বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফল প্রকাশ করে। এ বছর পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বাউবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলিয়ে অংশ নেন ৩০ হাজার ৮১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১২ হাজার ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৭ হাজার ৬৬৪ জন।

চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪ হাজার ৭২৫ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী। বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্লাহ মাহামুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বিতীয় সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার কার্যক্রম এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল মাত্র ৪৯ কার্যদিবসে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের এ উদ্যোগ ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের পুরোনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য রুয়ার বাসসেবা

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত (এমসিকিউ টাইপ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (১০ অক্টোবর)। বিশেষ এই বিসিএস পরীক্ষাটি কেবল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাকরিপ্রার্থীরা ইতোমধ্যে রাজধানীর পথে রওনা হচ্ছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে ঢাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রুয়া (রাবি ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) ছয়টি বাসের ব্যবস্থা করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে বাসগুলো ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরীক্ষার পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফেরার যাত্রা শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে, এবং বাসগুলো শিক্ষার্থীদের রাজশাহী পৌঁছে দেবে।

রুয়ার যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রুয়ার উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৭৩১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগ ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি বাস বরাদ্দ দেয়। বাকি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন রুয়ার সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান-এর সহযোগিতা কামনা করেন।

রুয়া জানিয়েছে, ঢাকায় যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানাল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এঁরা সবাই বিএনপির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির সদস্য।

ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে দলটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপি এটিকে 'সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে মনে করছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দ্রুত স্থগিত করা আবশ্যক।

মন্তব্য করুন

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০, সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা

সরকারি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা অবিলম্বে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ১৩ গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সদস্যরা এই দাবি পেশ করেন।

 

মূল দাবি ও প্রস্তাবিত ভাতা

সংগঠনটি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে:

  • বাড়িভাড়া ভাতা:

    • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: মূল বেতনের ৮০%

    • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৭০%

    • অন্যান্য এলাকায়: ৬০%

  • চিকিৎসা ভাতা: ৬,০০০ টাকা

  • শিক্ষা ভাতা (সন্তান প্রতি): ৩,০০০ টাকা

  • যাতায়াত ভাতা:

    • ঢাকা: ৩,০০০ টাকা

    • অন্যান্য এলাকা: ২,০০০ টাকা

  • ইউটিলিটি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • টিফিন ভাতা: দৈনিক ১০০ টাকা (মাসিক ২,২০০ টাকা)

  • বৈশাখী ভাতা: ৫০%

  • ঝুঁকি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা: ৪০%

পেনশন ও অন্যান্য দাবি

ফোরাম পেনশন সুবিধা বিদ্যমান ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১ টাকায় ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পে স্কেলে ব্যাপক বৈষম্য ছিল এবং গত ১০ বছরে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা দুটি পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন, বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।


আল্টিমেটাম

সংগঠনটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক নবম পে কমিশন গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কমিশন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রস্তাব করবে।

মন্তব্য করুন

নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিকের বইয়ে যুক্ত ‘রাতের ভোট’; সাহিত্য-কণিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ

রাতের ভোট
রাতের ভোট

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আলোচিত ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গটি এবার যুক্ত হচ্ছে নবম–দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন সংযোজিত অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পূরণ এবং ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা করেছিল; যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বাদ যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে এই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়; অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এটি ছিল ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে।

পাঠ্যবইয়ের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে—দমনমূলক শাসন যত শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠা জনপ্রতিরোধের কাছে পরাজয় অনিবার্য।

২০২৬ সালের বইয়ে পতিত সরকারের অনিয়ম–দুর্নীতির বিবরণও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কমিশনের তথ্যমতে, গত ১৬ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বইয়ের নতুন অংশে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ফলে বাকশাল গঠনের কথা, জিয়াউর রহমানের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাবির্ভাব, এরশাদের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী গণআন্দোলনও বর্ণনা করা হয়েছে। নুর হোসেন, জেহাদ, ডা. মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ এবং ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনও এতে রয়েছে।

আরেক অংশে বলা হয়েছে—২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—এসবই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বইতে লেখা হয়েছে—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ে। পরদিন রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল শান্তসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত বল প্রয়োগে শত শত মানুষ নিহত হয়। দমননীতি বাড়তে থাকলে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশত্যাগ করেন—এ তথ্যও বইতে স্থান পেয়েছে।

বইয়ে আন্দোলনের দুই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
১) নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণ,
২) সারাদেশে দেয়ালে–দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি; যেখানে অধিকার, ইনসাফ, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসার পর ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালের বইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব শ্রেণির বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকছে। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যিনি হাসপাতালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করেন। গাড়িচালকের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খবর পেয়ে মাজহারুল ইসলামসহ ঘনিষ্ঠজনরা যান।

চিকিৎসকেরা জানান যে তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল। এরপর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্টিং করা (রিং পরানো) হয়।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ও লাইফ সাপোর্ট

শনিবার থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তাঁর অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। অবশেষে, আজ বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন
×