এগ্রিরোভার্সের নতুন নেতৃত্বে সিফাত, সাহিদ, সুস্মিতা ও প্রভা

তারুণ্যের দীপ্তিতে মুখরিত শেকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপ

নতুন নেতৃত্ব ও তারুণ্যের উদ্দীপনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের (এগ্রিরোভার্স) নতুন ক্রু কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আগামী ছয় মাসের জন্য চারটি দলের রোভার ও গার্ল ইন রোভারদের সমন্বয়ে ৩২ সদস্যের এ কাউন্সিল গঠন করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সংগঠনটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কাউন্সিলে সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৩৯তম দলের রোভার সাহিদ সুলতান সবুজ, ৩৫তম দলের রোভার সিফাত মাহমুদ, ৯৯তম দলের গার্ল ইন রোভার সুস্মিতা দাস এবং ৯৯তম ‘খ’ দলের গার্ল ইন রোভার তাসনীম তাবাসসুম প্রভা।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন কাউন্সিলের নেতৃত্বে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি নবীন সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতা বিকাশে এ কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এগ্রিরোভার্স বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃস্বার্থ সেবার মানসিকতা তৈরি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকা জেলা রোভারের আওতাভুক্ত এ গৌরবোজ্জ্বল ইউনিটের পাঁচজন সদস্য ইতোমধ্যে দেশের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

মন্তব্য করুন

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, ৩ দফা দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।

৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফের অভিযোগ

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, ভেন্যু ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার উপাচার্যের।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’

তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ফলে এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পদোন্নতির রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ

এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য বিষয়টিতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে তা সংশোধন করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশাসনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় নিয়ম ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

তিন দফা দাবি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। দাবিগুলো হলো—

১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন।

২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

শিক্ষা ছুটি শেষে কাজে না ফেরায় শেকৃবির ৬ শিক্ষক স্থায়ী বহিষ্কার

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছয় শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন—মৃত্তিকা বিজ্ঞান অনুষদের সাইফুল্লাহ শাহরিয়ার, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের মারজানা ইয়াসমিন, কৃষি রসায়ন বিভাগের মো. মেফতাউল ইসলাম সৈকত, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মো. জাভেদ আজাদ, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মোছা. মাহমুদা পারভীন এবং মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের কে. বি. এম. সাইফুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়। পরে সভায় তাঁদের স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। শিগগিরই সেগুলোর লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশ হবে।’

মন্তব্য করুন

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জবির ২৯ শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে মনোনীত

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ২৯ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য পৃথক তালিকায় এসব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালের জন্য সাতজন করে, ২০২৪ সালের জন্য সাতজন এবং ২০২৫ সালের জন্য আটজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীত শিক্ষার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে।

যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন ফরম অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত ফরম নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। পূরণ করা ফরমের দুই সেট হার্ডকপি জমা দিতে হবে।

এর সঙ্গে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট বা গ্রেডশিটের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, জমা দেওয়া সব কাগজপত্র যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক অথবা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এসব কাগজপত্রের হার্ডকপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দিতে হবে।

হার্ডকপির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সফটকপি পিডিএফ আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। এ জন্য darainju@gmail.com ঠিকানা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

২০২২ সালের মনোনীতরা

সাদ্দাম হোসাইন, রুমানা সিদ্দিকা মারুফা, আয়েশা আক্তার, রোকেয়া পারভিন, মো. বিল্লাল হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রোমা ও মুজতানিবা জাহান মাশরাকা।

২০২৩ সালের মনোনীতরা

মো. আনোয়ার শাহ, সারমিন আক্তার, সাদিয়া জান্নাত মিতু, জয় পাল, মোছা. শুমোনা আক্তার, তানজুম আহমেদ নূদী ও তাসনিমা আক্তার।

২০২৪ সালের মনোনীতরা

আরিফুল ইসলাম, আসমা আক্তার, মুহাম্মদ গোলাম রোহমান শাফি, সাদিয়া খানম, রাগিব শাহরিয়ার রাফি, জান্নাতুন নাহের উর্মি ও মো. মুহিব আহসান চৌধুরী।

২০২৫ সালের মনোনীতরা

সোমাইয়া তাবাসসুম, ফারিয়া আক্তার ইভা, শানজিদা সারমিন মৌরি, দীপান্বিতা বৈদ্য, আনিকা তাবাসসুম অন্তরা, আভা রহমান, বিদিশা অধিকারী ও মোছা. ফারিয়া ইয়াসমিন।

