নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুতে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ, জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

সচিবালয়ের তিন সাপ, আতঙ্ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে

বাংলাদেশ সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপ পাওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯তম তলায় প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি সাপের দেখা মেলে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কার্যালয়ও রয়েছে ওই তলায়। উঁচু ভবনের করিডোরে একসঙ্গে তিনটি সাপের উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক বলেন, ‘করিডোরে সাপের বিষয়টি শুনেছি। সত্য ঘটনা।’

মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা জানান, করিডোর ছাড়াও ভবনের স্টোরেজ কিংবা অন্য কোনো স্থানে আরও সাপ থাকতে পারে। এ আশঙ্কায় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

পরে করিডোরে পাওয়া তিনটি সাপই মেরে ফেলা হয়। তবে সাপগুলো কোন প্রজাতির, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন—বরগুনা জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের গভ. মুসলিম হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) মোহাম্মদ ওসমান গনি, ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান খান এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মাহফুজা খানম।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট চার শিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ অব্যাহতি দুটি শর্তের অধীনে কার্যকর হবে।

শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তাদের নামে কোনো সরকারি পাওনা উদঘাটিত হলে তা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন এবং চাকরির নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় তারা কোনো ধরনের আর্থিক বা অনার্থিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

এর মধ্যে পেনশন, আনুতোষিকসহ চাকরিসংক্রান্ত অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও প্রযোজ্য হবে না বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

'এখন ১০ শতাংশ নয়, শিক্ষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান'

পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষক নেতাদের সময়মতো দাবি ও হিসাব-নিকাশ পেশ না করার কারণে চলতি বাজেটে বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, "এখন ১০ শতাংশ নয়, পরের বাজেটে বাড়ানো যেতে পারে।"

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সময়মতো প্রস্তাব না দেওয়ায় বরাদ্দ কম

অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষক নেতারা যদি প্রাথমিক হিসাবটা আগেভাগে মন্ত্রণালয়ে দিতেন, তবে বাজেট ঘোষণার আগেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো যেত। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য এবং সময়মতো প্রস্তাব গেলে এখনকার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হতো।

তবে, বর্তমানে যেখানে অর্থের সংস্থান নেই, সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

 

পরের বাজেটে বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার আগামী বছরের বাজেটে কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে। তিনি শিক্ষক নেতাদের ধৈর্য ধরার এবং আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করছি, কিন্তু তাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।"

 

শিক্ষক নেতারা রাজি নন

অধ্যাপক আবরার জানান, শিক্ষক নেতারা সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এখনই ১০ শতাংশ এবং সামনের বছর আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবে, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তারা তাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, "সংস্থান থাকলে আমরা এখনই দিতাম। কিন্তু বাস্তবতায় অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে।" শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেন তিনি।

 

পে-কমিশনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আবরার নতুন পে-কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠন করেছে, যার প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পে কমিশনের রিপোর্টে ৫০, ৭০ বা এমনকি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

 

ভবিষ্যতের জন্য 'থোক বরাদ্দ' থেকে মুক্তি

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, তারা বর্তমানে 'থোক বরাদ্দ' থেকে শতকরা হারে ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে যাচ্ছেন, যা একটি বড় অগ্রগতি। কারণ ভবিষ্যতে মূল বেতন বাড়লে সেই অনুপাতে বাড়ি ভাড়াও বাড়বে।

তিনি শিক্ষক নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ভবিষ্যৎ সরকার 'থোক বরাদ্দ' পদ্ধতিতেই থেকে যেতে পারে, যা শিক্ষকদের জন্য লাভজনক হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে, কিন্তু বর্তমানে সময় ও অর্থ দুটোই সীমিত। তিনি শিক্ষক নেতাদের এই সুযোগ না হারানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের বেতন বাড়বে দ্বিগুণ, যেভাবে হবে কার্যকর

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা কার্যকর করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এ জন্য গেজেট প্রকাশের পর চারটি প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে একটি চিঠি দেওয়া হবে। ওই চিঠিতে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা হিসাব করে জানাতে বলা হবে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর মাউশি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করবে। এটি হবে দ্বিতীয় ধাপ। পরে ওই সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তৃতীয় ধাপে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পৃথক দুটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়ের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চাওয়া হবে এসব চিঠিতে।

সবশেষে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি জানিয়ে দুই বিভাগে চিঠি পাঠাবে। এই অনুমোদন পাওয়ার পরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা পে-স্কেলের গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছি। গেজেট জারির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মাউশিকে চিঠি পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে দ্রুত গেজেট জারি করে শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।’

কার বেতন কত হতে পারে

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে—

  • চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষ: বর্তমানে মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় হবে ১ লাখ টাকা।

  • ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক: বর্তমান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭১ হাজার টাকা।

  • সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক: বর্তমান ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৫৮ হাজার টাকা।

  • নবম গ্রেডের প্রভাষক: বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা।

  • দশম গ্রেডের বিএডধারী শিক্ষক: বর্তমান মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৩২ হাজার টাকা।

  • একাদশ গ্রেডের সহকারী শিক্ষক: বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২৫ হাজার টাকা।

  • ষোড়শ গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর: বর্তমান ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

  • অষ্টাদশ গ্রেডের ল্যাব সহকারী: বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২১ হাজার টাকা।

  • বিংশ গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া: বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন পাওয়া যায়। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মন্তব্য করুন
×