নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুই বিষয়ে ভর্তি, থাকছে ৪০টি করে আসন

নতুন দুটি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্য দিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও দুটি বিষয়। নতুন বিষয়গুলোর পাঠদান পরিচালনার জন্য অ্যাকাডেমিক ভবন প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নতুন চালু হতে যাওয়া ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়েও ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

তিনি বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আধুনিক সুবিধা যুক্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসে

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন শহরের বাইপাস সড়কসংলগ্ন বরুনকান্দি এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শহরের যানজট ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে কম্পিউটার ল্যাব, ওয়াই-ফাই, সাধারণ লাইব্রেরি ও ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ডাক বিভাগের কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় পুরো দেশের সম্পদ’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নওগাঁর  নয়, এটি পুরো দেশের সম্পদ। নওগাঁর সংসদ সদস্য, সুধীজন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।তিনি আরও বলেন, উত্তরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে নওগাঁকে দেশ-বিদেশে নতুনভাবে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিয়ামত এলাহি

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন, ২০১৩-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার বছরের জন্য নিয়োগ

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে—পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবির বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে ড. নূর জাহিদ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. মো. নূর জাহিদ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংযোগ আরও কার্যকর করার ধারাবাহিকতায় তাঁকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিল্প ও পেশাগত ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিভাগের পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ড. মো. নূর জাহিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা।
এদিকে, পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ড. নূর জাহিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়রা হক।
পৃথক এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ড. জাহিদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ বিভাগের পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ড. মো. নূর জাহিদ বর্তমানে জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি, বীজ, বায়োটেকনোলজি, কৃষি ইনপুট এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের এমন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

জাবিতে শিক্ষকদের মূল্যায়নে জাকসুর ওয়েবসাইট, এখনই ব্যবহার করতে পারবেন না শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকদের পাঠদান, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা ও একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নের লক্ষ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। তবে ওয়েবসাইটটি আপাতত শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গঠিত কমিটির কাছে এটি হস্তান্তর করবে জাকসু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাকসু ভবনে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি গ্রহণ করলেও এটি এখনো কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাকসু নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব—আমরা সেটিই দেখিয়ে দিতে চাই। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রস্তাবনায় বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

জাকসু জানিয়েছে, ওয়েবসাইটে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী কেবল নিজের বিভাগের এবং যে শিক্ষকের কোর্স করেছেন, সেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে সংশ্লিষ্ট কোর্স না করা শিক্ষক কিংবা বিভাগের বাইরের কোনো শিক্ষককে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।

ওয়েবসাইটটির ডেভেলপার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সালমান আহমেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া অফিসিয়াল ই-মেইল ছাড়া কেউ সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের তথ্যের গোপনীয়তা এবং মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

প্রশাসনের দায়িত্ব, বললেন উপাচার্য

জাকসুর উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নসহ জাকসুর কয়েকটি দাবির বিষয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর এখতিয়ার জাকসুর নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

তবে জাকসুর তৈরি ওয়েবসাইটটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই। তারা একটি নমুনা তৈরি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এটি বিশ্লেষণ করে কীভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং এতে কোনো সংকট বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করতে পারবে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ অবশ্যই মূল্য সংযোজন করবে।’

ঢাবিতেও চালু হয়েছে শিক্ষক মূল্যায়ন

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে duevaluation.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ওয়েব অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ৯৮ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স বিতরণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের উদ্যোগে লেভেল-৫, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

‘সার্জিক্যাল অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্যাল বক্স ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক এই আয়োজনের প্রথম পর্ব সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় পর্ব বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে অত্যাবশ্যকীয় এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির অ্যাগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের হাতে বক্স তুলে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "এই সার্জিক্যাল কিট বক্স গ্রহণের মাধ্যমে তোমরা বিশ্বজুড়ে প্রাণিচিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে। এই অনুষদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুদৃষ্টি রয়েছে। আমরা ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছি। পাশাপাশি তোমাদের টিএ/ডিএ (TA/DA) দাবির প্রেক্ষিতেও একটি নীতিমালা করা হয়েছে, যা আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় পাস হবে বলে আশা করছি। এটি পাস হলে তহবিলের অভাব দেখিয়ে কেউ আর তোমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।"

শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে আমরা একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (যেমন- চাইনিজ বা জাপানিজ ভাষা) চালুর বিষয়ে কাজ করছি। এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক মানের করে তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী (লিডারশিপ) বিকাশ করা।"

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

জবির নতুন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইউট্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী দুই বছর সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী দুই বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

মন্তব্য করুন
×