একই স্কুল-কলেজ পেরিয়ে একই বিভাগে রাবিতে জমজ দুই ভাই

শৈশব থেকে একসঙ্গে পথচলা। একই স্কুল, একই কলেজ—শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই পাশাপাশি ছিলেন শেরপুরের জমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি। এবার সেই পথচলা এসে পৌঁছেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই নয়, দুজনই সুযোগ পেয়েছেন একই বিভাগে। আবাসিক হলও পেয়েছেন একই। বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে মতিহার হলে থাকছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলার মোবারকপুরের এই দুই ভাইয়ের শিক্ষাজীবনের শুরু শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমিতে। সেখানে মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে এসএসসি পরীক্ষায় দুজনই জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

এরপরও তাদের পথ আলাদা হয়নি। দুজনই ভর্তি হন শেরপুর সরকারি কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ধরে রাখেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা। শাকিবুল হাসান জনি জিপিএ-৪.৯২ এবং রাকিবুল হাসান রনি জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য এরপর তাদের গন্তব্য হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়ে দুজনই সুযোগ পান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে পড়ার পাশাপাশি তাদের আবাসিক ঠিকানাও হয়েছে একই—মতিহার হল। এমনকি একই কক্ষে বসে ক্লাস করার সুযোগও পাচ্ছেন দুই ভাই।

রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান রব চেয়েছেন বলেই আজ আমরা স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও একইসঙ্গে একরুমে বসে ক্লাস করতে পারছি। মাঝে মধ্যে ভাবলে নিজেরাই অবাক হয়ে যাই। ক্লাস নাইনে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার পর থেকেই বিষয়টি আমাদের খুব পছন্দের ছিল। পছন্দের বিভাগে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি একই হলও বরাদ্দ পেয়েছি। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে।’

শাকিবুল হাসান জনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই ভাইয়ের সবসময় একসঙ্গে পড়ার স্বপ্ন ছিল। সেটা এত সুন্দরভাবে পূরণ হবে, তা কখনো ভাবিনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা ভবিষ্যতেও সফলতা একসঙ্গে ধরে রাখতে চাই।’

একই স্কুল, একই কলেজ, একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই বিভাগ এবং একই আবাসিক হল—শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের সঙ্গী হয়ে আছেন শেরপুরের এই জমজ দুই ভাই।

মোবারকপুরের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার ক্যাম্পাসে এসে এবার পদার্থবিজ্ঞানের জগতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জনি ও রনি। সামনে তাদের লক্ষ্যও এক—একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প আরও দীর্ঘ করা।

মন্তব্য করুন

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় শেকৃবিতে ছাত্রদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

১৪ই সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও শেকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন এবং ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবুল বাশার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. আশাবুল হকসহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষক, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, "জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধের এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, ডেঙ্গুর কারণে যেন অকালে আর কোনো প্রাণ ঝরে না যায়। আগামী তিন মাস আমাদের সবাইকে এই সচেতনতা নিয়ে কাজ করতে হবে।"

ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "শেকৃবি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন থাকলে এখানকার সবাই সুস্থ থাকবে, যা ক্যাম্পাসের সম্মান বাড়াবে। আমার প্রত্যাশা, সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় পুরো ঢাকার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।"

অনুষ্ঠানে শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর তারেক রহমান ঘোষিত এই কর্মসূচির প্রেক্ষাপট আলোচনা করেন। নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য এমপি তুলির কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে আপনার কাছে আমাদের অনেক দাবি রয়েছে। শেকৃবি যেন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের দাবিগুলো আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"

সভাপতির বক্তব্যে শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপস ক্যাম্পাসের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিটি হলেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার্থেই ছাত্রদলের এই উদ্যোগ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান। এছাড়া তিনি বলেন, "যেহেতু এমপি তুলি নিজেও একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে পড়াশোনা করেছেন, তাই শেকৃবির মতো বিশেষায়িত কৃষি ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করবেন এবং সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।"
সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের নানা দিক-নির্দেশনা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করা হয় এবং ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

