পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২০২৭ সালের ২৭ মে’র মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
ইউপি নির্বাচনের তফসিল কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে না। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। নির্বাচন কমিশন শুধু নির্বাচনের ধাপ ও তারিখ জানিয়ে দেবে।
এদিকে, গত সেপ্টেম্বরে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬’-এর সংশোধিত চূড়ান্ত গেজেটে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালার গেজেটে গত বৃহস্পতিবার ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করেন। পরে বুধবার এটি প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।
জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে তাঁর জামানত ফেরত দেওয়া হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এ ছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে অর্থ গ্রহণ না করলে তা অফেরতযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব খোলার বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে খরচ করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন-পূর্ব প্রচারণাসহ সব ধরনের নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিমালার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিধিমালার পরিপন্থি কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।