বিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন আবেদন বাড়ছে, পাঁচ দিনে আবেদন সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে

সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন চলছে। গত ২১ নভেম্বর শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিটি আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানায়, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত পাঁচ দিনে ৩ লাখ ৫৯ হাজার শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করেছে। এসব শিক্ষার্থী মোট ৫ লাখ ৫৬ হাজারটি পছন্দক্রম দিয়েছে (একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় বেছে নিতে পারে)।

মাউশির তথ্য অনুযায়ী, এবার সারাদেশে চার হাজার ৪৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হবে। এর মধ্যে সরকারি স্কুল ৬৮৮টি এবং বেসরকারি স্কুল তিন হাজার ৩৬০টি।

দেশব্যাপী মোট শূন্য আসন রয়েছে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮১টি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে শূন্য আসন এক লাখ ২১ হাজার ৩০টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৬৮৮টি সরকারি বিদ্যালয়ের এক লাখ ২১ হাজার ৩০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে দুই লাখ ৬০ হাজার ২৪৪ জন শিক্ষার্থী। তারা মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৭২৮টি পছন্দক্রম দিয়েছে।

অন্যদিকে, তিন হাজার ৩৬০টি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৯৮ হাজার ৭৬২টি, পছন্দক্রম দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার ৮৬২টি।

মাউশির মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, আবেদন করার জন্য আরও ১০ দিন সময় রয়েছে। আবেদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আবেদন শেষ হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লটারি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

Tags

বিদ্যালয়ে ভর্তি ২০২৬ অনলাইন ভর্তি আবেদন সরকারি স্কুল বেসরকারি স্কুল ভর্তি লটারি মাধ্যমিক শিক্ষা মাউশি
মন্তব্য করুন

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিসিইউ) স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডিসিইউর রেজিস্ট্রার মো. শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সাত কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ডিসিইউর সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রোগ্রামে স্থানান্তর করা হবে। গত ২৩ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে শিক্ষা উপদেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর অধ্যক্ষদের নিয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নে ঢাবি ও ডিসিইউর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হবে। একই সঙ্গে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘স্থানান্তর বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হবে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে উল্লিখিত তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তালিকা, পরীক্ষার ফলাফল, সিলেবাস ও একাডেমিক রেগুলেশনের হার্ড ও সফট কপি ঢাবি থেকে ডিসিইউ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিতে ডিসিইউর প্রশাসনিক কার্যালয় এবং সাতটি সংযুক্ত কলেজে পৃথক ‘হেল্পডেস্ক’ চালু রাখা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

যেভাবে হবে পরীক্ষা

রোডম্যাপ অনুযায়ী, স্থানান্তরিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সিলেবাস অনুসারেই অনুষ্ঠিত হবে।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। পরীক্ষা শুরু হবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। এ বর্ষের টার্মপেপার মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট কলেজের বিভাগগুলো সম্পন্ন করবে।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণ হবে অক্টোবর ২০২৬-এ। এ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে।

অন্যদিকে, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণ হবে ডিসেম্বর ২০২৬-এ। পরীক্ষা শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।

পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক রুটিন ও চূড়ান্ত তারিখ পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দ্রুত শিক্ষার্থীদের জানানো হবে বলে ডিসিইউর বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে নটর ডেম ও হলিক্রসের বিশেষ শর্ত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজধানীর নটর ডেম কলেজ ও হলিক্রস কলেজ। দুই কলেজেই নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। জিপিএ ও অন্যান্য একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ভর্তিচ্ছুদের জন্য কিছু বিশেষ শর্তও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

এর মধ্যে নটর ডেম কলেজ ধূমপায়ীদের আবেদন না করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে হলিক্রস কলেজ জানিয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নটর ডেম কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, কলেজের আইডি কার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ধূমপায়ীদেরও আবেদন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে হলিক্রস কলেজের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব নিয়ম মানতে অনাগ্রহী বা আপত্তি রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের আবেদন না করার পরামর্শ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি দেওয়া হবে। পাশাপাশি কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম ও শর্তে যাদের আপত্তি রয়েছে, তাদেরও আবেদন না করার জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

গুচ্ছে যুক্ত হতে চায় নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয়, একক ভর্তি পরীক্ষার পথে যবিপ্রবি

 

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এবার ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে গুচ্ছভুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নতুন তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে, গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)।

গুচ্ছে যুক্ত হতে আগ্রহী নতুন তিন বিশ্ববিদ্যালয় হলো—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি এখনো শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করলে শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুচ্ছে আবেদন করবে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রায় দুই দশক আগে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ পাস হয়। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান বলেন, “আমরা এই সপ্তাহেই আবেদন করব। এর আগে ইউজিসির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেব। এজন্য ঢাকা যাচ্ছি।”

ভর্তি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমাদের দেশের ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম খুবই ভালো। তাই গুচ্ছের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে আনুষ্ঠানিকতা ও গতানুগতিক সুবিধা রয়েছে, সেগুলো পেলেই চলবে।”