মন্তব্য করুন

রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের প্রধান গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় রাজশাহী রেলস্টেশনে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে আইয়ুব আলী সেখানে এগিয়ে গেলে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আইয়ুবের বন্ধু নাইমুল ইসলাম অভ্র জানান, মারধরের একপর্যায়ে আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। পরে তার জ্ঞান ছিল না। কয়েকবার বমি করার পাশাপাশি তার নাক দিয়ে রক্তপাতও হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে রাবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেললাইন অবরোধ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার পর তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে লং মার্চ করেন।

আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। তিনি জানান, আইয়ুবের চিকিৎসার বিষয়ে নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিয়ামত এলাহি

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন, ২০১৩-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার বছরের জন্য নিয়োগ

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে—পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জাবির হলে সিগারেট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ, দোকান বন্ধের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের অধীন ‘হাসান টি স্টোরে’ সিগারেট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে অবগত না করেই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) শরীফুল ইসলামের চাপের মুখে দোকান বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকানদার হাসান।

তবে দোকান বন্ধের বিষয়টি আগে জানতেন না বলে জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।

দোকানদার হাসান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে হলের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ তার দোকানে এসে সিগারেট আছে কি না জানতে চান। দোকানে সিগারেট না থাকায় তিনি ‘সিগারেট নেই’ বলে জানান। এ নিয়ে বায়েজিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

হাসান বলেন, ‘আমি বলেছি সিগারেট নেই। সিগারেট বিক্রি করি না—এ কথা বলিনি। বিষয়টি হয়তো বায়েজিদ হল সংসদের জিএসকে জানান। পরে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহির স্যার আমাকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর একজন গার্ড এসে জানান, হল থেকে দোকান বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

তবে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের আগে হল প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘আমি হাসান ভাইকে দুইবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন আমার এক বন্ধুও সঙ্গে ছিল। পরে হলের জিএসসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। গার্ডদেরও জানিয়েছি। তারা বলেছে, আপাতত দোকান বন্ধ থাকুক।’

দোকান বন্ধের বিষয়ে হল সংসদের জিএস শরীফুল ইসলাম বলেন, জিনিসপত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হলের সবাই অবগত। আপাতত দোকানটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝামেলা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে। হল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। সবাই বসে আলোচনা করে আগামীকালের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতাম না। যার সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে, সেই শিক্ষার্থী ও দোকানদার—কেউই আমাকে আগে কিছু জানায়নি। দু’পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি ফয়সালা করব।’

মন্তব্য করুন

১৮ লাখে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ, জাকসুর দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৮ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক কাজ করেছে বলে দাবি করেছে। এ সময়ে সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, আবাসিক হলের সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ মোট ৩৩৮টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাকসুর সদ্য সাবেক এজিএস ফেরদৌস আল হাসান।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাকসুর কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আউটসোর্সিং ও স্পন্সরশিপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফেরদৌস আল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বাজেট সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের সহযোগিতা এবং স্পন্সরশিপের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

স্বাস্থ্য ও আবাসিক হলের উন্নয়ন

জাকসুর উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ২১টি আবাসিক হলে কম্পিউটার, ডেস্কটপ সেটআপ ও টেবিল সরবরাহে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া হলগুলোতে গরম ও ঠান্ডা পানির সুবিধাসহ আধুনিক ফিল্টার স্থাপনে প্রায় ৭ লাখ এবং প্রতিটি হলে বুস্টার স্থাপনে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ১৬টি আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

শিক্ষার্থীদের সেবা সহজ করতে ‘টিউটর হাব’, ‘জাবি’ ও রক্তদানবিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরিতে যথাক্রমে ৪৫ হাজার, ৫০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু ও বাসে ট্র্যাকার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। তবে স্পন্সরশিপের কারণে এ খাতে জাকসুর প্রকৃত ব্যয় কমেছে বলে জানানো হয়।

ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন

শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষার সু

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন
×