ইউনিসেফে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, আছে স্টাইপেন্ড

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ৬ থেকে ২৬ সপ্তাহ মেয়াদি ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। বিশ্বের যেকোনো দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা এসব ইন্টার্নশিপে আবেদন করতে পারবেন।

ইন্টার্নশিপের আবেদন করার শেষ সময় পদভেদে ভিন্ন। তাই আগ্রহী প্রার্থীদের যে পদের জন্য আবেদন করবেন, সেই পদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে।

ইন্টার্নশিপে যেসব সুবিধা

ইন্টার্নশিপের ধরন ও কর্মস্থল অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। নির্বাচিত ইন্টার্নদের মাসিক স্টাইপেন্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ এবং ভিসা ও যাতায়াত খরচের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হতে পারে।

আবেদনের যোগ্যতা

ইউনিসেফের ইন্টার্নশিপে আবেদন করতে প্রার্থীদের—

  • কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে;

  • স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে অথবা গত দুই বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে;

  • ইংরেজি অথবা ফরাসি ভাষায় দক্ষ হতে হবে;

  • কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে;

  • বিভিন্ন পরিবেশে দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে;

  • ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, সব একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশিট এবং কভার লেটার জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন যেভাবে

ইউনিসেফের বিভিন্ন দপ্তর ও কার্যক্রমে ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট ইন্টার্নশিপের বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগ্যতা, কর্মস্থল, সুযোগ-সুবিধা ও আবেদনের শেষ তারিখ জেনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ, আবেদন শেষ যেসব তারিখে

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে টিউশন ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ নানা খরচের কারণে অনেকের জন্য সেই স্বপ্ন পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ হতে পারে বড় সহায়তা। এসব বৃত্তির আওতায় শুধু টিউশন ফি নয়, অনেক ক্ষেত্রে মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ও গবেষণার খরচও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এমন স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন চারটি স্কলারশিপ সম্পর্কে—

১. সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড (সিঙ্গা)

সিঙ্গাপুর সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হলো ‘সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ বা সিঙ্গা। এর আওতায় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে।

এই স্কলারশিপের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে বিনা মূল্যে পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬।

বিস্তারিত: Singapore International Graduate Award (SINGA)

২. নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হলো নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

স্কলারশিপটি সাধারণত সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত একাডেমিক খরচ বহন করে। তবে একাধিক বা যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রামে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হোম ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত বা সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬।

বিস্তারিত: Knight-Hennessy Scholars—Stanford University

৩. এডিবি-জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় এডিবি-জেএসপি (Asian Development Bank–Japan Scholarship Program)। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মেধাবী তরুণ ও পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

স্কলারশিপের আওতায় পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ও আবাসন ভাতা, বই ও শিক্ষা উপকরণ, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ব্যয় এবং গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে এ স্কলারশিপের আবেদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনটেকভেদে সময়সীমা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনের সময়: অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন।

বিস্তারিত: ADB–Japan Scholarship Program

৪. ব্রিটিশ শেভেনিং স্কলারশিপ

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি করার সুযোগ দেয় ব্রিটিশ সরকারের বহুল পরিচিত শেভেনিং স্কলারশিপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হয়।

আবেদনকারীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা এবং নিজ দেশ ও সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শেভেনিং স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ভাতা, যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের খরচসহ নির্ধারিত অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয়।

আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬।

বিস্তারিত: Chevening Scholarship—Application Timeline

আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন

স্কলারশিপের সুযোগ থাকলেই আবেদন করলেই হবে না। প্রতিটি প্রোগ্রামের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ফলাফল, ভাষাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের সময়সীমা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে আবেদনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

মন্তব্য করুন

যুক্তরাজ্যে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ, কমনওয়েলথ স্কলারশিপে আবেদন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৯ সালে এ স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ডিএফআইডির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)

যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৩০টি নিবন্ধিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।

যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকছে

কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে।

  • যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের জন্য বিমান টিকিট দেওয়া হবে।

  • আবাসন সুবিধার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৬ টাকা

  • লন্ডন মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার পাউন্ড ভাতা পাবেন।

