এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’, দেওয়া হবে ট্যাব

এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সদ্য এসএসসি পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এসব উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।’

মেয়েদের জন্য ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ দেওয়ার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিতে মেয়েদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে তাদের উপহার দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটা গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে “পিংকি মোটরসাইকেল” তাদেরকে দেওয়ার জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বিত হচ্ছে, এটা আমাদের জটিলতায়। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি এবার বাজেট অ্যালোকেশন করেছেন জিডিপির ২ শতাংশ এবং এটাকে তিনি উন্নীত করবেন আপ টু ৫ শতাংশ।’

ড. মিলনের দাবি, শিক্ষায় এ ধরনের বড় পরিসরের বিনিয়োগ এর আগে কোনো সরকার করেনি।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানসম্মত সমন্বয়ের ওপর জোর, প্রাথমিক স্তরে আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

একাধিক শিক্ষাধারা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘জগাখিচুড়ি’ তৈরি করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা—এই ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়ছে। তাই সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম ও মানের মধ্যে সমন্বয় আনা জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সিলেটের ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েল ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট এডুকেশন (রাইজ)ইউরোকিডস প্রি-স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাধারা সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন মান ও দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি শিক্ষার মান নিশ্চিত না করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ও কর্মজীবনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী তৈরি না করে সব ধারার শিক্ষার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের মধ্যে সামঞ্জস্য ও কাছাকাছি মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু মৌলিক বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো উচিত। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাইজ স্কুল ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য রুয়ার বাসসেবা

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত (এমসিকিউ টাইপ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (১০ অক্টোবর)। বিশেষ এই বিসিএস পরীক্ষাটি কেবল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাকরিপ্রার্থীরা ইতোমধ্যে রাজধানীর পথে রওনা হচ্ছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে ঢাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রুয়া (রাবি ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) ছয়টি বাসের ব্যবস্থা করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে বাসগুলো ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরীক্ষার পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফেরার যাত্রা শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে, এবং বাসগুলো শিক্ষার্থীদের রাজশাহী পৌঁছে দেবে।

রুয়ার যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রুয়ার উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৭৩১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগ ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি বাস বরাদ্দ দেয়। বাকি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন রুয়ার সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান-এর সহযোগিতা কামনা করেন।

রুয়া জানিয়েছে, ঢাকায় যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বৃহৎ সঞ্চয়ের সন্ধানে: দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে 'ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক', ২০ হাজার কোটি টাকার সরকারি ভরসা!

ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাঁচটি বেসরকারি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূতকরণের এক ঐতিহাসিক প্রস্তাবনা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই বিশাল সমন্বয়ের ফলে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা।

৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেন, দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি মোকাবেলা করতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যে পাঁচ ব্যাংক মিশে যাচ্ছে এক স্রোতে

একীভূত হয়ে যে নতুন ব্যাংকটি গঠিত হবে, তার জন্য প্রাথমিকভাবে 'ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক' অথবা 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' নামে দুটি প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তাদের পৃথক অস্তিত্ব বিলীন করে একটি বৃহত্তর শক্তিতে পরিণত হচ্ছে, তারা হলো—

১. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ২. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩. ইউনিয়ন ব্যাংক ৪. এক্সিম ব্যাংক ৫. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক

 

আমানত ও চাকরির নিরাপত্তা: সরকারের পূর্ণ আশ্বাস

এই একীভূতকরণের ফলে আমানতকারীদের মনে যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল, তার নিরসন করেছে সরকারের ঘোষণা। প্রেস সচিব দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, "একীভূত হওয়ার পর কেউ চাকরি হারাবেন না। আগের আমানত সবাই ফেরত পাবেন।"

তবে আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া হবে সুসংগঠিত। জানা গেছে, আমানত সুরক্ষা আইনের সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যেসব গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ২ লক্ষ টাকা বা তার কম, তারা এককালীন পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। বাকি আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। আমানত সুরক্ষা আইনকে যুগোপযোগী করে তোলার সংশোধনীও উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করেছে।

 

প্রাথমিক মূলধন ও মালিকানা কৌশল

নতুন এই ব্যাংকের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে সরকার এক বিশাল মূলধনের আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংকটির মূলধন হিসেবে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে। এই অতিরিক্ত পুঁজির জোগান আসবে বাজেট, বৈদেশিক ঋণ এবং প্রয়োজনে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থেকে।

মালিকানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকবে, যার তত্ত্বাবধানে থাকবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল করে তোলার পর, উপযুক্ত সময়ে তা বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে। সরকার আশা করছে, এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, এই একীভূতকরণের কার্যক্রম বাস্তবায়নে গত ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরকে আহ্বায়ক করে একটি আট সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

‘আগের মতোই অবিশ্বাস্য নিম্নমানের উপাচার্য নিয়োগ হচ্ছে’-অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

 

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আগের সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হতো, এখনো সেই ধারার পরিবর্তন হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে এমন কিছু উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের মান ‘অবিশ্বাস্য মাত্রায় নিম্নমানের’ এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ‘বাংলাদেশে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা: অবস্থা, প্রকৃতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আলাদাভাবে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আইনে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার থাকাই যদি অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতার প্রধান শর্ত হতো, তাহলে দেশের চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এ স্বাধীনতার ব্যাপক চর্চা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১১০০ শিক্ষক কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—এ মর্মে স্বাক্ষর করলেন? তাদের সবাইকে কি এ স্বাক্ষরের জন্য বাধ্য করা হয়েছিল, নাকি তারা স্বেচ্ছায় তা করেছেন—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সহজে চলে যায় না উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, অ্যাকাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়ে কতটা তাগিদ, আগ্রহ ও অঙ্গীকার রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

‘সমস্যা ছাত্র সংগঠনে নয়, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনে’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। তিনি জানান, ষাটের দশক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির একটি পর্যালোচনা করেছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, ছাত্র সংগঠন বা ছাত্র রাজনীতিকে সরাসরি সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠন, ছাত্র রাজনীতি কিংবা সন্ত্রাসের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হলে বলতে হবে—সমস্যা ছাত্র সংগঠনে নয়, সমস্যা সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন নিয়ে।

আনু মুহাম্মদের ভাষ্য, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের বিষয়টি মূলত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এর পুরো কাঠামো রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর নির্ভরশীল এবং সমস্যাটির উৎসও সেখানেই।

আলোচনায় আরও যারা ছিলেন

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস্ রহমান, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শেখ নাহিদ নিয়াজী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মী হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আল মামুন।

মন্তব্য করুন

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যিনি হাসপাতালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করেন। গাড়িচালকের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খবর পেয়ে মাজহারুল ইসলামসহ ঘনিষ্ঠজনরা যান।

চিকিৎসকেরা জানান যে তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল। এরপর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্টিং করা (রিং পরানো) হয়।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ও লাইফ সাপোর্ট

শনিবার থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তাঁর অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। অবশেষে, আজ বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন
×