আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অবসরভাতা না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ৮৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

অবসরে যাওয়া শিক্ষক
অবসরে যাওয়া শিক্ষক

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৮ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী চার বছর ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিয়মিত চাঁদা দেওয়া সত্ত্বেও অবসরের পর তারা প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবসরের ছয় মাসের মধ্যে ভাতা পরিশোধ করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা বাস্তবায়ন করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট জানিয়েছে, জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তিতে এখনই প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি সরকার দিয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা—যার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা বন্ড আকারে অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং ২০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও সংকট নিরসন হবে না। বর্তমানে একটি আবেদন নিষ্পন্ন হতে গড়ে আড়াই বছর সময় লেগে যাচ্ছে।

এদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে চলছেন, আবার অনেকে টাকা না পেয়ে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা প্রাপ্য পাওয়ার জন্য ছুটছেন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও সমাজে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। তরুণ প্রজন্মও শিক্ষা পেশায় আগ্রহ হারাতে পারে। তাদের মতে, শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করাতেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের হিসাবে, বর্তমানে ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন, যার জন্য প্রয়োজন ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে ৪২ হাজার ৬০০ আবেদন জমে আছে, যা নিষ্পত্তি করতে লাগবে প্রায় ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। অথচ বোর্ডের মাসিক চাহিদা ৬৫ কোটি টাকা হলেও জমা হয় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

চাকরিকালে কাটা টাকা

অবসর সুবিধার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬% এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪% টাকা কেটে রাখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে—এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য। অর্থাৎ, চাকরিকালে নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পেতে এখন বছরের পর বছর ধরনা দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

সমাধানের দাবি

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট সমাধানে প্রয়োজন এককালীন বিশেষ বরাদ্দ। নাহলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতেই থাকবে।


 

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল বদলেছে? একাদশে আবেদনের সুযোগ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলাফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থী এখন নতুন করে একাদশে ভর্তির আবেদন করতে অথবা আগে করা আবেদন পরিমার্জন করতে পারবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত ফলাফলগুলো ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তারা আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর আগে আবেদন করে থাকলে পছন্দক্রমসহ আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। যারা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

মন্তব্য করুন

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিও শিক্ষকদের কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষক-কর্মচারীদের এ জন্য সশরীরে বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

একই সঙ্গে অবসর সুবিধার অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারক চক্রের খপ্পরে না পড়তে শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করেছে বোর্ড।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ আগস্ট থেকে পাঠানো অবসর সুবিধা ভাতার আবেদনকারীদের মধ্যে যারা এখনো ভাতা পাননি, শুধু তাদেরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সশরীরে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে এসব কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

আবেদনকারীদের আবেদনের রিসিটের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।

ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠাতে হবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের ঠিকানায়। পাশাপাশি শাখাভিত্তিক ই-মেইলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে। স্কুল শাখার জন্য school.terbb@gmail.com, কলেজ ও কারিগরি শাখার জন্য college.terbb@gmail.com এবং মাদ্রাসা শাখার জন্য madrasha.terbb@gmail.com ঠিকানায় কাগজপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিজ্ঞপ্তিতে অবসর সুবিধাপ্রত্যাশী শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে আইবাস++ অথবা ইএফটির মাধ্যমে অবসর সুবিধার অর্থ পৌঁছে যাবে। তাই এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া অবসর সুবিধা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ এবং অনলাইন আবেদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বোর্ডের নির্ধারিত মাধ্যম থেকে এসব তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সফটওয়্যারে সমস্যা নেই, তবুও আটকে এমপিও শিক্ষকদের বদলির ফল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি সফটওয়্যারে জটিলতার কথা বলা হলেও বাস্তবে সফটওয়্যারে কোনো সমস্যা নেই বলে জানা গেছে। সফটওয়্যারে জটিলতা না থাকার পরও বদলির ফল প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদলির ফল প্রকাশে বিলম্বের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বদলির আবেদন করা শিক্ষকদের আবেদন সম্পাদনার (এডিট) সুযোগ চালু, আবেদন বাতিলের সুযোগ চাওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে শিক্ষকদের ঢাকায় বদলি হওয়ার আগ্রহই বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক সূত্র জানায়, বদলির জন্য আবেদন করা অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসতে আগ্রহী। তাদের কেউ কেউ স্বামী বা স্ত্রীর (স্পাউজ) কর্মস্থল ঢাকায় দেখিয়ে বদলির আবেদন করেছেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ঢাকায় চলে এলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়টিও বদলির ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বদলি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষক সম্পৃক্ত থাকেন। এ সময়ে তাদের বদলি করা হলে নির্বাচনী কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আপাতত বদলির ফল প্রকাশে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের আবেদন বাতিলের সুযোগ দেওয়া কিংবা আবেদন সম্পাদনার (এডিট) অপশন চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের মাধ্যমে বদলির ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ না করার পেছনে একেক সময় একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। এসব সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা সম্ভব। তবে কেন করা হচ্ছে না, সেটি আসলে বোধগম্য নয়।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বদলি না হওয়ার কারণে শিক্ষকরা কষ্টে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত অনেক শিক্ষক ফোন করে তাদের কষ্টের কথা আমাদের জানান। আমরাও চাই দ্রুত বদলির ফল প্রকাশিত হোক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন।”

এদিকে শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় সংসদে সভা থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সভায় রয়েছেন বলে জানানো হয়।

এ অবস্থায় বদলির সফটওয়্যারে কোনো জটিলতা না থাকলেও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বদলির ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

চিকিৎসা ভাতা ৫০০, বাড়ি ভাড়া ১৫ শতাংশ সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বড় ব্যবধান

এমপিও শিক্ষকদের ভাতা বৈষম্য নিয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ও বাড়ি ভাড়া ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈষম্য রয়েছে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০০ টাকা এবং মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পান। বিপরীতে সরকারি স্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন। বাড়ি ভাড়াতেও রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান।

এ পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা বৈষম্য দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় তাকে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পান। এ ছাড়া তাদের অন্যান্য ভাতা সুবিধাও সীমিত। অন্যদিকে সরকারি হাইস্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাতা হিসেবে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।

এই বৈষম্য দূর করতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না—জানতে চাইলে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

নবম পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

এদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নবম পে-স্কেলের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এটি কার্যকর করতে পৃথক গেজেট জারি করতে হবে।

এখনও সেই গেজেট জারি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী।

এ বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আরেকটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

মন্তব্য করুন

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিতে সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব

 

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বাড়বে সরকারি বরাদ্দ

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নয়নের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দও বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমাতে জাতীয় প্রতিযোগিতা

বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য দূর করার বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’-এর মতো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে।

এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, ‘কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম তৈরির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিভাগ ও জেলায় চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’

বেকারত্ব কমিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মাহদী আমিন বলেন, বেসরকারি খাতকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাসস

মন্তব্য করুন
×