ধর্ম-বর্ণ নয়, সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় যেন কোনো নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এমন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে টানা পাঁচ দিন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানান।

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান তিনি। দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজায় ৫ কোটি, বৌদ্ধ উৎসবে ৩ কোটি টাকা

মতবিনিময় সভা শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা চাওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তি: ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে এসেছে, যা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। কমিশন এই প্রস্তাবটি তাদের ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এই লক্ষ্যে, কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নামে গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয় যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে 'জুলাই সনদ ২০২৫' প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এখন কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক-এ উল্লিখিত বিধান—যা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়সহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনসমূহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করে—সেই অনুচ্ছেদটি বিলুপ্তির প্রস্তাব সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলগুলোর করণীয়: চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১১ অক্টোবর শনিবার বিকেল চারটার মধ্যে তাদের লিখিত মতামত কমিশন বরাবর, অথবা কমিশনের নির্দিষ্ট ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন থেকে আরও তথ্য জানার জন্যও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

দলীয় প্রতিক্রিয়া: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান কমিশন থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানান যে এ বিষয়ে এখনো কোনো মতামত পাঠাননি।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে 'জাতির পিতার প্রতিকৃতি' শিরোনামে অনুচ্ছেদ ৪ক যুক্ত হয়, যা নির্দিষ্ট স্থানে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

মন্তব্য করুন

পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান ঢাবি অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া (ইমন)।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন নিয়োগ

এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। তাঁর পদত্যাগের পর চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের পর এবার পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া।

মন্তব্য করুন

হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, একদিনে শনাক্ত ১,৩৯৩

দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে হাম আক্রান্ত হিসেবে মোট ১ হাজার ৩৯৩ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগী ১ হাজার ২৯১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগী ১০২ জন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৩ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৯১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১ হাজার ২৯১ জন হাম উপসর্গের রোগীসহ এ সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে, এ সময়ে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৯০ শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হওয়ায় গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ রোগে উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২ জনে।

মন্তব্য করুন

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রেস ক্লাবের সামনে অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

অটোরিকশাচালকদের দাবি, ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছেন না তারা। ফলে গাড়ি চালাতে না পারায় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

যান চলাচলে ভোগান্তি

অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধের কারণে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আশপাশের সড়কেও তৈরি হয়েছে যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা। হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তাদের কর্মজীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এদিকে, বর্তমানে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করছেন অটোরিকশাচালকরা।

মন্তব্য করুন

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যিনি হাসপাতালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করেন। গাড়িচালকের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খবর পেয়ে মাজহারুল ইসলামসহ ঘনিষ্ঠজনরা যান।

চিকিৎসকেরা জানান যে তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল। এরপর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্টিং করা (রিং পরানো) হয়।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ও লাইফ সাপোর্ট

শনিবার থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তাঁর অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। অবশেষে, আজ বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন

লাওসে বাংলাদেশিদের শ্রমিক নিয়োগ ও ভিসা স্থগিত

বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দেশটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

লাওসে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার প্রলোভনে পড়ে কাউকে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুমোদন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।

একই নির্দেশনার আওতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রমিক শ্রেণির ভিসা ইস্যুও বন্ধ রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা ইস্যু স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।দেশি পোশাক বাছুন

এই পরিস্থিতিতে লাওসে কাজের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ভুয়া ভিসা, কাল্পনিক চাকরির প্রস্তাব এবং অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার বিষয়ে অর্থ প্রদান কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা উচিত। অনুমোদিত নয়—এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাওসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দেশটির সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।

মন্তব্য করুন
×