অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যিনি হাসপাতালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করেন। গাড়িচালকের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খবর পেয়ে মাজহারুল ইসলামসহ ঘনিষ্ঠজনরা যান।

চিকিৎসকেরা জানান যে তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল। এরপর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্টিং করা (রিং পরানো) হয়।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ও লাইফ সাপোর্ট

শনিবার থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তাঁর অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। অবশেষে, আজ বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন

অপ্রতীম হত্যার পর কুবি শিক্ষকের পরিবারকে ফোনে গালিগালাজ-হুমকি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামীণফোনের একটি নম্বর থেকে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করা হয়। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পরই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ফোন কেটে দিলে ওই নম্বর থেকে বারবার কল আসতে থাকে। পরে নম্বরটি ব্লক করে দেন তিনি।

এরপর এয়ারটেল (সার্কেল) অপারেটরের আরেকটি নম্বর থেকেও তাকে একাধিকবার কল করা হয়। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে নম্বর দুটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু-কলারে নম্বর দুটি ‘রাসেল স্টোর’ ও ‘মোহাম্মদ আলি’ নামে সংরক্ষিত দেখা যায়।

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। তাকে আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, সেটি আমরা জানি না। আমাদের মধ্যেও শঙ্কা কাজ করছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন ফোন করে খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার পর আসামিরাই আমার সঙ্গে এসে ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের নেতৃত্বদানকারীরা যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা ব্যবস্থা না হলে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?’

নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে অভিযান চালানোর পর সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা হলেন—মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)।

মন্তব্য করুন

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০, সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা

সরকারি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা অবিলম্বে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ১৩ গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সদস্যরা এই দাবি পেশ করেন।

 

মূল দাবি ও প্রস্তাবিত ভাতা

সংগঠনটি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে:

  • বাড়িভাড়া ভাতা:

    • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: মূল বেতনের ৮০%

    • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৭০%

    • অন্যান্য এলাকায়: ৬০%

  • চিকিৎসা ভাতা: ৬,০০০ টাকা

  • শিক্ষা ভাতা (সন্তান প্রতি): ৩,০০০ টাকা

  • যাতায়াত ভাতা:

    • ঢাকা: ৩,০০০ টাকা

    • অন্যান্য এলাকা: ২,০০০ টাকা

  • ইউটিলিটি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • টিফিন ভাতা: দৈনিক ১০০ টাকা (মাসিক ২,২০০ টাকা)

  • বৈশাখী ভাতা: ৫০%

  • ঝুঁকি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা: ৪০%

পেনশন ও অন্যান্য দাবি

ফোরাম পেনশন সুবিধা বিদ্যমান ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১ টাকায় ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পে স্কেলে ব্যাপক বৈষম্য ছিল এবং গত ১০ বছরে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা দুটি পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন, বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।


আল্টিমেটাম

সংগঠনটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক নবম পে কমিশন গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কমিশন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রস্তাব করবে।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফল প্রকাশ করে। এ বছর পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বাউবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলিয়ে অংশ নেন ৩০ হাজার ৮১৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১২ হাজার ২৪ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৭ হাজার ৬৬৪ জন।

চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪ হাজার ৭২৫ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী। বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্লাহ মাহামুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বিতীয় সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার কার্যক্রম এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল মাত্র ৪৯ কার্যদিবসে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের এ উদ্যোগ ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের পুরোনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য রুয়ার বাসসেবা

৪৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত (এমসিকিউ টাইপ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (১০ অক্টোবর)। বিশেষ এই বিসিএস পরীক্ষাটি কেবল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাকরিপ্রার্থীরা ইতোমধ্যে রাজধানীর পথে রওনা হচ্ছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে ঢাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন রুয়া (রাবি ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) ছয়টি বাসের ব্যবস্থা করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে বাসগুলো ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পরীক্ষার পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফেরার যাত্রা শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে, এবং বাসগুলো শিক্ষার্থীদের রাজশাহী পৌঁছে দেবে।

রুয়ার যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রুয়ার উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৭৩১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগ ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি বাস বরাদ্দ দেয়। বাকি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন রুয়ার সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান-এর সহযোগিতা কামনা করেন।

রুয়া জানিয়েছে, ঢাকায় যাতায়াতের পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

পুকুরে বিলীন হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

 

পাশে পুকুর। তার পানিতে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ। ভাঙা দেয়াল কোনোভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বই-খাতা নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

এমন চিত্র নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুকুরের পানিতে একটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও মেঝের অংশ ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে দেয়ালের কিছু অংশ পুকুরে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশ বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হলেও সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে শ্রেণিকক্ষটির একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরে বাঁশ দিয়ে ঠেকানোসহ বিভিন্নভাবে ঘরটি রক্ষার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ওই কক্ষে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

এদিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের মাঠেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস করতে গিয়ে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে ভয় লাগে। তাই মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এভাবে পড়াশোনা করাও কষ্টকর। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে কোনো ভবন পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা টিন দিয়ে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। এত বছর পর সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

তাদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়টি বালিকা বিদ্যালয় হলেও চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে যেকোনো সময় যে কেউ বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে পুরোনো জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো সংস্কার এবং পাঠদান কার্যক্রম চালানোর উপযোগী একটি ভবন নির্মাণ করা হোক। তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এর আগে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাট করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত কাজ করার বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। উপজেলা প্রকৌশলী ছুটিতে আছেন। তিনি ফিরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন
×