ক্যাম্পাস

চুয়েটের ভিসির নিয়োগ নিয়ে সাদিক কায়েমের সমালোচনা, অপসারণের দাবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেকে তাঁকে চান না দাবি করে উপাচার্যের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি নবনিযুক্ত উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাদিক কায়েম বলেন, ‘নির্লজ্জতার এক নতুন উদাহরণ দেখা গেলো চুয়েটে। শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেউ চায় না, তবুও ভিসি হওয়ার লোভ যাচ্ছে না নিয়োগ পাওয়া বিএনপি নেতার।’ তিনি আরও বলেন, সকালে ছাত্রদলের ক্যাডারদের নিয়ে ‘সাধারণ শিক্ষক’ পরিচয়ে উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এটি উপাচার্যের ‘বাহাদুরির নমুনা ও যোগ্যতা’। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন ডাকসুর ভিপি। তিনি বলেন, ‘গত ৮ মাসে নজিরবিহীনভাবে ৪৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে দলীয় নেতাদের বসিয়েছে বিএনপি সরকার। এসব নিয়োগে যোগ্যতার বদলে দেখা হয়েছে কার গোলামি কত বেশি।’ সাদিক কায়েম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবরুদ্ধ উপাচার্যদের উদ্ধারে ছাত্রলীগের ভূমিকা দেখা গেছে। সে সময় ক্যাম্পাসে টেন্ডার ও উন্নয়নকাজে ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার ব্যবসা চলত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে রিপ্লেস করে ছাত্রদল এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনের দারোয়ানের ভূমিকা পালন করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে ভিসি পদটি বিশাল লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাই, ভিসি নামের গোলামের অপসারণ চাই।’

Education Bangla অক্টোবর ১২, ২০২৬ 0
ঢাবির শিক্ষক তাসনিম সিরাজের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ, লাল কার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে লাল কার্ড প্রদর্শন করে তাঁরা এ প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন ওই শিক্ষক। এ ছাড়া একই শ্রেণিকক্ষে একটি বেঞ্চে ছয়জন ছাত্রকে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘রেড কার্ড টু রেসিস্ট, ক্লাসিস্ট অ্যান্ড হিপোক্রিট’ এবং ‘রেড কার্ড টু দোজ হু সাপোর্ট ডিসক্রিমিনেশন, হিউমিলিয়েশন অ্যান্ড বুলিং’—এমন স্লোগান দেন। এর মাধ্যমে বর্ণবাদী, শ্রেণিবিদ্বেষী ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের পাশাপাশি বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘আজ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের অন্যায়, বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে মুখে কালো কাপড় পরিধান করে এবং লাল কার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে তারা অন্যায়ের সমর্থকদের প্রতিও ঘৃণা ব্যক্ত করেন।’ এর আগে গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।

Education Bangla অক্টোবর ১২, ২০২৬ 0
চুয়েটে উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান এবং নির্ধারিত চেয়ারে বসেন। এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। অথচ সোমবার ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নিতে উপাচার্যের ঢাকায় অবস্থান করার কথা ছিল। এ কারণে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর সেখানে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁরা দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে ভবনটি ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। আলটিমেটামের সময় শেষ হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তাঁরা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ বিষয়ে আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা শবনম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মুকুট পরলেই রাজা হওয়া যায় না, স্যার। পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। এত কিছুর পরও সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে, তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশ করে আপনি ঠিক কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা বোধগম্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির কাছে শিক্ষার্থীরা দায়িত্ববোধ, সংযম ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন। উপাচার্যের এ পদক্ষেপ সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পদের মর্যাদা শুধু আসনে বসে নয়, বরং আচরণ ও গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান তিনি। উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

Education Bangla অক্টোবর ১২, ২০২৬ 0
চুয়েটে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে নির্ধারিত চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন এবং শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহান টিটুকে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল উপাচার্যের। এ জন্য ১০ অক্টোবর বিকেলে তাঁর ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও সোমবার সকালে হঠাৎ চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলপন্থী বর্তমান ও সাবেক আট থেকে দশজন শিক্ষার্থীও তাঁর সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এসব কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

