মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও এখনো নিয়োগপত্র পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জুয়েল ইসলাম। ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করলেও দ্বিতীয় দফায় অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পেলেও তার নামে এখনো নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।

জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আমি পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করি। অনেকে চাকরিতে যোগদান করলেও আমি এখনো নিয়োগপত্র পাইনি।’

নিজের পারিবারিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার একটি নিম্নবিত্ত পরিবার। আমাদের সম্পদ বলতে বাড়ির জায়গা ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া পরিবারের আয়ের কোনো উপায় নেই। আমার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে।’

জুয়েল আরও বলেন, ‘আমরা তিন ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে এসে ঢাকায় পড়াশোনা করা অসম্ভব। কিন্তু আমার পরিবারের সহায়তায় আমরা চেষ্টা করেছি। কী এক অজানা কারণে আমার নাম তালিকায় আসছে না। বিষয়টি জানতে বারবার জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেছি। তবে সেখান থেকে আমাকে সঠিক কারণ জানানো হয়নি।’

কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়োগের সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাই, দয়া করে আমাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুযোগ দেন। আমার খেটে খাওয়া পরিবারের জন্য হলেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বৃহস্পতিবার যোগদানের কথা ছিল। তবে সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ পরে নিয়োগপত্র পেলেও এখনো অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তখনো ৮১৭ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই বাকি ছিল।

মন্ত্রী জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ কারণে নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে তাদের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা যাচাই শেষে নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও জানান তিনি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলার কথা ছিল। এরপর চূড়ান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের কথা বলা হয়েছিল।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজ ইচ্ছায় আবেদন করেননি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৫৪ জনে। এসব প্রার্থীর মধ্যেও এখনো অনেকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পাননি।

মন্তব্য করুন

গণতন্ত্রের প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার (১৬ নভেম্বর) প্রেস ক্লাবে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, দেশে রাজনীতি বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমান সময়টা জটিল সংকটে পড়েছে।

ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও কিছু গোষ্ঠি রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তাই সকল রাজনৈতিক দলকে দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নেই, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এটি সমাধান সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আসন্ন গণহত্যার রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের চিন্তা করেছিলেন, যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি। বিএনপির প্রতি তার দায়বদ্ধতা রয়েছে, কারণ তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

অপ্রতীম হত্যার পর কুবি শিক্ষকের পরিবারকে ফোনে গালিগালাজ-হুমকি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামীণফোনের একটি নম্বর থেকে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করা হয়। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পরই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ফোন কেটে দিলে ওই নম্বর থেকে বারবার কল আসতে থাকে। পরে নম্বরটি ব্লক করে দেন তিনি।

এরপর এয়ারটেল (সার্কেল) অপারেটরের আরেকটি নম্বর থেকেও তাকে একাধিকবার কল করা হয়। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে নম্বর দুটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু-কলারে নম্বর দুটি ‘রাসেল স্টোর’ ও ‘মোহাম্মদ আলি’ নামে সংরক্ষিত দেখা যায়।

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। তাকে আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, সেটি আমরা জানি না। আমাদের মধ্যেও শঙ্কা কাজ করছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন ফোন করে খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার পর আসামিরাই আমার সঙ্গে এসে ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের নেতৃত্বদানকারীরা যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা ব্যবস্থা না হলে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?’

নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে অভিযান চালানোর পর সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা হলেন—মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)।

মন্তব্য করুন

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর এ ভাষণে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, জাতীয় ঐক্য গঠন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

জাতীয় পর্যায়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

মন্তব্য করুন

৫ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত ছুটি কাটাবে শিক্ষার্থীরা

পূজায় স্কুলে ছুটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবের আমেজ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির মেয়াদে পার্থক্য রয়েছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। পূজার ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি কিংবা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। কেউ কেউ স্থানীয় পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ছুটি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। ছুটি শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রাথমিকে টানা ১০ দিনের ছুটি
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি ও লক্ষ্মীপূজার ছুটি যুক্ত হওয়ায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা টানা ১০ দিনের ছুটি ভোগের সুযোগ পাবে।
মাধ্যমিকে ১০ দিনের ছুটি
মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটি যুক্ত হওয়ায় এ স্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টানা ১০ দিনের ছুটি হবে।
কলেজে ছুটি ১৬ দিন
সরকারি ও বেসরকারি কলেজে দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনের ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ও পরে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মোট ১৬ দিনের ছুটি পাবেন।
মাদ্রাসায় ছুটি পাঁচ দিন
সরকারি-বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন হতে পারে ছুটির মেয়াদ
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে পূজার ছুটির জন্য একই মেয়াদ প্রযোজ্য নয়। স্বায়ত্তশাসিত এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পূজার ছুটির দিনসংখ্যায় পার্থক্য থাকতে পারে। এদিকে পূজার ছুটিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ##

মন্তব্য করুন

নজরুলের সাহিত্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা দেয়: ঢাবি উপাচার্য

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়, বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও পাওয়া যায়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই কবির জীবন ও কর্ম অনুসরণ করে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন। কবির সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। স্মারক বক্তৃতা দেন নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’য় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিকের বইয়ে যুক্ত ‘রাতের ভোট’; সাহিত্য-কণিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ

রাতের ভোট
রাতের ভোট

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আলোচিত ‘রাতের ভোট’ প্রসঙ্গটি এবার যুক্ত হচ্ছে নবম–দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে। ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ নামে নতুন সংযোজিত অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট পূরণ এবং ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার নীলনকশা করেছিল; যা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

অন্যদিকে অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে বাদ যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে এই ভাষণ পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়; অষ্টম শ্রেণির বইয়ে এটি ছিল ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে।

পাঠ্যবইয়ের নতুন ভাষ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে—দমনমূলক শাসন যত শক্তিশালী হোক, ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠা জনপ্রতিরোধের কাছে পরাজয় অনিবার্য।

২০২৬ সালের বইয়ে পতিত সরকারের অনিয়ম–দুর্নীতির বিবরণও যুক্ত হচ্ছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—শেখ হাসিনার ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কমিশনের তথ্যমতে, গত ১৬ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশে একটি ‘চোরতন্ত্র’ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

বইয়ের নতুন অংশে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ফলে বাকশাল গঠনের কথা, জিয়াউর রহমানের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরাবির্ভাব, এরশাদের ক্ষমতা দখল ও পরবর্তী গণআন্দোলনও বর্ণনা করা হয়েছে। নুর হোসেন, জেহাদ, ডা. মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের প্রসঙ্গ এবং ১৯৯০ সালে এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনও এতে রয়েছে।

আরেক অংশে বলা হয়েছে—২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন, প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—এসবই নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে বইতে লেখা হয়েছে—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার পর উত্তেজনা বাড়ে। পরদিন রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল শান্তসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত বল প্রয়োগে শত শত মানুষ নিহত হয়। দমননীতি বাড়তে থাকলে জনসম্পৃক্ততাও বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশত্যাগ করেন—এ তথ্যও বইতে স্থান পেয়েছে।

বইয়ে আন্দোলনের দুই বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—
১) নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণ,
২) সারাদেশে দেয়ালে–দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি; যেখানে অধিকার, ইনসাফ, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে মানবিকতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা উঠে এসেছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে আসার পর ২০২৫ সালের মতো ২০২৬ সালের বইয়েও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সব শ্রেণির বইয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকছে। মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযোজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×