বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করবে মাউশি

৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাউশি জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

গঠন হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য মাউশির মহাপরিচালক একটি প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করেছেন।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচন করা হবে।

যেসব শর্ত মানতে হবে

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই পত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা অফিস আদেশসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণক জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময় বাড়ল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদনের পূর্বনির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। শিক্ষকদের অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন

এসএসসি ২০২৬ পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের পাশাপাশি পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। একই সময়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।

শিক্ষার্থীদের ফলাফল জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলও বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

ফল প্রকাশের সময়: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা
ফল পাওয়া যাবে: সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে
এসএমএস: পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে

মন্তব্য করুন

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নবম পে স্কেল, প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবারের মধ্যে

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেল আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মিললে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন গ্রেড ও বেতন বৃদ্ধির হার কত হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নবম পে স্কেল নিয়ে গত দুদিন ধরে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এসব সভায় খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠক সংসদ ভবনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার করার সুপারিশ

নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কমিশনের হিসাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলেও তখন হিসাব দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার কত রাখা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সচিব কমিটির সুপারিশ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।

গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

ই-বুকে বলা হয়েছে, ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে এবং সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

২০০০ বিধিতে আত্তীকৃত ২২৭ প্রভাষকের খসড়া তালিকা প্রকাশ

২০০০ বিধিতে আত্তীকৃত প্রভাষক পর্যায়ের ২২৭ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০০০ বিধিতে আত্তীকৃত প্রভাষক পর্যায়ের শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে তাদের চাকরিসংক্রান্ত সার্বিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়ভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত করা এ খসড়া তালিকা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

খসড়া তালিকায় কোনো শিক্ষকের নামের পাশে মন্তব্য কলামে এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) সংক্রান্ত মন্তব্য থাকলে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই মন্তব্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণক উপপরিচালক (কলেজ-১)-এর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এসিআর সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া বর্তমান কর্মস্থল, নিয়োগ ও যোগদানের তারিখ, জন্মতারিখ, নিজ জেলা ইত্যাদি তথ্যের কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য আবেদন করা যাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার পরও খসড়া তালিকায় কোনো শিক্ষকের নাম না থাকলে তাকেও আবেদনপত্র ও প্রামাণ্য কাগজপত্র আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ddgovtcollege@gmail.com ঠিকানায় পাঠাতে হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়োগ, যোগদান, নিয়মিতকরণ, বিভাগীয় পরীক্ষা ও বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য হালনাগাদের পর অধ্যক্ষের মাধ্যমে পিডিএস (পার্সোনাল ডাটা শিট) অনুমোদন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রমাণক জমা দিতে হবে। পরবর্তী কার্যক্রমে এসব তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

৫৪ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করা এবং শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে।

তৈরি হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য চার বিষয়ের দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে একটি বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে মাউশির মহাপরিচালক কর্তৃক প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বাছাই করে মাস্টার ট্রেইনার পুল প্রস্তুত করা হবে।

আবেদনে যেসব শর্ত

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই অগ্রায়ণপত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা প্রযোজ্য অন্যান্য সনদ ও অফিস আদেশ থাকলে সেগুলোর প্রমাণকও দাখিল করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর

মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত অনলাইন লিংকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠনের পর তাদের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

প্রধান-সহকারী প্রধান নিয়োগে থাকছে না কমিটির কর্তৃত্ব; এনটিআরসিএর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগে ক্ষমতা বহাল

ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা কমছে, সভাপতি পদে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির হাতে না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশকৃত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষমতা বহাল রাখা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে। পাশাপাশি এনটিআরসিএর সুপারিশকৃত বা প্রত্যয়নকৃত নতুন শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতাও কমিটির হাতে থাকবে।

তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতো ম্যানেজিং কমিটির কর্তৃত্ব থাকছে না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকলেও প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় সেই কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সভাপতি মনোনয়নে ফিরছে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

কমিটির ক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে।

অর্থাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি অন্য যোগ্য ব্যক্তিদেরও সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে জনপ্রতিনিধিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধিত প্রবিধানমালায় সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ রাখা হয়নি। তখন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে; তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম আসলে অন্যদের এ পদে বসার সুযোগ কম।’

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামোয় একদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা কমবে, অন্যদিকে সভাপতি মনোনয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

মন্তব্য করুন
×