এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল বদলেছে? একাদশে আবেদনের সুযোগ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলাফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থী এখন নতুন করে একাদশে ভর্তির আবেদন করতে অথবা আগে করা আবেদন পরিমার্জন করতে পারবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত ফলাফলগুলো ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তারা আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর আগে আবেদন করে থাকলে পছন্দক্রমসহ আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। যারা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

মন্তব্য করুন

এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে রেকর্ড আবেদন, বিপাকে শিক্ষা বোর্ড, আসছে নতুন নীতিমালা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা এবার শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগ নয়, বরং পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে— শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণায় খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে এবার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। অনেকেই একাধিক বিষয়ে আবেদন করায় মোট খাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক খাতা নতুন করে দেখা নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

অন্যদিকে, প্রতি খাতার ফি ১৫০ টাকা হিসেবে শিক্ষার্থীদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা। ফি বাবদ এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়কে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক পরিচালক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন:"ফরম পূরণের সময় পরীক্ষা গ্রহণ, খাতা মূল্যায়ন ও ফল তৈরি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও শিক্ষার্থীদের খাতা ঠিকঠাকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তখন যদি কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করতে চায়, তাহলে তাকে ফি দিতে হবে কেন? শুধু সে পুনর্নিরীক্ষণ চায়, এ আগ্রহ জানালেই তো বোর্ড পুনরায় খাতা দেখে তার ফল জানাতে বাধ্য।"

একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থীর মা আরিফা জাহান হেনা,"আমরা তো ফরম পূরণের সঙ্গে সব ফি দিয়েছি। তাহলে আবার কেন ফি দিতে হবে? তাছাড়া পুরো খাতাটা নাকি দেখাও হয় না। তারা যোগ বা বিয়োগ করতে ভুল করে; সেটা সংশোধনে আবার উল্টো আমাদের কাছ থেকেই টাকা নেন। এটা তো জুলুম।"

মাত্র ২৩ দিনের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ খাতা তৃতীয় পরীক্ষক দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে মূল্যায়ন করা শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য একপ্রকার অসম্ভব কাজ। এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের একজন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মূল্যায়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন,"প্রতি বান্ডিল খাতা থেকে র‌্যানডম (দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে) কয়েককটি খাতা নিয়ে দেখে তাতে গরমিল পাওয়া গেলে, বান্ডিলের সব খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে। যদি কোনো বান্ডিলে এমন সমস্যা না হয়, তাহলে শুধু নম্বরের যোগ-বিয়োগ ঠিক করা হবে।"

এদিকে, পুনর্নিরীক্ষণের কারণে একাদশে ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে শিক্ষা বোর্ড। একাদশ শ্রেণিতে সাধারণ ভর্তি আবেদন ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে ভর্তির আবেদনের বিশেষ সুযোগ পাবেন। ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন,"পুনর্নিরীক্ষণে কেউ যদি ফেল থেকে পাস করে, সেদিক বিবেচনায় দুই দিন আবেদনের সুযোগ রেখেছি। তারা একই নিয়মে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। তাদের আবেদন নেওয়ার পর একাদশে ভর্তিতে কে, কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে, সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এতে ভয় বা উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আগ্রহী সবাই ভর্তির সুযোগ পাবে।"

সব মিলিয়ে আবেদনের এই বিশাল স্তূপ দেখে চাপে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এত খাতা পুনর্মূল্যায়ন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য উল্লেখ করে তিনি নতুন নীতিমালার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন,bl"এবার এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এ অবস্থা দেখে মনে হয় প্রায় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। তাই খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; যেন কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, সেগুলোর আওতা নির্দিষ্ট করা যায়।"

মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনার আলোকেই কাজ চলছে বলে জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান,"অসংখ্য খাতা পুনর্নিরীক্ষণে আবেদন এসেছে এবার। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ করছি। পুনর্মূল্যায়ন বলেন বা পুনর্নিরীক্ষণ বলেন, যেটা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, সেটাই আমরা মানছি। এর বাইরে আর কিছু জানানো সম্ভব নয়।"
 

মন্তব্য করুন

মার্চেই এসএসসি পরীক্ষা, পেছানোর সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী

এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রমজান, মৌসুমি বৃষ্টি-বন্যা এবং পরবর্তী এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বিবেচনা করেই পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের পর তা মার্চে পিছিয়ে যাওয়ার কারণ এবং পরীক্ষা আরও পেছানোর সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এক হাজারের বেশি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। তারা রোজার আগেই, ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলেন। সেই দিক বিবেচনা করে আমরা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসের একটি সম্ভাব্য সময় ধরেছিলাম।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ১০ মার্চ তা শেষ হবে। একই সঙ্গে মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রথমে এসএসসি, এরপর এইচএসসি এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা—সবকিছুর সঙ্গে সমন্বয় করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।’

তার ভাষ্য, সবদিক বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি মাসকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় মনে করা হয়েছিল। তবে রমজানের কারণে ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে রোজা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরীক্ষা আরও পেছানোর সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘তবে পরীক্ষা পেছানোর আর কোনো কারণ নেই।’

এর আগে চীন সফর শেষে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে পাঁচটি বড় অর্জনের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীন সফর করে। প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ছিলেন।

সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বা টিভেট ব্যবস্থার মডেল ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। পাশাপাশি টিভেট খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সফরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নবম পে স্কেল, প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবারের মধ্যে

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন গ্রেড ও বেতন বৃদ্ধির হার কত হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নবম পে স্কেল নিয়ে গত দুদিন ধরে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এসব সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠক সংসদ ভবনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার করার সুপারিশ

নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কমিশনের হিসাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলেও তখন হিসাব দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার কত রাখা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সচিব কমিটির সুপারিশ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।

গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

ই-বুকে বলা হয়েছে, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে এবং সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সচিবালয়ের তিন সাপ, আতঙ্ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে

বাংলাদেশ সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপ পাওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯তম তলায় প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি সাপের দেখা মেলে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কার্যালয়ও রয়েছে ওই তলায়। উঁচু ভবনের করিডোরে একসঙ্গে তিনটি সাপের উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক বলেন, ‘করিডোরে সাপের বিষয়টি শুনেছি। সত্য ঘটনা।’

মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা জানান, করিডোর ছাড়াও ভবনের স্টোরেজ কিংবা অন্য কোনো স্থানে আরও সাপ থাকতে পারে। এ আশঙ্কায় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

পরে করিডোরে পাওয়া তিনটি সাপই মেরে ফেলা হয়। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

মাদ্রাসার এমপিও শিক্ষকদের বদলির আবেদন নেওয়ার নির্দেশ

বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এ আবেদন গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকা থেকে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে নির্ধারিত ছকে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, বর্তমান পদের প্রথম ও সর্বশেষ এমপিও কপি, বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানপত্র এবং কর্মস্থলের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর পাঠাতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান অগ্রায়নপত্রের মাধ্যমে আবেদন ফরোয়ার্ড করবেন এবং এর একটি অনুলিপি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করবেন।

বদলির আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর চাকরি পূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি সংক্রান্ত নীতিমালার সব শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

তবে কোনো শিক্ষকের এমপিও স্থগিত থাকলে, তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বদলির আবেদন ফরোয়ার্ড করা যাবে না।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মিত বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন
×