পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান ঢাবি অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া (ইমন)।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন নিয়োগ

এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। তাঁর পদত্যাগের পর চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের পর এবার পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া।

মন্তব্য করুন

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি: সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০, সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা

সরকারি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা অবিলম্বে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ১৩ গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছেন, যেখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩২,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,২৮,০০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী ফোরামের সদস্যরা এই দাবি পেশ করেন।

 

মূল দাবি ও প্রস্তাবিত ভাতা

সংগঠনটি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে:

  • বাড়িভাড়া ভাতা:

    • ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: মূল বেতনের ৮০%

    • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ৭০%

    • অন্যান্য এলাকায়: ৬০%

  • চিকিৎসা ভাতা: ৬,০০০ টাকা

  • শিক্ষা ভাতা (সন্তান প্রতি): ৩,০০০ টাকা

  • যাতায়াত ভাতা:

    • ঢাকা: ৩,০০০ টাকা

    • অন্যান্য এলাকা: ২,০০০ টাকা

  • ইউটিলিটি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • টিফিন ভাতা: দৈনিক ১০০ টাকা (মাসিক ২,২০০ টাকা)

  • বৈশাখী ভাতা: ৫০%

  • ঝুঁকি ভাতা: ২,০০০ টাকা

  • পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা: ৪০%

পেনশন ও অন্যান্য দাবি

ফোরাম পেনশন সুবিধা বিদ্যমান ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% করার এবং আনুতোষিকের হার প্রতি ১ টাকায় ২৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের পে স্কেলে ব্যাপক বৈষম্য ছিল এবং গত ১০ বছরে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা দুটি পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন, বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা জরুরি।


আল্টিমেটাম

সংগঠনটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক নবম পে কমিশন গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে কমিশন একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রস্তাব করবে।

মন্তব্য করুন

‘আগের মতোই অবিশ্বাস্য নিম্নমানের উপাচার্য নিয়োগ হচ্ছে’-অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

 

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আগের সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হতো, এখনো সেই ধারার পরিবর্তন হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে এমন কিছু উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যাদের মান ‘অবিশ্বাস্য মাত্রায় নিম্নমানের’ এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ‘বাংলাদেশে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা: অবস্থা, প্রকৃতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আলাদাভাবে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আইনে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার থাকাই যদি অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতার প্রধান শর্ত হতো, তাহলে দেশের চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এ স্বাধীনতার ব্যাপক চর্চা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১১০০ শিক্ষক কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে—এ মর্মে স্বাক্ষর করলেন? তাদের সবাইকে কি এ স্বাক্ষরের জন্য বাধ্য করা হয়েছিল, নাকি তারা স্বেচ্ছায় তা করেছেন—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সহজে চলে যায় না উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, অ্যাকাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়ে কতটা তাগিদ, আগ্রহ ও অঙ্গীকার রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

‘সমস্যা ছাত্র সংগঠনে নয়, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনে’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। তিনি জানান, ষাটের দশক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির একটি পর্যালোচনা করেছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, ছাত্র সংগঠন বা ছাত্র রাজনীতিকে সরাসরি সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠন, ছাত্র রাজনীতি কিংবা সন্ত্রাসের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হলে বলতে হবে—সমস্যা ছাত্র সংগঠনে নয়, সমস্যা সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন নিয়ে।

আনু মুহাম্মদের ভাষ্য, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের বিষয়টি মূলত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এর পুরো কাঠামো রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর নির্ভরশীল এবং সমস্যাটির উৎসও সেখানেই।

আলোচনায় আরও যারা ছিলেন

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস্ রহমান, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শেখ নাহিদ নিয়াজী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মী হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আল মামুন।

মন্তব্য করুন

বৃহৎ সঞ্চয়ের সন্ধানে: দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে 'ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক', ২০ হাজার কোটি টাকার সরকারি ভরসা!