  • শিক্ষাসফরের জন্য নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে।

  • পোশাক কেনার জন্য ভাতা দেওয়া হবে।

  • শিক্ষার্থীর স্বামী/স্ত্রী এবং ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত পরিবার ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ ভাতার পরিমাণ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে।

  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।

আবেদনকারীর যোগ্যতা

এ স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কমনওয়েলথভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায়ে কমপক্ষে আপার সেকেন্ড-ক্লাস (২.১) ডিগ্রি থাকতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মাস্টার্সসহ লোয়ার সেকেন্ড-ক্লাস ডিগ্রিও গ্রহণযোগ্য।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে পড়াশোনা শুরু করার জন্য আবেদনকারীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হবে।

পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—

  • অফিসিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

  • কমপক্ষে দুইজনের রেফারেন্স লেটার

  • মোটিভেশন লেটার বা গবেষণা প্রস্তাবনা

  • পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুক্তরাজ্যের সুপারভাইজারের সমর্থনপত্র

আবেদনের শেষ সময় ও পদ্ধতি

আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬।

আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশি বিসিএস কর্মকর্তাদের জাপানে মাস্টার্সের সুযোগ

বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জাপানে মাস্টার্স করার সুযোগ দিচ্ছে দেশটির সরকার। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষে জাপান–আইএমএফ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম ফর এশিয়া (জেআইএসপিএ)-এর আওতায় নির্বাচিত কর্মকর্তারা জাপানের নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স কোর্সে পড়ার সুযোগ পাবেন। আগ্রহী কর্মকর্তাদের আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

যেসব কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন

এই বৃত্তির জন্য বাংলাদেশের নাগরিক এবং কর্মক্ষেত্রে আর্থিক, বাণিজ্যিক, ব্যাংকিং অথবা পরিসংখ্যানসংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো—

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;

  • সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে;

  • কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে;

  • ন্যূনতম দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে;

  • আগে কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা থাকলে আবেদন করা যাবে না।

মানতে হবে উচ্চশিক্ষা নীতিমালা

জেআইএসপিএ স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।

নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আগ্রহী কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ২০ অক্টোবর ২০২৬

মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি, মাসিক ভাতা ও বিমানভাড়াসহ নানা সুবিধা

থাইল্যান্ডে ফুল-ফান্ডেড মাস্টার্স-পিএইচডি, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের জানুয়ারি ইনটেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের সুযোগ দিচ্ছে থাইল্যান্ডের সিরিনধর্ন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (SIIT)। ‘এসআইআইটি গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

থাইল্যান্ডের থাম্মাসাত ইউনিভার্সিটির অধীনে ১৯৯২ সালে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে SIIT। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামসহ নানা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্কলারশিপে যেসব সুবিধা

  • মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ;

  • গবেষণা ও থিসিসের জন্য পূর্ণ সহায়তা;

  • প্রতি মাসে ১০ হাজার থাই বাথ ভাতা;

  • ইকোনমি ক্লাসে রাউন্ড ট্রিপ বিমান টিকিটের খরচ;

  • ভিসা, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য খরচের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার বাথ অতিরিক্ত সহায়তা।

আবেদনের যোগ্যতা

  • যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন;

  • SIIT-এ দেওয়া প্রোগ্রামগুলোর যেকোনো একটিতে পড়াশোনার আগ্রহ থাকতে হবে;

  • আগের একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে;

  • দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে;

  • শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে;

  • বর্তমানে অন্য কোনো স্কলারশিপ বা গ্রান্ট গ্রহণ করলে আবেদন করা যাবে না।

যেসব নথি লাগবে

আবেদনের সময় জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক ছবি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) এবং দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণাপত্র বা প্রকাশনা থাকলে তা এবং ইংরেজি ভাষাদক্ষতার সনদ থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে।

আবেদন যেভাবে

আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপদ্ধতি, প্রোগ্রাম ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানতে SIIT-এর অফিসিয়াল আবেদন পোর্টাল ভিজিট করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

মন্তব্য করুন

জাপানে টিএমইউর ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ, মাসে মিলবে দেড় লাখ ইয়েন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পড়ার সুযোগ দিচ্ছে জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি (টিএমইউ)। ‘টোকিও গ্লোবাল পার্টনার স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ সুবিধা দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপটির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