গুচ্ছে থাকতে চায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের ৫৮তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সীমিত পরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইসরাফিল বলেন, “আমরা অবশ্যই গুচ্ছ ভর্তিতে যুক্ত হতে চাই।”

‘গুচ্ছে যুক্ত হতেই হবে’ মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের

মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনও জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০২৩ সালে। এটি দেশের ৫৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ছিল ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়’। পরে ২০২৫ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হয়।

মেহেরপুর জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন নিয়োগ পান। বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে।

উপাচার্য ড. মো. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “গুচ্ছে যুক্ত হতেই হবে। কারণ আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। যেহেতু কিছুটা সময় আছে, সে অনুযায়ী আবেদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াও চলমান। গতবার আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তাই এবার গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থান পরিদর্শনের কাজ চলছে। একাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য ইউজিসি বিষয় অনুমোদনের প্রক্রিয়াও গ্রহণ করেছে।

শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। সেটির কাজ চলমান। সাবজেক্ট ও ক্লাস প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াও চলছে। এগুলোর অগ্রগতির পর আশা করি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করাতে পারব।”

গুচ্ছ ছাড়ার পথে যবিপ্রবি

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের তাগাদা দিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর প্রতিবছরই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে প্রতিবারই কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বের হয়ে এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যবিপ্রবি গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে এককভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনো সময় ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে।

এখনো চূড়ান্ত হয়নি গুচ্ছের সময়সূচি

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া সামনে রেখে ইতোমধ্যে ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে গুচ্ছভুক্ত সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপাচার্য জানিয়েছেন, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের নিয়ে শিগগিরই সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে, ভর্তি পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রমের দায়িত্ব নেবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “এর আগে একটা মিটিং হয়েছে। সে মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সামনে আরও মিটিং আছে। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে কীভাবে পরীক্ষা হবে এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নেবে।”

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের একটি মিটিং হবে। ওই মিটিংয়ের আগে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে থাকবে বা কবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা মিটিংয়ের পর বলতে পারব।”

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “গুচ্ছ ভর্তি কমিটির মিটিং নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গত বছরের ভর্তি কার্যক্রমের ক্লোজিং হয়েছে কিছুদিন হলো। এবার কোন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে সিদ্ধান্তও হয়নি।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এস্টাবলিশমেন্টের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব পালন করেছে, গতবার দায়িত্বে ছিল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবারও ধারাবাহিকভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী দায়িত্ব যাবে।”

গতবার গুচ্ছে ছিল ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার আওতায় ছিল ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

বিইউপির ভর্তি পরীক্ষা জানুয়ারিতে, ৬ অনুষদের সূচি প্রকাশ

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে ভর্তি পরীক্ষা। ছয়টি অনুষদের পরীক্ষা চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ ও ৯ জানুয়ারি বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২ জানুয়ারি নেওয়া হবে আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদের পরীক্ষা।

এ ছাড়া ৮ জানুয়ারি সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি অনুষদ, মেডিকেল স্ট্যাডিজ অনুষদ এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থাৎ, ছয়টি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা ১, ২, ৮ ও ৯ জানুয়ারি—এই চার দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনের সময়সূচি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। আবেদন শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

খুবির ‘ডি’ ইউনিটে বিভাগভেদে আলাদা সিলেবাসে ভর্তি পরীক্ষা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সিলেবাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বিষয়ের ওপর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. রুমানা হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও গণিত বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।

অধ্যাপক ড. রুমানা হক জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের অধীনে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগভিত্তিক সিলেবাস নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আদলে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সিলেবাস নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে ভর্তি পরীক্ষায় কোন বিষয়ে কত নম্বর থাকবে, সেই মার্ক ডিস্ট্রিবিউশন এখনো চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ডিন অধ্যাপক ড. রুমানা হক।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর

চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। এতে সই করেছেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক।

৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত

নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।

এ ছাড়া মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ এ দুই শ্রেণির জন্য মোট ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে।

তবে সংরক্ষিত কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। সংরক্ষিত আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে তাদের মধ্য থেকেই মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। কোনো কর্মকর্তা নিজেই দপ্তরপ্রধান হলে তার এক ধাপ ওপরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

ভর্তি পরীক্ষা থাকছে না

এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পর শিক্ষার্থীর ফলাফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

নির্ধারিত ফি দিয়ে একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। পরে ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে ভর্তি কার্যক্রম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় হবে। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তনকারীদের সুযোগ

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে, তারাও ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।

যাচাই-বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

তবে নির্ধারিত সময় ও প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষার্থী কলেজ-মাদ্রাসায় ভর্তির সুযোগ না পেলে, প্রত্যাশিত প্রতিষ্ঠান না পেলে কিংবা কোনো কারণে আবেদন করতে না পারলে ২৩ সেপ্টেম্বরের পরও তাদের ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণে ১৩ লাখ আবেদন

এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য চার লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

তবে আসনসংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, অপেক্ষাকৃত ভালো ও জনপ্রিয় কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা সীমিত।

মন্তব্য করুন
×