মন্তব্য করুন

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের মধ্যে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে। বর্তমানে আহত সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ ৮ থেকে ১০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে গেলে নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন।

পরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরের উপস্থিতিতেই দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন প্রক্টর। পরে হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এ সময় দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম হামলার শিকার হন। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়।

অন্য সাংবাদিকরা তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

জানা গেছে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। এ নিয়ে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাকিবুল সেখানে অবস্থান করেন। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে আহসান হাবীব সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তাঁরা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানের সমালোচনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রক্টরের বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

ছাত্রদলের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুই বিষয়ে ভর্তি, থাকছে ৪০টি করে আসন

নতুন দুটি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্য দিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও দুটি বিষয়। নতুন বিষয়গুলোর পাঠদান পরিচালনার জন্য অ্যাকাডেমিক ভবন প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নতুন চালু হতে যাওয়া ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়েও ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

তিনি বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আধুনিক সুবিধা যুক্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসে

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন শহরের বাইপাস সড়কসংলগ্ন বরুনকান্দি এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শহরের যানজট ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে কম্পিউটার ল্যাব, ওয়াই-ফাই, সাধারণ লাইব্রেরি ও ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ডাক বিভাগের কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় পুরো দেশের সম্পদ’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নওগাঁর  নয়, এটি পুরো দেশের সম্পদ। নওগাঁর সংসদ সদস্য, সুধীজন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।তিনি আরও বলেন, উত্তরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে নওগাঁকে দেশ-বিদেশে নতুনভাবে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

এনএসটি ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিলে’, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রশ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিরুদ্ধে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিভাগটির দাবি, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এনএসটি ফেলোশিপের আওতায় প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের এমএস/এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গবেষণার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিন বছরে ফেলোশিপ পেয়েছেন ৭২ শিক্ষার্থী

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিন বছরে মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫৪ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ পেয়েছেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা করে বিভাগে জমা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ বিভাগে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয়’

বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’ বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ব্যাচের অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে।

তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ফেলোশিপ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় এই টাকা খুবই কম। তারপরও যদি গবেষণার জন্য পাওয়া টাকা বিভাগের ফান্ডে দিতে হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। গবেষণার টাকা কল্যাণ তহবিলে খরচ করলে বিভাগ গবেষণায় আরও পিছিয়ে পড়বে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় এমনিতেই দিন দিন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এভাবে গবেষণার টাকা অন্য ফান্ডে ব্যয় করলে দেখা যাবে, শিক্ষার্থীরা আর এদিকে আগ্রহই দেখাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা উচিত। গবেষণার জন্য পাওয়া ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা কল্যাণ তহবিলে দেওয়া অযৌক্তিক।’

‘গবেষণার যন্ত্রপাতির খরচ মেটাতেও অর্থ লাগে’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। অঙ্গীকারনামা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসবের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিভাগীয় বরাদ্দ দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে নষ্ট হলে সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘ল্যাবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনেক সময় অন্য ল্যাবেও কাজ করাতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। একটি জিনোম বিশ্লেষণ বা ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এসব কাজে শিক্ষকেরাও অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ল্যাবের খরচ মেটে না। শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকাটা কল্যাণ তহবিলে যোগ হয় এবং ওই অর্থ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আমিও প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে এ তহবিলে টাকা দিই।’

তবে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফেলোশিপের অর্থ থেকে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগের আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বিভাগের এখতিয়ার।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে চাপ দেওয়া হয় না; বরং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থ দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে নেওয়া হয় না ফেলোশিপের অর্থ

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিভাগ উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা এনএসটি ফেলোশিপ পেয়ে থাকেন। তবে বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী নাহিদা বেগম জানিয়েছেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে বিভাগ কোনো অংশ নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। তারা পুরো অর্থই গবেষণার কাজে ব্যয় করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকও গবেষণার বিভিন্ন ব্যয় বহন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের বিভাগে আলাদা একটি তহবিল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ দেন এবং সেই অর্থ আমরা আনুপাতিকভাবে প্রতি ব্যাচের জন্যই ব্যয় করি।’

ফলে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের অর্থের একটি অংশ বিভাগীয় ‘কল্যাণ তহবিলে’ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দাবি, অর্থটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও গবেষণার প্রয়োজনেই ব্যয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
×