Education Bangla অক্টোবর ১২, ২০২৬ 0
শাবিপ্রবিতে ফের শোক, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাদমানের বাড়ি রাজবাড়ীর মধ্য ভবানীপুর এলাকায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে মোটরসাইকেলে করে মদিনা মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন সাদমান। পথে একটি স্পিডব্রেকারের কাছে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লাগে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা সাদমানের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, স্পিডব্রেকারের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খায়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, সাদমানের মৃত্যুতে শাবিপ্রবি পরিবার শোকাহত। তার অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে রওনা দিয়েছেন।

Education Bangla অক্টোবর ১১, ২০২৬ 0
ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ১ম প্রফ দুই সপ্তাহ পেছানোর দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম পেশাগত (১ম প্রফ) পরীক্ষার সময়সূচি অন্তত দুই সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। একাডেমিক সিস্টেম লস, আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষাকার্যক্রমে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা এ দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির কথা জানায়। সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা ১ম প্রফের বর্তমান সময়সূচির কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, একাডেমিক সিস্টেম লস, হলের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সময়ে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে প্রথম পেশাগত পরীক্ষা অন্তত দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও একাডেমিক সমস্যার বিষয়গুলো ডিনের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। জবাবে অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদ জানান, বর্তমান পরীক্ষার সময়সূচি তার একক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়নি। সব ফ্যাকাল্টি সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে রুটিন চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন বলে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান। ‘একাডেমিক ঘাটতি পূরণ না করে পরীক্ষা কঠিন’ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক সিস্টেম লসসহ বিভিন্ন কারণে তাদের শিক্ষাকার্যক্রমে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় না নিয়ে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়া হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া কঠিন হবে। তাদের মতে, একাডেমিক গ্যাপ পূরণ না করেই পেশাগত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। সাক্ষাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজসহ ঢাবি অধিভুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এসএইচ-২০ ব্যাচের ক্লাস প্রতিনিধি জে কে এম মুবিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা আমাদের একাডেমিক সিস্টেম লসসহ যৌক্তিক সব কারণ সম্মানিত ডিন স্যারের সামনে তুলে ধরেছি। তিনি বিষয়গুলো অনুধাবন করলেও জানিয়েছেন, এটি তাঁর একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।’ তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানদের লিখিত সম্মতিপত্র পাঠানো হলে ডিন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। জে কে এম মুবিন আরও বলেন, ‘আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার ও বিভাগীয় প্রধানরা আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। আমরা আশা করছি, সম্মানিত শিক্ষকরা আমাদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।’ এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ১ নভেম্বর শুরু ১ম ও চূড়ান্ত প্রফ উল্লেখ্য, ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস কোর্সের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য চার পেশাগত লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ও চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা আগামী ১ নভেম্বর শুরু হবে। দ্বিতীয় পেশাগত পরীক্ষা শুরু হবে ২ নভেম্বর এবং তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষা ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

Education Bangla অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি নিয়ে ক্ষোভ, প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তিতেও আপত্তি