ইতিহাস গড়ার পথে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাঁচটি বেসরকারি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূতকরণের এক ঐতিহাসিক প্রস্তাবনা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই বিশাল সমন্বয়ের ফলে দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা।

৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেন, দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি মোকাবেলা করতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যে পাঁচ ব্যাংক মিশে যাচ্ছে এক স্রোতে

একীভূত হয়ে যে নতুন ব্যাংকটি গঠিত হবে, তার জন্য প্রাথমিকভাবে 'ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক' অথবা 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' নামে দুটি প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তাদের পৃথক অস্তিত্ব বিলীন করে একটি বৃহত্তর শক্তিতে পরিণত হচ্ছে, তারা হলো—

১. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ২. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩. ইউনিয়ন ব্যাংক ৪. এক্সিম ব্যাংক ৫. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক

 

আমানত ও চাকরির নিরাপত্তা: সরকারের পূর্ণ আশ্বাস

এই একীভূতকরণের ফলে আমানতকারীদের মনে যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল, তার নিরসন করেছে সরকারের ঘোষণা। প্রেস সচিব দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, "একীভূত হওয়ার পর কেউ চাকরি হারাবেন না। আগের আমানত সবাই ফেরত পাবেন।"

তবে আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া হবে সুসংগঠিত। জানা গেছে, আমানত সুরক্ষা আইনের সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যেসব গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ২ লক্ষ টাকা বা তার কম, তারা এককালীন পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। বাকি আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। আমানত সুরক্ষা আইনকে যুগোপযোগী করে তোলার সংশোধনীও উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করেছে।

 

প্রাথমিক মূলধন ও মালিকানা কৌশল

নতুন এই ব্যাংকের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে সরকার এক বিশাল মূলধনের আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংকটির মূলধন হিসেবে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে। এই অতিরিক্ত পুঁজির জোগান আসবে বাজেট, বৈদেশিক ঋণ এবং প্রয়োজনে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থেকে।

মালিকানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকবে, যার তত্ত্বাবধানে থাকবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল করে তোলার পর, উপযুক্ত সময়ে তা বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে। সরকার আশা করছে, এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, এই একীভূতকরণের কার্যক্রম বাস্তবায়নে গত ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরকে আহ্বায়ক করে একটি আট সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নাশকতা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়াতে

ছুটি বাতিল মেট্রোরেলের সব কর্মকর্তা–কর্মচারীর

মেট্রোরেল
মেট্রোরেল

ঢাকা মেট্রোরেলের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। রোববার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলমের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএমটিসিএলের ভবন, ডিপো, স্টেশন এবং প্রকল্প এলাকায় কর্মরত সবার ছুটি বাতিল থাকবে। যদিও এতে কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সূত্র জানিয়েছে—রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৩ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত আছে। এ নিয়ে অনলাইনে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাশকতা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে ডিএমটিসিএল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছুটি বাতিল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি: ৭ অক্টোবর পর্যন্ত, ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু

সম্প্রতি দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে দেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি শুরু হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে, যা চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মনে করেছেন, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আসলে সঠিক নয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী এই বিষয়ে পরিষ্কার করেছেন যে, ছুটি শুধুমাত্র ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ৮ অক্টোবর থেকে শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। ৮ ও ৯ অক্টোবর শুধুমাত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, তবে স্কুল খুলে যাবে।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির বিষয়, এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোনো ছুটি বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, তারা ভুল করেছে। সঠিক তথ্য পেতে চাইলে মাউশিতে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 
মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানাল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের স্কুল-কলেজে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে কয়েক দফা প্রস্তাবনা জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া। এঁরা সবাই বিএনপির নির্বাচন কমিশন বিষয়ক কমিটির সদস্য।

ইসিতে দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে দলটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার ঠিক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় হঠাৎ করে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপি এটিকে 'সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে মনে করছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনাটি দ্রুত স্থগিত করা আবশ্যক।

মন্তব্য করুন
×