লাওসে বাংলাদেশিদের শ্রমিক নিয়োগ ও ভিসা স্থগিত

বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দেশটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

লাওসে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার প্রলোভনে পড়ে কাউকে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুমোদন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।

একই নির্দেশনার আওতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রমিক শ্রেণির ভিসা ইস্যুও বন্ধ রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা ইস্যু স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।দেশি পোশাক বাছুন

এই পরিস্থিতিতে লাওসে কাজের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ভুয়া ভিসা, কাল্পনিক চাকরির প্রস্তাব এবং অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার বিষয়ে অর্থ প্রদান কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা উচিত। অনুমোদিত নয়—এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাওসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দেশটির সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।

মন্তব্য করুন

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’, দেওয়া হবে ট্যাব

এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে সদ্য এসএসসি পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এসব উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীই আমাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ যেন আরও বেড়ে যায়, তারা যেন লেখাপড়া ঠিকমতো করে। সেজন্যই তিনি এই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার জন্য চিন্তা করেন।’

মেয়েদের জন্য ‘পিংকি মোটরসাইকেল’ দেওয়ার উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিতে মেয়েদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে তাদের উপহার দেওয়ার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। সেগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে মেয়েদের আরও শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের জন্য একটা গিফটের কথা আজকে বলবেন। আর সেটি হচ্ছে “পিংকি মোটরসাইকেল” তাদেরকে দেওয়ার জন্য।’

শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান ড. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বিত হচ্ছে, এটা আমাদের জটিলতায়। এই বিষয়গুলো আজকের এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিশাল এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি এবার বাজেট অ্যালোকেশন করেছেন জিডিপির ২ শতাংশ এবং এটাকে তিনি উন্নীত করবেন আপ টু ৫ শতাংশ।’

ড. মিলনের দাবি, শিক্ষায় এ ধরনের বড় পরিসরের বিনিয়োগ এর আগে কোনো সরকার করেনি।

মন্তব্য করুন

মালবাহী ট্রেন বাড়িয়ে রেলের আয় বাড়ানোর নির্দেশ সংসদীয় কমিটির

বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় বাড়াতে যাত্রীবাহী ক্যারেজের তুলনায় মালবাহী ক্যারেজের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে রেলের আয় বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার, এমপি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে রেল খাতকে বর্তমান লোকসান থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

কমিটির বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় রেল পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নের অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল সেবা, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী লোকোমোটিভ তৈরি ও সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং প্রস্তাবিত পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেলপথের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের পাশাপাশি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতি তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করা হয়। আহতদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

১৫ জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলা এবং নতুন ডিসি পদায়ন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে। নতুন পদায়ন অনুযায়ী, কিছু জেলার ডিসির দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং নতুন কিছু কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বদলিকৃত ডিসিদের মধ্যে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালী, কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জ, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুর, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধা এবং খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পাবনার জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরা, স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডা. শামীম রহমানকে ভোলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।

নতুন এই ডিসি পদায়নগুলো জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমের উন্নতি এবং সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিসিদের পুরো তালিকা দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন 

মন্তব্য করুন

পুকুরে বিলীন হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

 

পাশে পুকুর। তার পানিতে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ। ভাঙা দেয়াল কোনোভাবে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বই-খাতা নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

এমন চিত্র নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুকুরের পানিতে একটি শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ও মেঝের অংশ ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে। এরই মধ্যে দেয়ালের কিছু অংশ পুকুরে বিলীন হয়েছে। বাকি অংশ বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হলেও সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে শ্রেণিকক্ষটির একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরে বাঁশ দিয়ে ঠেকানোসহ বিভিন্নভাবে ঘরটি রক্ষার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে। ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ওই কক্ষে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন।

এদিকে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের মাঠেই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস করতে গিয়ে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে ভয় লাগে। তাই মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এভাবে পড়াশোনা করাও কষ্টকর। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে কোনো ভবন পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা টিন দিয়ে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। এত বছর পর সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

তাদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়টি বালিকা বিদ্যালয় হলেও চারপাশে কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে যেকোনো সময় যে কেউ বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতে পারে। এতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে পুরোনো জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলো সংস্কার এবং পাঠদান কার্যক্রম চালানোর উপযোগী একটি ভবন নির্মাণ করা হোক। তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এর আগে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাট করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত কাজ করার বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। উপজেলা প্রকৌশলী ছুটিতে আছেন। তিনি ফিরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানসম্মত সমন্বয়ের ওপর জোর, প্রাথমিক স্তরে আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

একাধিক শিক্ষাধারা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘জগাখিচুড়ি’ তৈরি করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা—এই ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়ছে। তাই সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম ও মানের মধ্যে সমন্বয় আনা জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সিলেটের ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েল ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট এডুকেশন (রাইজ) ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাধারা সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন মান ও দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি শিক্ষার মান নিশ্চিত না করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ও কর্মজীবনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী তৈরি না করে সব ধারার শিক্ষার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের মধ্যে সামঞ্জস্য ও কাছাকাছি মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু মৌলিক বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো উচিত। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাইজ স্কুল ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

গণতন্ত্রের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (১৬ নভেম্বর) প্রেস ক্লাবে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, দেশে রাজনীতি বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমান সময়টা জটিল সংকটে পড়েছে।

ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও কিছু গোষ্ঠি রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নেই, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এটি সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আসন্ন গণহত্যার রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন, যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি। বিএনপির প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে, কারণ তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন
×