতুল হাসান রুম্মান নামে এক শিক্ষার্থী ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রের পরিচয় না দিয়ে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরবর্তীতে তা রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।

তথ্যসুত্রে জানা যায়,রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসাররী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সাথে সংঘর্ষ এ জড়ান। এসময় শরীফকে মারধরের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীফের সহপাঠীরা এসে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করে। পরবর্তীতে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাংচুর করে।

রুমমানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে, শরীফের দাবি—রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।

শরীফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান, গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলার হুমকি দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

জাবি মেডিকেল সেন্টারের নামফলক থেকে জাকসু জিএসের নাম প্রত্যাহার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী নামফলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নাম রাখা হয়েছিল। তবে এটিকে প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় উল্লেখ করে নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রধান অতিথি বা উদ্বোধনকারী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনার নামফলকেও দীর্ঘদিন ধরে এ রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

তবে ‘জাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬’-এর উদ্বোধনী নামফলকে উপাচার্যের নামের পাশাপাশি জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নামও উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় হিসেবে উল্লেখ করে নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় পরে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাবে না—এমন কোনো নীতিমালা তিনি দেখেননি। তাঁর দাবি, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জাকসুর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জরুরি কক্ষ, অপারেশন থিয়েটার (ওটি), ল্যাবসহ মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন সুবিধা আধুনিকায়নের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা ভূমিকা রেখেছেন, নামফলকে তাদের স্বীকৃতি থাকায় এতে দোষের কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নামফলকে জাকসুর জিএসের নাম রাখা এবং পরে তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসুর অবস্থানের মধ্যে ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন, যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের যৌথ উদ্যোগে এই ক্লাসরুমে সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক এই স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পাঠদান ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও প্রাণবন্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুগোপযোগী এই ক্লাসরুমটি এখন থেকে মূলত পিএইচডি (PhD) গবেষকদের ডিফেন্স এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত ভার্চুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার এই গুণগত আধুনিকায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিডিরেন (BdREN)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

দুই মাস না যেতেই চুয়েটের উপাচার্য বদল, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

 

নিয়োগের দুই মাস না পেরোতেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসে মিছিল করে তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে বহাল রাখার দাবি জানান।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর প্রকাশের পরপরই বিক্ষোভে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। মিছিল থেকে তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে বহাল রাখার দাবি জানান।

দুই মাসেই পরিবর্তন

এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চার বছরের জন্য চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

তবে নিয়োগের প্রায় দুই মাসের মাথায় তাঁর স্থলে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

অধ্যাপক সায়েম সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময়ই তিনি নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন। অন্যদিকে নতুন নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কুয়েটের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাঁকে কুয়েটের উপ-উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

‘আমি ব্যাক করবো ক্যাম্পাসে’

চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমার মিশন-ভিশন এটাই। আমি জানি না কেন বাদ দিল।’

তিনি জানান, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ নিয়ে নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও যান তিনি। ঢাকায় অবস্থান করেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন।

অধ্যাপক সায়েম বলেন, ‘আমি ব্যাক করবো ক্যাম্

মন্তব্য করুন

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

ইবিতে দুই শিক্ষার্থী আটক, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের উদ্যোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের একটি নির্জন এলাকা থেকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে মাদ্রাসা মসজিদসংলগ্ন একটি কাঁঠালবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, আটক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তরুণী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি মেসে থাকেন।

পরে তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা জানান এবং বিয়েতে সম্মতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করার কথা রয়েছে।

আটক শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘গত সাত-আট মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। আমি ভুল করেছি। আমি তাকে ভালোবাসি এবং তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই শিক্ষার্থী কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্জন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিষয়টি লক্ষ্য করার পর শুক্রবার তাদের আটক করে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিয়েতে সম্মতি জানান। তাদের বাবা-মাকে ডাকা হবে। এরপর বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই ছাত্রী যে মেসে থাকেন, সেটির মালিককেও তলব করা হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।’

মন্তব্য করুন
×