প্রক্সি দিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা, পিএসসিতে এসে ধরা যুবক

প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে মো. রিপন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দিতে পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হলে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে পরিচয় যাচাই ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর তাকে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএসসি।

পিএসসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. রিপন হোসেন অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী ছিলেন। তার রোল নম্বর ২১০১১৮৭। নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চাকরিতে যোগদানের জন্য তিনি পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পরিচয় যাচাই করতে প্রবেশপত্রের ছবি এবং মৌখিক পরীক্ষার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তার বর্তমান চেহারা মিলিয়ে দেখেন। এতে তার পরিচয় নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়।

বিষয়টি পিএসসির উপপরিচালক শোভন সমাদ্দারকে জানানো হলে তিনি উপসচিব ওয়াসিমুল বারীকে অবহিত করেন। পরে কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে যাচাই-বাছাই ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পিএসসি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিপন হোসেন নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি ওই নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক—কোনো পরীক্ষাতেই নিজে অংশ নেননি। তার পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি লাভের অপচেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের বাসে ছাত্রশিবিরের স্টিকার বিতর্ক, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে
বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উদ্যোগে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণ সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস বরাদ্দের পর পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়ন, সিট পরিকল্পনা তৈরি এবং সামগ্রিক সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি সহযোগিতা করে।

তবে, শুক্রবার ভোরে পরীক্ষার্থীদের বহনকারী বাসগুলো ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বাসের গায়ে ছাত্রশিবিরের নামযুক্ত স্টিকার লাগানো দেখা যায়। এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান এই ঘটনাকে 'দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত' আখ্যা দিয়ে বলেন, "সবাই জানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগেই এই পরিবহণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি বাসে নির্দিষ্ট সংগঠনের স্টিকার লাগানোয় শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সবাই বিব্রত হয়েছেন।"

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি সাদ কবির জানান, "আমরা প্রশাসনের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি, সেটি জানাতেই স্টিকার লাগানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আমরা দ্রুত স্টিকার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি।"

এ বিষয়ে পরিবহণ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী বলেন, "প্রতি বছরের মতো এবারও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই পরিবহণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্রশিবির পরীক্ষার্থীদের তালিকা তৈরিতে সহায়তা করেছে এবং ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দেয়। তবে বাসে সংগঠনের স্টিকার লাগানো একেবারেই অনুচিত। বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।"

 

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় নজরুল ভাস্কর্যের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আগারগাঁওগামী ছয়টি বাস (প্রতিটি রুটে তিনটি করে) পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

মন্তব্য করুন

বিজয়া দশমীতে ছাত্রদল নেতা তারিকের ভিন্নধর্মী কর্মসূচি

হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার শেষ দিন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচির আয়োজন করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তিনি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা তারিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের পক্ষে হাতের লেখা চিঠির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা ও গোলাপ ফুল প্রদান করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় লেখা রয়েছে- ‘শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের সংস্কৃতির যৌথ আনন্দের উৎস। ধর্মের ভিন্নতা থাকলেও হৃদয়ের বন্ধনে আমরা এক। আসুন মুসলিম-হিন্দু মিলেই তৈরি করি সম্প্রীতির সেই রঙিন দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।

 

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার। আমরা সেই আদর্শ ও নীতিতে বিশ্বাসী। তাই আমরা সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, আজ দুর্গাপূজার শেষ দিন তথা বিজয়া দশমীতে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্বেও পূজামণ্ডপে গিয়ে আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। এজন্য আমাদের সনাতনী ভাইবোনেরা আমাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম প্রধান, রাকিব হোসেন, জুল হোসেন, সদস্য সাব্বির হোসেন, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন ও তরিকুল ইসলাম তারেক, শেখ মুজিবুর রহমান হলের সদস্য তাহমিদ হুমায়ুন তানিম, ঢাবি ছাত্রদল কর্মী রুহুল আমিন, রাকিব হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য নূর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ফজলে রাব্বি রাদ, মুজতবা তাহমিদ মুবিন, মো. নাজমুল হক, মো. তানভিরুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণের মো. জুবায়ের হোসেন ও মো. ফাহাদ হোসেন, মহানগর পূর্বের মো. জাহিদ হাসান, মো. সোয়াইবুল ইসলাম রেম্পি, মুন্তাসির হাসনাত, মহানগর পশ্চিমের মো. মাহমুদুল হাসান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরাফাত হোসেন, ওসমান খান, ইউসুফ আহমেদ অপু, জামাল খান, আবদুল্লাহ আহমেদ তোফায়েল সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের: মাউশি

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন বা অধ্যাদেশ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন সব দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাইবার স্পেসে আচরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই নীতিমালাগুলো অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারীর 'আচরণবিধি লঙ্ঘনের' শামিল হবে। এর পাশাপাশি এটি অনেক ক্ষেত্রে 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি' এবং 'শাস্তিযোগ্য অপরাধ' হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে 'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)' এবং 'সাইবার সুরক্ষা আইন/অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২৫ নং অধ্যাদেশ)'-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সব আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিতে প্রস্তুত এনসিটিবি

এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা
এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা

সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কাজ করছে—বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো এনসিটিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো ছাপা ও বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে সংস্থাটি। বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির নিজস্ব তদারকির পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়েও নজরদারি করছে। প্রেস মালিকদের সঙ্গেও চলছে নিয়মিত সমন্বয়।

সম্প্রতি এনসিটিবি অডিটোরিয়ামে বই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেখানে মালিকরা মুদ্রণ ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধান করা হলে সময়মতো বই সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মত দেন।

এর পরপরই গত মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি দেশের এক হাজারের বেশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় আগের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরবরাহকৃত বইয়ের বিল দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বই গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বই পাঠানোর সময় মাঠপর্যায় সঠিকভাবে অবহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বই সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত স্থান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে নির্ধারিত সময়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসদুপায় অবলম্বন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২৮৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শাস্তির অংশ হিসেবে কারও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে, আবার কাউকে এক থেকে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধের ধরন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরীক্ষক, পরিদর্শক ও প্রধান পরীক্ষকদের পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র ও অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে বিষয়গুলো পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়।

পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৬ জনের শুধু সংশ্লিষ্ট বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ৫৫ জনের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর, ১৪ জনের পরবর্তী তিন বছর এবং তিনজনের পরবর্তী চার বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নিষেধাজ্ঞা অমান্য: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ব্যবহারে ফের কড়া নির্দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে আসা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকারি নির্দেশনা থাকলেও নোয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া ও ব্যবহার বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা নিষিদ্ধ করতে ফের কড়া নির্দেশ দিয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

 নোয়াখালী সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। চিঠিটি নোয়াখালী সদর উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ওই নির্দেশনা সত্ত্বেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন নিয়ে আসছে এবং শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।

এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো নিষিদ্ধ করা হলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন কোচিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা অমান্য করে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে দেওয়া যাবে না।

তাই শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো বন্ধসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×