মাদ্রাসা শিক্ষকদের ইএফটি বেতন এপ্রিল থেকে, সফটওয়্যারের টেন্ডার চলমান

এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে দেওয়ার উদ্যোগ এগিয়েছে। এ লক্ষ্যে মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (মেমিস) সফটওয়্যার তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরির জন্য চুক্তি হতে পারে।

চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলি মডিউল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসাবে সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পেতে পারেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা গত ২ জুন প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় ইএফটি, ইএফটি ইন্টিগ্রেশন গেটওয়ে (এপিআই, আইবিএএস++ এনআইডি ও বিটিআরসি), মাদ্রাসা পে বিল, অনলাইন এমপিও ইনফরমেশন কারেকশন, শিক্ষক ট্রান্সফার অটোমেশনসহ মোট ১৮টি মডিউল তৈরি করা হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তির লক্ষ্য

সংশ্লিষ্টরা জানান, সফটওয়্যারের টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার কার্যক্রম চলছে। আগামী ৭ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে টেন্ডার জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে।

এরপর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ৪ থেকে ৭টি প্রতিষ্ঠানের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে। পরবর্তী সময়ে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মৌখিক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর বিষয়টি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হবে।

এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৭ সালের শুরুতে নির্বাচিত কনসালটেন্সি ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান মেমিস সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করতে পারে।

তিন মাসে ইএফটি ও বদলি মডিউল

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি সম্পাদনের তিন মাসের মধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, এমপিও কারেকশন, বিল সাবমিশন, বিবিধ ও এপিআই, ইমপ্লিমেন্টেশন এবং শিক্ষক বদলি-সংক্রান্ত মডিউল চালু করার কথা রয়েছে।

আর চুক্তির ছয় মাসের মধ্যে মেমিসের ১৮টি মডিউল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিজস্ব আইটি সেলের মাধ্যমে সফটওয়্যারটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার। তাঁদের অনেকের এমপিও সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। কারও কারও সনদ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর নামের বানানে ভুল থাকায় সেগুলো সংশোধনের কার্যক্রম চলছে। কারণ ইএফটি পদ্ধতিতে একজন শিক্ষক বা কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে নামের বানানসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যা বলছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ফিরোজ আল মাহমুদ বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের ম্যানুয়ালি বদলির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইএফটি কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মো. আবুল কালাম তালুকদার (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন শাখা) বলেন, মেমিস সফটওয়্যারের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে চুক্তির দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে ইএফটি ও শিক্ষক বদলির মডিউল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আশা করছি ইএফটি কার্যক্রম আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে চালু হতে পারে।’

মন্তব্য করুন

নীতিমালার জটিলতায় এমপিওভুক্তি থেকে বাদ ৬০৯ মাদ্রাসা, শিক্ষকদের হতাশা বেড়েছে

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ১ হাজার ৮৯টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে শেষ মুহূর্তে নীতিমালার জটিলতায় এর মধ্যে ৬০৯টি মাদ্রাসা বাদ পড়তে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের নির্দেশে নতুন (২০২৫) নীতিমালার পরিবর্তে পুরোনো (২০১৮) এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করতে হওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এমপিওভুক্তির স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে অনেক প্রতিষ্ঠানই তালিকায় ঠাঁই পাচ্ছে না। হতাশা আর নিরাশায় ভর করেছে বাদ পড়া মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মন।

জমি-সংক্রান্ত শর্তেই বাদ পড়ছে অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান

৩ নভেম্বর সরকার শর্তসাপেক্ষে ১ হাজার ৮৯টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্তির অনুমোদন দেয়। কিন্তু ২০১৮ সালের নীতিমালায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জন্য জমির পরিমাণ নির্ধারিত—মহানগরে ১০ শতক, পৌর এলাকায় ২০ শতক ও মফস্বলে ৩৩ শতক। অন্যদিকে ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালায় এই শর্ত শিথিল করে যথাক্রমে ৮, ১২ ও ২৫ শতক করা হয়েছিল।
পুরোনো নীতিমালা প্রয়োগ করায় জমির শর্ত পূরণ না করতে পারায় বাদ পড়ছে ৬০৯টি মাদ্রাসা। ফলে এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকছে মাত্র ৪৮০টি।

নীতিমালা বদলের কারণ—ব্যয় সংকোচন

সরকারি হিসাব বলছে, সব ১ হাজার ৮৯টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করতে গেলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় মনে করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ব্যয় বহন সম্ভব নয়। তাই ব্যয় কমাতে পুরোনো নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে, যাতে তালিকা নেমে আসে ৪৮০-তে। এতে সরকারের প্রায় ৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এমপিওভুক্ত একটি মাদ্রাসায় ছয়টি পদ থাকে—প্রধান শিক্ষক, তিনজন সহকারী শিক্ষক, একজন কারি/নূরানি শিক্ষক এবং একজন অফিস সহায়ক। এ হিসেবে পূর্ণ তালিকায় এমপিওভুক্ত হলে নতুন নিয়োগ হতো ৬ হাজার ৫৩৪ জন জনবল। তাদের বেতন-ভাতাই বড় অঙ্কের বাড়তি ব্যয় তৈরি করত।

মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই মতবিরোধ

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টা দপ্তর থেকেই অনুমোদিত হয়েছে। আমরা কেবল নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।”
তবে মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তাদের মত, নতুন নীতিমালা জারি হওয়ার পর পুরোনো নীতিমালা প্রয়োগের নজির নেই। এতে আইনি জটিলতার আশঙ্কাও রয়েছে—কেউ চাইলে আদালতে যেতে পারে, আর এতে পুরো প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষকদের হতাশা ও আশঙ্কা

বর্তমানে ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সামান্য সরকারি অনুদান পায়—প্রধান শিক্ষকের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা, সহকারী শিক্ষকের জন্য ৩ হাজার টাকা। আরও ৫ হাজার ৯৩২টি মাদ্রাসা কোনো ধরনের সরকারি সহায়তাই পায় না।

এ অবস্থায় নীলফামারীর জলঢাকা থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন,
“প্রথমবার এমপিওভুক্তির ঘোষণা এলে আমাদের আশা বেড়েছিল। কিন্তু কঠোর শর্ত নতুন করে ফাঁদে ফেলল। সরকার বদল হলে আবার টালবাহানা শুরু হবে—শেষ পর্যন্ত হয়তো এমপিও হবেই না।”

স্বতন্ত্র ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মুখলেছুর রহমান জানান,
“সরকার আমাদের দাবি মেনে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এজন্য কৃতজ্ঞ। তবে নতুন নীতিমালায় হলে আরও ভালো হতো। যেহেতু পুরোনো নীতিমালা অনুসরণ হবে, আমরা তা মেনে নিচ্ছি—শর্ত হলো, বাদ পড়া মাদ্রাসাগুলোকে যেন পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হয়।”

দীর্ঘ আন্দোলনের পর শেষ মুহূর্তে নতুন জট

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা দুই যুগ ধরে এমপিও ও জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। গত কয়েক বছরে আন্দোলন নতুন করে ঘনীভূত হয়, বিশেষত গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারির শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর সরকার নতুন নীতিমালা জারি করে।
তবুও বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে ২২ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকে। এর মধ্যেই আসে ৩ নভেম্বরের অনুমোদনের ঘোষণা—যা আবার জমির শর্তে আটকে গেল।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাজনৈতিক স্বার্থ, সতর্ক করেছেন উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের কারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলপ্রাপ্ত হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও দেশ পরিচালনায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার বিশেষ অবদান রয়েছে। তবে অতীতে মাদ্রাসায় জঙ্গি কার্যক্রম এবং শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার মতো অঘটন ঘটেছে।”

বুধবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়াও বিজ্ঞান ও আধুনিক বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।

চৌধুরী রফিকুল আবরার জানান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ ও জমি দ্রুত সমাধান করা হবে, শিক্ষক সংকট দূর করা হবে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ধর্ম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন।

মন্তব্য করুন

আজ শেষ দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধন, এরপর দিতে হবে বিলম্ব ফি

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনের সাধারণ সময় আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শেষ হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে শুরু হওয়া এ নিবন্ধন কার্যক্রমে সাধারণ সময়ের মধ্যে আজ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিলম্ব ফিতে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম ও বিলম্ব ফি প্রদান করে বর্ধিত সময়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এ বর্ধিত সময় শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তবে ১৩ সেপ্টেম্বরের পর কোনো পরীক্ষার্থীর নিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

যোগ্য কেউ যেন নিবন্ধন থেকে বাদ না পড়ে

দেশের সব দাওরায়ে হাদিস মাদরাসার পরিচালক, শিক্ষাসচিব ও ব্যবস্থাপকদের যোগ্য কোনো পরীক্ষার্থী যেন নিবন্ধন থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আল-হাইআতুল উলার অধীন সব কওমি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ বোর্ডের আওতাভুক্ত মাদরাসাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনা দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সুখবর

বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ছাড়ের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি হতে পারে। জিও জারি হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট শাখা) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মঙ্গলবার বলেন, বেতন সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারই এ অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে একই দিন জিও জারি করা সম্ভব হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার আশা রয়েছে।

মোহাম্মদ মাহমুদুল হক আরও বলেন, এবার বেতন প্রদানে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে, হার্ডকপিতে নেওয়া আবেদন ছিল তথ্য সংগ্রহের জন্য

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে আরও ৪–৫ মাস লাগতে পারে

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় এ কার্যক্রমে আরও চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। সফটওয়্যার তৈরি হতে আরও চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন।’

সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ম্যানুয়ালি আবেদন নেওয়া হলো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘হার্ড কপিতে আবেদন নেওয়া হয়েছে মূলত শিক্ষকদের তথ্য নেওয়ার জন্য। সফটওয়্যারের মাধ্যমেই বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রায় ৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। গত ৩০ আগস্ট থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৬’-এর বিধি ৩.১৯ অনুযায়ী জনস্বার্থে বদলির লক্ষ্যে শূন্যপদের বিপরীতে ম্যানুয়াল (হার্ডকপি) আবেদন নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শূন্যপদের তালিকা থেকে পছন্দের মাদ্রাসা নির্বাচন করে নির্ধারিত ছকে আবেদন করতে বলা হয়। আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারী ও স্পাউসের জাতীয় পরিচয়পত্র, বর্তমান পদের প্রথম ও শেষ এমপিও কপি, বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানপত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্পাউসের কর্মস্থলের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করতে বলা হয়।

আবেদনে যেসব তথ্য দিতে হয়েছে

বদলির আবেদনে আবেদনকারীর নাম ও ইনডেক্স নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা, বিষয় ও পদের নাম, যোগদানের তারিখ, বর্তমান কর্মস্থলের জেলা-উপজেলা, মাদ্রাসার নাম ও এমপিও নম্বর উল্লেখ করতে বলা হয়।

এ ছাড়া বদলি হতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রমও দিতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলার নামসহ সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করার সুযোগ রাখা হয়।

আবেদনে আরও দিতে হয়েছে স্পাউসের কর্মস্থলের তথ্য, বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্থায়ী ঠিকানার দূরত্ব এবং প্রয়োজনীয় মন্তব্য।

ফলে ম্যানুয়ালি আবেদন সম্পন্ন করলেও এখন বদলির মূল কার্যক্রম সফটওয়্যার তৈরির ওপর নির্ভর করছে। সফটওয়্যার প্রস্তুত ও চালু না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম এগোচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসা অনুমোদন, বাড়ছে স্বীকৃতি ও এমপিও সুযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে বেসরকারি মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান অনুমোদন ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি। শর্ত পূরণে ব্যর্থ মাদ্রাসাগুলোকেও এখন শর্ত শিথিল করে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যেসব মাদ্রাসার অনুমোদন বাতিল বা স্থগিত ছিল, তাদেরও নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে—ফলে নতুন ও ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোও এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

নতুন নীতিমালায় অনুমোদনের সুযোগ

সম্প্রতি ‘বেসরকারি মাদ্রাসা (দাখিল ও আলিম) স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা–২০২৫’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নীতিমালার আওতায় এমন মাদ্রাসাগুলোও অনুমোদন পাচ্ছে, যারা আগে শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাদ পড়েছিল। এমনকি ভাড়াবাড়িতে পরিচালিত মাদ্রাসারাও এখন অনুমোদন পাচ্ছে।

পুরনো আদেশে নতুন স্বাক্ষর

সূত্র জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের আটকে থাকা অনুমোদনের আদেশগুলো নতুন করে জারি করা হচ্ছে। এসব আদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ছবি সংবলিত প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু অফিস আদেশে এমন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে, যিনি বর্তমানে ঐ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত নন।

শর্ত শিথিল করে স্বীকৃতি

গত ৬ অক্টোবরের একাধিক আদেশে দেখা যায়, কয়েকটি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসাকে শর্ত শিথিল করে অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লার দেবিদ্বারের ফুলতলী দাখিল মাদ্রাসার অখণ্ড জমি ৬০ শতাংশের পরিবর্তে ৫৪ শতাংশ থাকা সত্ত্বেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ঝাউবোনা মহিলা মাদ্রাসাকেও একইভাবে ছাড় দেওয়া হয়।

এছাড়া পাবনা, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ভোলার কয়েকটি মাদ্রাসার বাতিল আদেশ প্রত্যাহার করে নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয়ের

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব এসএম মাসুদুল হক বলেন, “এই অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কারণে সময় লেগেছে। আগের কর্মকর্তা একেএম লুৎফর রহমানের স্বাক্ষরে সেই সময়ের অনুমোদনগুলো এখন কার্যকর হয়েছে।”

ভাড়াবাড়ির মাদ্রাসার জন্যও সুযোগ

১৯৯৭ সালের পুরনো নীতিমালার সংশোধিত সংস্করণে এখন যুক্ত হয়েছে ভাড়াবাড়িতে মাদ্রাসা পরিচালনার অনুমোদন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক বলেন, “অনেক বেসরকারি মাদ্রাসা আগে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে পরীক্ষা দিত। এখন তারা নিজেদের নামে পরীক্ষা দিতে পারবে। সরকারকে কোনো বাড়তি খরচও বহন করতে হবে না।”

এমপিও নীতিমালায় ছাড়

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—

  • ইবতেদায়ি মাদ্রাসার জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

  • ছাত্রসংখ্যার শর্ত ১৫০ জন থেকে কমিয়ে ১২৫ জন করা হয়েছে।

এসএম মাসুদুল হক জানান, “দাখিল, আলিম ও ফাজিল স্তরের এমপিও নীতিমালা সংশোধন ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।”

মন্তব্য করুন
×