‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগে মাসখানেকেও সার্টিফিকেট পাননি কুবির শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার ঘটনায় প্রায় এক মাস ধরে চেষ্টা করেও তাঁর বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সার্টিফিকেট নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে একটি পাল্টা মেসেজ দেন। ওই মেসেজে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। পরে তাঁর এ আচরণকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকের মেসেজে শিক্ষার্থীর দেওয়া ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’কে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, শিক্ষার্থীর এমন আচরণকে তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূত মনে করেছেন। বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুজিবুর রহমানের গত ১৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে বিভাগীয় প্রধান তাঁর আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে একটি অভিযোগ থাকায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আবেদনে মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগটি কী বিষয়ে এবং কেন তাঁকে সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে লিখিত কারণ জানতে চাইলেও তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, “আমরা কমিটির সময় কিছু বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। কারণ অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। তবে কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার সার্টিফিকেটটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আমার মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট হয়ে গেছে, সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে গেছে। তাই আমি বিবিএ ও এমবিএ—দুইটা সার্টিফিকেটই তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমার একটা সার্টিফিকেটও দেননি, একটা সার্টিফিকেটও সাইন করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “এ কারণে আমার অনেকগুলো সার্কুলার মিস হয়েছে। আমি কোথাও আবেদন করতে পারছি না। এমনকি বিবিএর সার্টিফিকেটটাও পাইনি। এটার জন্য আমি প্রায় এক মাস কুমিল্লায় ছিলাম। রেজিস্ট্রারের কাছে বারবার গেছি, দপ্তর থেকে দপ্তরে গেছি, বিভাগেও কয়েকবার গেছি। এমনকি উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।”

সার্টিফিকেট আটকে রাখার কারণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি দাবি করে মুজিবুর রহমান বলেন, “এখন এক মাস শেষ হয়েছে। আসলে আমি এখনও জানি না, এর প্রক্রিয়া কতটুকু। কেন সার্টিফিকেট আটকানো হলো বা আমি সার্টিফিকেটটা কবে পাব—তাঁরা আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি আসলে কিছুই জানি না।”

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, “এ সম্পর্কে তো আমি কিছুই জানি না। কারণ আমিও জানি না এটা কী হচ্ছে। আমি যতটুকু শুনেছি, তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারপর কী হচ্ছে না হচ্ছে, আমি একেবারে অবগত না। আমাকে কেউ ইভেন ডাকেও নাই, কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই।”

বিষয়টি নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, “সার্টিফিকেট প্রদান বা বিভাগীয় ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, “সার্টিফিকেট কেন আটকে রাখছে, বিভাগীয় প্রধানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী এখন যেকোনো সময় সার্টিফিকেট নিতে পারবে।”

মন্তব্য করুন

এগ্রিরোভার্সের নতুন নেতৃত্বে সিফাত, সাহিদ, সুস্মিতা ও প্রভা

তারুণ্যের দীপ্তিতে মুখরিত শেকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপ

নতুন নেতৃত্ব ও তারুণ্যের উদ্দীপনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের (এগ্রিরোভার্স) নতুন ক্রু কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আগামী ছয় মাসের জন্য চারটি দলের রোভার ও গার্ল ইন রোভারদের সমন্বয়ে ৩২ সদস্যের এ কাউন্সিল গঠন করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সংগঠনটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কাউন্সিলে সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৩৯তম দলের রোভার সাহিদ সুলতান সবুজ, ৩৫তম দলের রোভার সিফাত মাহমুদ, ৯৯তম দলের গার্ল ইন রোভার সুস্মিতা দাস এবং ৯৯তম ‘খ’ দলের গার্ল ইন রোভার তাসনীম তাবাসসুম প্রভা।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন কাউন্সিলের নেতৃত্বে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি নবীন সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতা বিকাশে এ কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এগ্রিরোভার্স বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃস্বার্থ সেবার মানসিকতা তৈরি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকা জেলা রোভারের আওতাভুক্ত এ গৌরবোজ্জ্বল ইউনিটের পাঁচজন সদস্য ইতোমধ্যে দেশের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

মন্তব্য করুন

জাবির হলে সিগারেট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ, দোকান বন্ধের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের অধীন ‘হাসান টি স্টোরে’ সিগারেট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে অবগত না করেই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) শরীফুল ইসলামের চাপের মুখে দোকান বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকানদার হাসান।

তবে দোকান বন্ধের বিষয়টি আগে জানতেন না বলে জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।