  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফি বাড়ানো এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ও সময়সীমা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের দিতে হবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা; মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা। এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ৫০০ এবং মূল সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে মোট ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৮ হাজার ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা; সব মিলিয়ে তাদের দিতে হবে ৮ হাজার ৮০০ টাকা। এর বাইরে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য হবে। প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় বেড়েছে ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নিবন্ধন ফি ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা। মূল সনদ ফি ছিল ৪০০ টাকা। তখন সার্ভিস চার্জ ছিল ১ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন বাবদ মোট ৩ হাজার ৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সে তুলনায় জবির নির্ধারিত ফি প্রায় দ্বিগুণ। ফলে অতিরিক্ত এই ফি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা। প্রফেশনাল শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আপত্তি ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। জবির এক শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করা সমাবর্তনের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। আরেক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচ এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।’ ফি কমানোর সুযোগ নেই: রেজিস্ট্রার এ বিষয়ে জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত সিদ্ধান্ত হওয়ায় বর্তমানে ফি পুনর্বিবেচনা বা কমানোর সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় অনেক বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২ হাজার টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনেও এসব প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিলেন। এবার তাদের বাদ দিলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারত। সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Education Bangla অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগে মাসখানেকেও সার্টিফিকেট পাননি কুবির শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার ঘটনায় প্রায় এক মাস ধরে চেষ্টা করেও তাঁর বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সার্টিফিকেট নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে একটি পাল্টা মেসেজ দেন। ওই মেসেজে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। পরে তাঁর এ আচরণকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়। জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকের মেসেজে শিক্ষার্থীর দেওয়া ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’কে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, শিক্ষার্থীর এমন আচরণকে তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূত মনে করেছেন। বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। মুজিবুর রহমানের গত ১৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে বিভাগীয় প্রধান তাঁর আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে একটি অভিযোগ থাকায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আবেদনে মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগটি কী বিষয়ে এবং কেন তাঁকে সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে লিখিত কারণ জানতে চাইলেও তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, “আমরা কমিটির সময় কিছু বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। কারণ অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। তবে কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব।” ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার সার্টিফিকেটটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আমার মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট হয়ে গেছে, সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে গেছে। তাই আমি বিবিএ ও এমবিএ—দুইটা সার্টিফিকেটই তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমার একটা সার্টিফিকেটও দেননি, একটা সার্টিফিকেটও সাইন করেননি।” তিনি আরও বলেন, “এ কারণে আমার অনেকগুলো সার্কুলার মিস হয়েছে। আমি কোথাও আবেদন করতে পারছি না। এমনকি বিবিএর সার্টিফিকেটটাও পাইনি। এটার জন্য আমি প্রায় এক মাস কুমিল্লায় ছিলাম। রেজিস্ট্রারের কাছে বারবার গেছি, দপ্তর থেকে দপ্তরে গেছি, বিভাগেও কয়েকবার গেছি। এমনকি উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।” সার্টিফিকেট আটকে রাখার কারণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি দাবি করে মুজিবুর রহমান বলেন, “এখন এক মাস শেষ হয়েছে। আসলে আমি এখনও জানি না, এর প্রক্রিয়া কতটুকু। কেন সার্টিফিকেট আটকানো হলো বা আমি সার্টিফিকেটটা কবে পাব—তাঁরা আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি আসলে কিছুই জানি না।” অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, “এ সম্পর্কে তো আমি কিছুই জানি না। কারণ আমিও জানি না এটা কী হচ্ছে। আমি যতটুকু শুনেছি, তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারপর কী হচ্ছে না হচ্ছে, আমি একেবারে অবগত না। আমাকে কেউ ইভেন ডাকেও নাই, কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই।” বিষয়টি নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, “সার্টিফিকেট প্রদান বা বিভাগীয় ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।” এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, “সার্টিফিকেট কেন আটকে রাখছে, বিভাগীয় প্রধানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী এখন যেকোনো সময় সার্টিফিকেট নিতে পারবে।”

Education Bangla অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
তারুণ্যের দীপ্তিতে মুখরিত শেকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপ

নতুন নেতৃত্ব ও তারুণ্যের উদ্দীপনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের (এগ্রিরোভার্স) নতুন ক্রু কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আগামী ছয় মাসের জন্য চারটি দলের রোভার ও গার্ল ইন রোভারদের সমন্বয়ে ৩২ সদস্যের এ কাউন্সিল গঠন করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) সংগঠনটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নবগঠিত কাউন্সিলে সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৩৯তম দলের রোভার সাহিদ সুলতান সবুজ, ৩৫তম দলের রোভার সিফাত মাহমুদ, ৯৯তম দলের গার্ল ইন রোভার সুস্মিতা দাস এবং ৯৯তম ‘খ’ দলের গার্ল ইন রোভার তাসনীম তাবাসসুম প্রভা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন কাউন্সিলের নেতৃত্বে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি নবীন সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতা বিকাশে এ কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে বলে মনে করছেন তারা। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এগ্রিরোভার্স বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃস্বার্থ সেবার মানসিকতা তৈরি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঢাকা জেলা রোভারের আওতাভুক্ত এ গৌরবোজ্জ্বল ইউনিটের পাঁচজন সদস্য ইতোমধ্যে দেশের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

