ডিসিইউ ও তিতুমীর কলেজের সমন্বয়হীনতা, ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) ও তিতুমীর কলেজ প্রশাসনের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডিসিইউ থেকে ভর্তির নোটিশ দেওয়া হলেও তিতুমীর কলেজ প্রশাসন এখনো নিজস্ব বিজ্ঞপ্তি ও ফরম প্রকাশ করেনি। ফলে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দূরদূরান্ত থেকে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না এবং তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিস সহায়কদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ এখনো ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি ক্যাম্পাসে এসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করলেই ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। নোটিশ না থাকায় ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।


এই অব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ইংরেজি বিভাগে ভর্তিচ্ছু রাকিবুল হাসান জানান, ডিসিইউর নোটিশ থাকার পরও তিতুমীর কলেজ প্রশাসন কেবল অজুহাত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে আসা এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ভবনের প্রথম তলা থেকে বলা হচ্ছে ভর্তি নেওয়া হবে না, আবার দ্বিতীয় তলা থেকে বলা হচ্ছে ভর্তি চলবে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতও দেওয়া হচ্ছে এবং হয়রানির শিকার হয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে তাদের আবারও কলেজে আসার উপক্রম হয়েছে।


ক্যাম্পাসে এমন অচলাবস্থা বিরাজ করলেও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির কাজ চলছে। উল্লেখ্য, ডিসিইউর বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমে ১৩ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ভর্তির সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও, পরে তা বাড়িয়ে ১৭ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, কমল ১০০ নম্বর

২০২৭ সালের ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিলেবাসে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৩০০ থেকে কমিয়ে ২০০ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারও ২০০ নম্বরের পুরোনো কাঠামোয় ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা।

নতুন সিলেবাস অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৬৫, গণিতে ৭০ এবং বাংলায় ৪৫ নম্বর থাকবে। এ ছাড়া বিজ্ঞান, ইতিহাস, সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে মোট ২০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরে।

এর আগে ২০২৬ সালের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে, বাংলায় ৬০ এবং বিজ্ঞান, ইতিহাস, সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তায় ৪০ নম্বর ছিল। ফলে গতবারের তুলনায় এবার ইংরেজিতে ৩৫, গণিতে ৩০ এবং বাংলায় ১৫ নম্বর কমেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য বিষয়েও নম্বর কমানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ৮ বছর ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ৩০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো।

অর্থাৎ, নতুন সিলেবাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও ২০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষার কাঠামোয় ফিরছে ক্যাডেট কলেজগুলো।

এদিকে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষার সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে ২০০ নম্বরের পরীক্ষার সিলেবাস প্রকাশের পর ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের ভর্তি পরীক্ষা আড়াই ঘণ্টায় অনুষ্ঠিত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

তরুণদের চাকরির সুযোগ বাড়াতে ডিসেম্বরে সরকারের নতুন কর্মসংস্থান উদ্যোগ

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায় শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে দেওয়া অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মাহদী আমিন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন বলেন, তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন এবং মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বর ঢাকায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণদের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

মাহদী আমিন জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিসেম্বর থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। সরকারের লক্ষ্য হলো তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। একই সঙ্গে মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের জনবলের চাহিদা রয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

একই সঙ্গে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। একদিকে থাকবে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য, অন্যদিকে থাকবে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদা। এই দুই তথ্যের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হবে একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

নিয়মিত হবে ক্যারিয়ার ফেয়ার

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি দেশব্যাপী নিয়মিত ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জেলা পর্যায়ে এসব ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমিয়ে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল খুঁজে নিতে পারবে।

মাহদী আমিন বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা হবে।

এই ব্যবস্থার আওতায় চাকরিপ্রার্থীদের সিভি লেখার কৌশল, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, ইন্টারভিউ মোকাবিলা এবং চাকরির বাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে।

বিদেশগামী তরুণদেরও যুক্ত করা হবে

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতারা সরাসরি নিবন্ধন না করলেও বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণদের নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) অথবা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

সরকার এমন একটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ তাঁর ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে নটর ডেম ও হলিক্রসের বিশেষ শর্ত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজধানীর নটর ডেম কলেজ ও হলিক্রস কলেজ। দুই কলেজেই নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। জিপিএ ও অন্যান্য একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ভর্তিচ্ছুদের জন্য কিছু বিশেষ শর্তও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

এর মধ্যে নটর ডেম কলেজ ধূমপায়ীদের আবেদন না করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে হলিক্রস কলেজ জানিয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নটর ডেম কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, কলেজের আইডি কার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ধূমপায়ীদেরও আবেদন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে হলিক্রস কলেজের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব নিয়ম মানতে অনাগ্রহী বা আপত্তি রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের আবেদন না করার পরামর্শ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি দেওয়া হবে। পাশাপাশি কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম ও শর্তে যাদের আপত্তি রয়েছে, তাদেরও আবেদন না করার জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বিইউপির ভর্তি পরীক্ষা জানুয়ারিতে, ৬ অনুষদের সূচি প্রকাশ

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। ছয়টি অনুষদের পরীক্ষা চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ ও ৯ জানুয়ারি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২ জানুয়ারি নেওয়া হবে আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদের পরীক্ষা।

এ ছাড়া ৮ জানুয়ারি সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদ, মেডিকেল স্ট্যাডিজ অনুষদ এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থাৎ, ছয়টি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা ১, ২, ৮ ও ৯ জানুয়ারি—এই চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনের সময়সূচি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। আবেদন শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭। তবে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর জানানো হবে।

চুয়েটের স্নাতক ভর্তি কমিটির সভাপতি ও তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ২৩ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা, শর্তাবলি, সময়সূচি ও মানবণ্টনসহ যাবতীয় তথ্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে চুয়েট প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ভর্তি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর এ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে দেশের আরও দুটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

সরকারি স্কুলে ভর্তি: স্কুলে ভর্তিতে ৬৩ শতাংশই কোটা

সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি।

৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে
প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়।

প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ
ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে।

মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ,
“অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।”

অন্যান্য কোটাগুলো
নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে—

  • মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫%

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১%

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০%

  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২%

  • অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫%

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে।

অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান।

কোটা নিয়ে মতভেদ
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।”

নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে
মাউশির মহাপরিচালক  বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”

মন্তব্য করুন
×