শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ১৫০ শিশু প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করে নেয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অতিথির সঙ্গে নির্ধারিত আসনে বসেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য—‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমানসহ বিশিষ্টজন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিশেষ এ আয়োজনে শিশুদের অংশগ্রহণে থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া শিশুদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে ‘শৈশব’ শীর্ষক একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী

কর্মসূচি অনুযায়ী, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি।

মূল অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন। সেখানে ভবনের নিচতলায় স্থাপিত আধুনিক সোলার প্যানেল ও সাবস্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিকের বইয়ে যুক্ত ‘রাতের ভোট’; সাহিত্য-কণিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ

রাতের ভোট
রাতের ভোট

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আলোচিত ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গটি এবার যুক্ত হচ্ছে নবম–দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন সংযোজিত অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পূরণ এবং ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা করেছিল; যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বাদ যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে এই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়; অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এটি ছিল ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে।

পাঠ্যবইয়ের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে—দমনমূলক শাসন যত শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠা জনপ্রতিরোধের কাছে পরাজয় অনিবার্য।

২০২৬ সালের বইয়ে পতিত সরকারের অনিয়ম–দুর্নীতির বিবরণও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কমিশনের তথ্যমতে, গত ১৬ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বইয়ের নতুন অংশে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ফলে বাকশাল গঠনের কথা, জিয়াউর রহমানের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাবির্ভাব, এরশাদের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী গণআন্দোলনও বর্ণনা করা হয়েছে। নুর হোসেন, জেহাদ, ডা. মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ এবং ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনও এতে রয়েছে।

আরেক অংশে বলা হয়েছে—২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—এসবই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বইতে লেখা হয়েছে—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ে। পরদিন রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল শান্তসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত বল প্রয়োগে শত শত মানুষ নিহত হয়। দমননীতি বাড়তে থাকলে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশত্যাগ করেন—এ তথ্যও বইতে স্থান পেয়েছে।

বইয়ে আন্দোলনের দুই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
১) নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণ,
২) সারাদেশে দেয়ালে–দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি; যেখানে অধিকার, ইনসাফ, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসার পর ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালের বইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব শ্রেণির বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকছে। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিল সরকার

 

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সারাদেশের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছে সরকার। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষকদের মর্যাদা বাস্তবে নিশ্চিতের আহ্বান

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার—শিক্ষকদের মর্যাদা যেন শুধু ফুলের তোড়াতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এর বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে শিক্ষকদের যথাযথ বেতন-ভাতা, পূর্ণ নিরাপত্তা এবং মানসম্মত কর্মপরিবেশের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান এআই ও প্রযুক্তির যুগে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষকদের মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

‘আমরাই হব আগামী দিনের শিক্ষক’

শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীরাই, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী, শিক্ষকতা পেশায় আসতেন। আজ আমরা সেই স্লোগান থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছি।’

‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী তরুণরা গর্ব করে বলবে—“আমরাই হব আগামী দিনের শিক্ষক”’, যোগ করেন তিনি।

১২ থেকে ১০২ জন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে এই দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হতো। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০২ জনে উন্নীত করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং বিকেলে কেবিনেট মিটিং—এমন অত্যন্ত ব্যস্ত সূচির মাঝেও স্বল্প সময় বের করে তিনি প্রতিটি শিক্ষককে নিজ হাতে মেডেল পরিয়ে, টাকার চেক ও সনদপত্র দিয়ে সম্মানিত করার এই সুন্দর আয়োজন করেছেন।’

সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০২ শিক্ষকের তালিকা: ‘গুণী শিক্ষকগণের তালিকা.pdf’

মন্তব্য করুন

দুর্গাপূজায় টানা ৭ দিনের ছুটি, সুবিধা পাবেন যারা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা কয়েক দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ টানা ৭ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার। মহানবমী উপলক্ষে এদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মূল সরকারি ছুটি দুই দিন।

এর আগে ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ফলে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এক দিনের ছুটি নিলে এর সঙ্গে পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে ছুটির ধারাবাহিকতা মিলিয়ে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধা পাবেন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

টানা ৭ দিনের এই ছুটির সুবিধা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটি পাবেন, তবে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে টানা ছুটি বাড়ানোর সুযোগ তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বন্ধ থাকবে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হতে পারে।

এ সময় এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে।

জরুরি সেবায় থাকছে না ছুটি

সরকারি ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। জনসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির দিনেও কর্মীদের দায়িত্বে রাখতে পারে।

এর মধ্যে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীরা রয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কর্মসূচি অনুযায়ী ছুটির নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির নিয়ম আলাদা

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটির নিয়ম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে।

সরকারি ছুটির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

আবরার ফাহাদ হল উদ্বোধনে ইবিতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী

নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ’ হল উদ্বোধন করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানান ইবি উপাচার্য।

সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন ও অগ্রগতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন উপাচার্য। এ সময় তিনি নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ইবি ক্যাম্পাসে আসার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন বলে জানান উপাচার্য।

সাক্ষাৎ শেষে অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি তেমন কোনো কমিটমেন্ট দেননি। তবে কুষ্টিয়া সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সফরের আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলটি তাঁকে দিয়ে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসে তাঁর কুষ্টিয়া সফরের সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও সফরসূচিতে অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করছি।’

এ সময় উপাচার্য তাঁর লেখা কয়েকটি বই প্রধানমন্ত্রীকে সৌজন্য উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

মন্তব্য করুন

মাইলস্টোন দুর্ঘটনা: সাড়ে তিন মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেন যমজ দুই শিশু

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত দশ বছর বয়সী যমজ শিশু সারিনাহ জাহান সায়রা ও সাইবাহ জাহান সায়মা।

এ পর্যন্ত বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ৩৩ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।

আজ বুধবার সকালে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কার্যালয়ে দুই শিশুকে বিদায় জানান হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা।

এসময় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দুর্ঘটনায় আহত ৫৭ জন এই ইনস্টিটিউট থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২০ জন। একজনকে ট্রমা ম্যানেজমেন্টের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, তবে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।’

দুই যমজ শিশুর মধ্যে সায়রা ৩০ শতাংশ এবং সায়মা ১৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফরা দগ্ধ প্রত্যেক রোগীকে আন্তরিক সেবা দিয়েছেন। তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

‘আহতদের মধ্যে যারা বাড়ি ফিরেছেন, তাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ফলোআপ চিকিৎসা দিচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

এসময় তিনি সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব বিদেশি চিকিৎসক আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।

 

দুই যমজ শিশুর বাবা-মা ইয়াসিন মজুমদার ও আকলিমা আক্তার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হন। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

মন্তব্য করুন

নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন
×