Education Bangla অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: গ্রেপ্তারে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল তিন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেন। সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, হামলায় জড়িতদের অনেকেই চিহ্নিত হলেও হল প্রশাসন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। হামলাকারীদের নাম-পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হলেও মামলায় তাঁদের সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়নি। নাম-পরিচয়সহ মামলা করার দাবি জানানো হলেও প্রশাসন তা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আমরা এখনো কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচিতে যাইনি। আশা করছি, প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে আমরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এর মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’ রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইবতেসাম শান্ত বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে রিপোর্টার্স ইউনিটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং পরবর্তী সময়ে আরও সাংবাদিকদের মারধর ও হুমকির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলায় জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আহত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করতে হবে।’ রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসান বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বারবার বলেছি, দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে আটক করার ব্যবস্থা নিতে। তবে এখন জানতে পেরেছি, প্রশাসন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি জানার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনকে বলতে চাই, সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো টালবাহানা করবেন না। কীভাবে কী করতে হয়, তা আমরা খুব ভালো করেই জানি।’ এর আগে রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে চার সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

Education Bangla অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ১৪ ঘণ্টায়ও হয়নি তদন্ত কমিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সাংবাদিকরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক কর্মসূচি থেকে সরে আসেন। তবে হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে মানববন্ধন চলছিল। এদিকে হামলার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ভিসি স্যার ক্যাম্পাসে নেই। তিনি বিকেলে আসবেন। তারপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’ রোববার রাতের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা, হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল করা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

Education Bangla অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ঢাবির জগন্নাথ হলে আত্মহত্যার চেষ্টা, টিনশেডে পড়ে বেঁচে গেলেন শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী। তবে নিচে থাকা একটি টিনশেডের ওপর পড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম বিদীপ্ত সিক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল জানান, শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজি, সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্টে বড় ধরনের কোনো আঘাত বা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় সারা রাত হাসপাতালেই ছিলাম। ছেলেটির ইসিজি, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে করানো হয়েছে। রিপোর্টে বড় ধরনের কোনো ইনজুরি বা ড্যামেজ আসেনি। এখন সে আশঙ্কামুক্ত এবং ভালো আছে। আজ সকালে ছাত্রনেতাসহ হলের শিক্ষার্থীরা তাকে দেখতে গিয়েছিল। তখন সবার সঙ্গে সে হাসিমুখে কথা বলেছে।’ তবে শিক্ষার্থীর শরীরে ভেতরে কোনো ছোটখাটো আঘাত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন পর আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি। হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘটনার পর ভবনের ওপরের অংশে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। নিচে টিনশেডের ওপর পড়ে যাওয়ার পর বিকট শব্দ শুনে হলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ হিসেবে প্রেমসংক্রান্ত হতাশার কথা জানিয়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষসহ একাধিক সূত্র। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানা যায়নি। শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

Education Bangla অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন শেকৃবির অধ্যাপক ফজলুল করিম

কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় গুণী শিক্ষক সম্মাননা লাভ করতে যাচ্ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মো. ফজলুল করিম।  আগামী ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই শিক্ষাবিদ বর্তমানে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) মাঠ ফসলের কৃষিতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন ড. ফজলুল করিম। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৮৮ সালে ইংল্যান্ডে যান এবং সেখানে সফলভাবে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে ১৯৯০ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটে (বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উদ্ভিদ শারীরিকতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শেকৃবিতে দীর্ঘ ৩১ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করার পর ২০২১ সালে তিনি অবসরে যান। তবে শিক্ষকতা ও গবেষণার প্রতি তাঁর অনুরাগ থামিয়ে রাখেনি অবসর। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিনের দায়িত্বভার গ্রহণ করে এখনো দেশের কৃষিশিক্ষার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তাঁর এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং কৃষি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষক দিবসের এই জাতীয় সম্মাননা দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Education Bangla অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের মধ্যে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে। বর্তমানে আহত সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ ৮ থেকে ১০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে গেলে নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন। পরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরের উপস্থিতিতেই দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন প্রক্টর। পরে হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এ সময় দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম হামলার শিকার হন। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়। অন্য সাংবাদিকরা তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত জানা গেছে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। এ নিয়ে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাকিবুল সেখানে অবস্থান করেন। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে আহসান হাবীব সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তাঁরা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন। ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানের সমালোচনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রক্টরের বক্তব্য ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’ ছাত্রদলের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Education Bangla অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড়, কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত: তদন্ত কমিটি গঠন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানকে থাপ্পড় মেরে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ ছয় দফা দাবিতে প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিভাগের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান ও শহীদ মশিয়ুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামানের কাছে ছয় দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্ত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হকের ছাত্রত্ব বাতিল, তাকে অবিলম্বে হল থেকে বহিষ্কার, আহত শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহন, ঘটনায় জড়িত সব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা। ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১টার মধ্যে তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিভাগের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত জানা গেছে, শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে গোসল করাকে কেন্দ্র করে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের সঙ্গে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হকের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিকেলে ক্যাম্পাসের বাইরে জুয়েল আল ইমরান ও তার কয়েকজন বন্ধু যান। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হক জুয়েলকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ইংরেজি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য, অস্কারসহ আরও ৮-১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে আহত অবস্থায় জুয়েল আল ইমরানকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় তার কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত তানভীর হকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরান। তদন্ত কমিটি গঠন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ থেকে কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে। এদিকে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Education Bangla অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
রাবিতে চালু হলো ‘পেপারলেস এক্সাম’, পরীক্ষা শেষে মিলছে ফল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে চালু হয়েছে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’। এ ব্যবস্থায় খাতা-কলম ও প্রশ্নপত্র ছাড়াই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাচ্ছে ফলাফল। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে এ ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ ব্যবস্থায় টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে সিস্টেমটি তৈরি করেছেন আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সিস্টেমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তারা ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে, সঠিক উত্তর কী এবং তার ব্যাখ্যাও জানার সুযোগ রয়েছে। সিস্টেমটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজেই প্রশ্ন তৈরি করতে এবং একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের কারণে খাতা দেখার সময় কমার পাশাপাশি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে কাগজের ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কাগজবিহীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, নতুন এ পরীক্ষা পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ‘ই-এক্সাম’ তাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। এতে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষা পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী বলেও জানান তিনি। সিস্টেমটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন এবং মূল্যায়নে নির্ভুলতা বৃদ্ধি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আইসিই বিভাগে পদ্ধতিটি চালু করা হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি শিক্ষা।