দোকানদার হাসান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে হলের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ তার দোকানে এসে সিগারেট আছে কি না জানতে চান। দোকানে সিগারেট না থাকায় তিনি ‘সিগারেট নেই’ বলে জানান। এ নিয়ে বায়েজিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

হাসান বলেন, ‘আমি বলেছি সিগারেট নেই। সিগারেট বিক্রি করি না—এ কথা বলিনি। বিষয়টি হয়তো বায়েজিদ হল সংসদের জিএসকে জানান। পরে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহির স্যার আমাকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর একজন গার্ড এসে জানান, হল থেকে দোকান বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

তবে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের আগে হল প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘আমি হাসান ভাইকে দুইবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন আমার এক বন্ধুও সঙ্গে ছিল। পরে হলের জিএসসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। গার্ডদেরও জানিয়েছি। তারা বলেছে, আপাতত দোকান বন্ধ থাকুক।’

দোকান বন্ধের বিষয়ে হল সংসদের জিএস শরীফুল ইসলাম বলেন, জিনিসপত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হলের সবাই অবগত। আপাতত দোকানটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝামেলা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে। হল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। সবাই বসে আলোচনা করে আগামীকালের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতাম না। যার সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে, সেই শিক্ষার্থী ও দোকানদার—কেউই আমাকে আগে কিছু জানায়নি। দু’পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি ফয়সালা করব।’

মন্তব্য করুন

ঢাকা কলেজের হলে গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে বহিরাগত আটক

ঢাকা কলেজের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মোদ্দাদেকুর রহমান নামে এক বহিরাগতকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। আটকের পর শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করে কলেজ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ ও ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

ঢাকা কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোদ্দাদেকুর রহমান সিটি কলেজ থেকে বিবিএ এবং বিইউপি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোসলের ভিডিও ধারণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটকের পর ওই শিক্ষার্থী মানসিক ও হরমোনজনিত সমস্যার কথা দাবি করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ উত্তর ছাত্রাবাসের প্রভোস্ট মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘বহিরাগত একজনকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের গোসলের ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করে। পরে তারা কলেজ প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়। এরপর কলেজ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তাঁর অভিভাবককে বিষয়টি অবহিত করে।’

তিনি আরও বলেন, ভিডিও ধারণের বিষয়ে ওই ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

প্রভোস্ট জানান, ওই ব্যক্তির অভিভাবক তাঁর মানসিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে নাকি অভিভাবকের কাছে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, তিন দফা দাবি

প্রস্তাবিত ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগসহ তিন দফা দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. মহবুবুজ্জামান একাডেমিক ভবনের নিচে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এএসভিএম অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, প্রস্তাবিত ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দিতে হবে, প্রানী চিকিৎসা খাতে ভেটেরিনারিয়ান ও ডিপ্লোমাধারীদের দায়িত্ব ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা রাখতে হবে, এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় চারজন করে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি করে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে এবং এসব পদে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী মিনহাজ আহমেদ নাইম বলেন, ‘এলডিডিপি (LDDP) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক ভেটেরিনারিয়ান বেকারত্বের মুখে পড়েছেন। অথচ ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ডিপ্লোমাধারী ও ভেটেরিনারিয়ানদের মধ্যে দায়িত্ব ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন চিকিৎসক দিয়ে উপজেলা হাসপাতাল পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে ইউনিয়ন পর্যায়েও এ সেবা সম্প্রসারণ করা উচিত।

মন্তব্য করুন

চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আশা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চুয়েট এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বিত উদ্যোগে সংকট নিরসনে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)  উপাচার্য বলেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ তাঁর সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাব দিচ্ছেন।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় তিনি অনলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসকে অস্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

চুয়েটের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনও। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সংগঠনটি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আলোচনা ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, চুয়েটকে একটি পরিবারের মতো বিবেচনা করে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, চলমান উদ্যোগ সফল হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটে স্থবির হয়ে পড়া একাডেমিক কার্যক্রম ও পাঠদান পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে, চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, শিক্ষার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও একাডেমিক কার্যক্রমের উপযোগী রাখতে তাঁরা সবসময় কাজ করে আসছেন। নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

 ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, ‘পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর কথাও বলেছি। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসেননি।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনা শুরু হলে সমস্যার সমাধান হবে এবং চুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ আবারও স্বাভাবিক, সুশৃঙ্খল ও একাডেমিকভাবে অনুকূল হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন
×