প্রোগ্রামভেদে আবেদনের সময়সীমা আলাদা। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে।

জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি একটি সরকারি গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

স্কলারশিপে যেসব সুবিধা

‘টোকিও গ্লোবাল পার্টনার স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ;

  • বিমানভাড়া প্রদান;

  • ভর্তি ফি মওকুফ বা প্রদান;

  • প্রতি মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন উপবৃত্তি।

আবেদনের যোগ্যতা

স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে আবেদন করতে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। আর পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা আবশ্যক।

এ ছাড়া প্রোগ্রামভেদে আবেদনকারীর গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা বা উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।

যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ

স্কলারশিপের আওতায় টিএমইউর বিভিন্ন স্কুল ও গ্র্যাজুয়েট স্কুলের অধীনে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • স্কুল অব হিউম্যান হেলথ সায়েন্সেস

  • স্কুল অব সিস্টেমস ডিজাইন

  • স্কুল অব আরবান এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস

  • গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স

  • গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট

  • গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ল অ্যান্ড পলিটিকস

  • গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব হিউম্যানিটিজ

এসব স্কুলের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে পছন্দের প্রোগ্রামের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের সময়সীমা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

মুসলিম ছাত্রীদের টিউশন ফি দেবে তামিলনাড়ু সরকার, থাকছে আরও যেসব সুবিধা

ভারতের তামিলনাড়ুতে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম ছাত্রীদের বৃত্তি সম্প্রসারণ, সংখ্যালঘু নারীদের জন্য নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা, আয়বর্ধক প্রকল্পে সুদমুক্ত ঋণ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজ্য বিধানসভায় নিজ দপ্তরের অনুদানের দাবির ওপর বিতর্কে অংশ নিয়ে এসব উদ্যোগের ঘোষণা দেন তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘুবিষয়ক কল্যাণমন্ত্রী এ এম শাহজাহান।

স্নাতকে মুসলিম ছাত্রীদের টিউশন ফি দেবে সরকার

মন্ত্রী জানান, সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করবে রাজ্য সরকার। সরকারি, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইন বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণির মুসলিম ছাত্রীরাও পাবেন বৃত্তি

মুসলিম ছাত্রীদের জন্য ওয়াকফ বোর্ডের চলমান বৃত্তি কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতদিন প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির মুসলিম ছাত্রীরা এ সুবিধা পেলেও নতুন সিদ্ধান্তে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে এসব শিক্ষার্থীকে বছরে ২ হাজার রুপি করে বৃত্তি দেওয়া হবে। এতে প্রায় ৪১ হাজার ৩৮৪ জন ছাত্রী উপকৃত হবে। এ কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ রুপি।

চেন্নাইয়ে সংখ্যালঘু নারীদের জন্য কলেজ

উচ্চশিক্ষায় সংখ্যালঘু নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চেন্নাইয়ে একটি নতুন কলা ও বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠা করবে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড।

মন্ত্রী শাহজাহান জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাথমিকভাবে ২ কোটি ৪৫ লাখ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আয়বর্ধক প্রকল্পে ১০০ কোটি রুপির তহবিল

মুসলিম ওয়াকফ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় সম্পত্তিতে বিয়ের হল, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক অবকাঠামো নির্মাণে ১০০ কোটি রুপির একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় সম্পত্তিকে কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চার বছরে প্রশিক্ষণ পাবেন ১০ হাজার তরুণ

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নেও নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ু স্কিল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের মাধ্যমে আগামী চার বছরে ১০ হাজার সংখ্যালঘু তরুণকে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

রাজ্যের সব জেলায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, পোশাক ডিজাইন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, সূচিকর্ম ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংখ্যালঘু তরুণদের স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

তামিলনাড়ু সরকারের ঘোষিত নতুন উদ্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো মুসলিম ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় টিউশন ফি মওকুফ, বৃত্তি কর্মসূচির সম্প্রসারণ, সংখ্যালঘু নারীদের জন্য নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা, আয়বর্ধক প্রকল্পে সুদমুক্ত ঋণ এবং সংখ্যালঘু তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ।

মন্তব্য করুন
×