Education Bangla অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
শাবিপ্রবির হলে হাই ভোল্টেজ, পুড়েছে ফ্যান-লাইট-চার্জার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক শাহপরান হলে হঠাৎ অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে হলের বিভিন্ন কক্ষের ফ্যান, লাইট, মোবাইল চার্জার, মাল্টিপ্লাগসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। হলের ডাইনিংয়ের ওভেনও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ বৈদ্যুতিক লাইনে অতিরিক্ত ভোল্টেজ চলে আসার পর হলের কয়েকটি ব্লকের কক্ষে একে একে ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে যেতে থাকে। সকেটে থাকা মাল্টিপ্লাগ, মোবাইল চার্জার, লাইট ও ফ্যান মুহূর্তের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দ্রুত ত্রুটি মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। শাহপরান হলের এ ব্লকের দ্বিতীয় তলার শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, ‘আনুমানিক ৩টার দিকে আমি শুয়েছিলাম। হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়ার পর প্রায় ২০ মিনিট পর আবার আসে। এরপর আমার ফ্যান অন্যদিনের তুলনায় বেশি গতিতে চলছিল। ফ্যানের গতিনিয়ন্ত্রক চাকা ঘুরিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার টেবিলের লাইট পুড়ে ল্যাপটপের ওপর পড়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রুমের পাশের ওয়াশরুমের লাইট বিকট শব্দে ফুটে যায়। এ ধরনের সমস্যা আশপাশের প্রায় সবার রুমেই হয়েছে। আমাদের এসব ক্ষতিপূরণ কে দেবে?’ কারণ এখনো নিশ্চিত নয় ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘কোন কারণে এমন হয়েছে এখনো বলতে পারছি না। তবে হঠাৎ হয়তো ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যাটা হয়েছে।’ শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ বৈদ্যুতিক লাইনগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। তবে এরকম দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে খুবই দুঃখজনক। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখছি কেন এমনটা হলো।’ ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Education Bangla অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
জাবিপ্রবিতে ৩ নতুন বিভাগ, ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) তিনটি নতুন বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগগুলো হলো—ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে জমা দিলে জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। শনিবার (৩ অক্টোবর) জাবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউজিসির গবেষণা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গবেষণা ফান্ডের ২৫ শতাংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।’ তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠালে শিক্ষার্থীরা মাসিক ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন। জাবিপ্রবিতে খুলছে ৩ নতুন বিভাগ শিল্প ও প্রযুক্তির পরিবর্তিত চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে জাবিপ্রবিতে ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স বিভাগ খোলার বিষয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এসব বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। স্টার্টআপে কর শূন্য শতাংশ তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন ইউজিসি সদস্য। তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ইনোভেশন ফান্ডে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, তরুণ উদ্যোক্তাদের ইনোভেশন বা স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আগে ১৫ শতাংশ কর দিতে হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী তরুণদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ কোর্স চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রথম ধাপে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু করা হবে, যার মধ্যে জাবিপ্রবিও রয়েছে। এ ছাড়া ‘আইসিটি স্কিলস উইথ এআই’, এথিক্স এবং সিভি লেখা ও ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো মৌলিক অন-জব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের মতো সরকারি ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ইউজিসির এই সদস্য।

Education Bangla অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
ঢাকা কলেজের হলে গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে বহিরাগত আটক

ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মোদ্দাদেকুর রহমান নামে এক বহিরাগতকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। আটকের পর শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে কলেজ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ ও ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। ঢাকা কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোদ্দাদেকুর রহমান সিটি কলেজ থেকে বিবিএ এবং বিইউপি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোসলের ভিডিও ধারণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটকের পর ওই শিক্ষার্থী মানসিক ও হরমোনজনিত সমস্যার কথা দাবি করেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ উত্তর ছাত্রাবাসের প্রভোস্ট মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘বহিরাগত একজনকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করে। পরে তারা কলেজ প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। এরপর কলেজ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাঁর অভিভাবককে বিষয়টি অবহিত করে।’ তিনি আরও বলেন, ভিডিও ধারণের বিষয়ে ওই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। প্রভোস্ট জানান, ওই ব্যক্তির অভিভাবক তাঁর মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে নাকি অভিভাবকের কাছে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

Education Bangla অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
বালতি সরানো নিয়ে বিরোধ, যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ

গোসলের বালতি সরানোকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। ঘটনার সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরান। কী ঘটেছিল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার দুপুরে গোসল করতে ওয়াশরুমে গিয়ে একটি বালতি দেখতে পান তিনি। বালতিটি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক ওয়াশরুমের দরজায় বারবার টোকা দেন। পরে বের হলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। জুয়েলের অভিযোগ, এরপর তানভীর তাঁর রুমে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিকেলে তাঁকে ক্যাম্পাসের একটি চায়ের দোকানে ডাকা হয়। সেখানে তানভীর, কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন। জুয়েলের দাবি, সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হঠাৎ তাঁর কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দেন। এতে তিনি টেবিল থেকে পড়ে যান। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই। পরে বন্ধুরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত যবিপ্রবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কানে রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে তিনি সুপারিশ করেছেন। পরীক্ষা সম্পন্ন হলে কানের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযুক্ত তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তাঁর কাপড়ভর্তি বালতি বাইরে রেখে জুয়েল গোসল করতে যান। দরজায় নক করে বিষয়টি জানতে চাইলে জুয়েল তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় দুজনের বন্ধুরা মিলে বসেন। তাঁর দাবি, কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন। তানভীর বলেন, বিষয়টি গুরুতর মনে হওয়ায় পরে জুয়েলকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁর কানে গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে তিনি শনিবার সকালে জানতে পারেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাই একসঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তানভীর জুয়েলকে কানে থাপ্পড় মারেন। পরে তাঁরা জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, সকালে চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, হলের বাইরে আমতলায় বিষয়টি সমাধানের সময় তানভীর জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেন। এতে তাঁর শ্রবণ সমস্যা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো ঘটনা লিখিতভাবে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে সকালে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থীকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

Education Bangla অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
সময় শেষ হওয়ার আগেই মেডিকেল সেন্টার বন্ধ, ববি চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ রাখার অভিযোগে দপ্তরপ্রধান ডা. শাম্মী আক্তার নিপাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মেডিকেল সেন্টার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেডিকেল সেন্টার খোলা রাখা হয়। কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্যের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র অফিসার ডা. শাম্মী আক্তার নিপা বলেন, এর আগেও মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়েছে। তিনি শুধু অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালু রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল সেন্টার কত ঘণ্টা খোলা থাকবে, এ বিষয়ে কোনো অফিস আদেশ ছিল না। এ ছাড়া সেন্টারে জনবল সংকটও রয়েছে।’ কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যেহেতু আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর জবাব দেব।’

Education Bangla অক্টোবর ১, ২০২৬ 0
সৰ্বাধিক পঠিত
বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি এবং কেন?

“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)। কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়? সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়— ১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence) অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত। গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। ২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality) অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত— তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়। অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook) অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।  বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি.  আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation) অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়— প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে। ৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy) অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে— প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন? কারণ— প্রত্যেকটি র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় গ্রুপের ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।  মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

২০২৬ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এবং মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এরপর মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর অধিভুক্ত সব উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

শেকৃবির বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে ড. নূর জাহিদ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. মো. নূর জাহিদ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংযোগ আরও কার্যকর করার ধারাবাহিকতায় তাঁকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিল্প ও পেশাগত ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিভাগের পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ড. মো. নূর জাহিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা। এদিকে, পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ড. নূর জাহিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়রা হক। পৃথক এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ড. জাহিদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ বিভাগের পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, ড. মো. নূর জাহিদ বর্তমানে জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি, বীজ, বায়োটেকনোলজি, কৃষি ইনপুট এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের এমন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি স্কুলে ভর্তি: স্কুলে ভর্তিতে ৬৩ শতাংশই কোটা

সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি। ৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।” অন্যান্য কোটাগুলো নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে— মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫% শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১% সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০% বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২% অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫% এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান। কোটা নিয়ে মতভেদ মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।” নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে মাউশির মহাপরিচালক  বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”

Top week

জাতীয়

লাওসে বাংলাদেশিদের শ্রমিক নিয়োগ ও ভিসা স্থগিত

Education Bangla অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0

অনলাইন জরিপ

আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন দল। আপনি কি মনে করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকারে ব্যবস্থা করা উচিৎ?

×