যুক্তরাজ্যে বিনা খরচে পড়ার সুযোগ, কমনওয়েলথ স্কলারশিপে আবেদন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৯ সালে এ স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ডিএফআইডির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)

যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৩০টি নিবন্ধিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।

যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকছে

কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে।

  • যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের জন্য বিমান টিকিট দেওয়া হবে।

  • আবাসন সুবিধার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৬ টাকা

  • লন্ডন মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার পাউন্ড ভাতা পাবেন।

  • শিক্ষাসফরের জন্য নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে।

  • পোশাক কেনার জন্য ভাতা দেওয়া হবে।

  • শিক্ষার্থীর স্বামী/স্ত্রী এবং ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত পরিবার ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ ভাতার পরিমাণ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে।

  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।

আবেদনকারীর যোগ্যতা

এ স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কমনওয়েলথভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায়ে কমপক্ষে আপার সেকেন্ড-ক্লাস (২.১) ডিগ্রি থাকতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মাস্টার্সসহ লোয়ার সেকেন্ড-ক্লাস ডিগ্রিও গ্রহণযোগ্য।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে পড়াশোনা শুরু করার জন্য আবেদনকারীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হবে।

পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—

  • অফিসিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

  • কমপক্ষে দুইজনের রেফারেন্স লেটার

  • মোটিভেশন লেটার বা গবেষণা প্রস্তাবনা

  • পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুক্তরাজ্যের সুপারভাইজারের সমর্থনপত্র

আবেদনের শেষ সময় ও পদ্ধতি

আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬।

আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকে বছরে ২৮ হাজার ডলারের স্কলারশিপ, আবেদন ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রেসিডেনশিয়াল স্কলারশিপ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যোগ্যতা, একাডেমিক সাফল্য, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামগ্রিক দক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এ স্কলারশিপ দেওয়া হবে। আবেদন করার শেষ সময় ৪ ডিসেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের টাসকালুসায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় স্নাতক পর্যায়ে ১০০টির বেশি বিষয় ও প্রোগ্রাম রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, অনার্স প্রোগ্রাম এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

স্কলারশিপে যা থাকছে

প্রেসিডেনশিয়াল স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হবে।

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক সাফল্য বিবেচনা করে স্কলারশিপের জন্য নির্বাচন করা হবে।

আবেদনকারীর যোগ্যতা

প্রেসিডেনশিয়াল স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে। একই সঙ্গে আগের শিক্ষাজীবনে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে।

আবেদনকারীর—

  • SAT স্কোর ১,৪২০ থেকে ১,৬০০-এর মধ্যে অথবা

  • ACT স্কোর ৩২ থেকে ৩৬-এর মধ্যে

থাকতে হবে।

যেসব নথি লাগবে

আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—

  • বৈধ পাসপোর্টের কপি

  • মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট

  • ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার সনদ

  • কাউন্সেলরের সুপারিশপত্র

  • একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য একাডেমিক রেকর্ড

আবেদন যেভাবে

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ৪ ডিসেম্বর ২০২৬।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশি বিসিএস কর্মকর্তাদের জাপানে মাস্টার্সের সুযোগ

বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জাপানে মাস্টার্স করার সুযোগ দিচ্ছে দেশটির সরকার। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষে জাপান–আইএমএফ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম ফর এশিয়া (জেআইএসপিএ)-এর আওতায় নির্বাচিত কর্মকর্তারা জাপানের নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স কোর্সে পড়ার সুযোগ পাবেন। আগ্রহী কর্মকর্তাদের আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

যেসব কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন

এই বৃত্তির জন্য বাংলাদেশের নাগরিক এবং কর্মক্ষেত্রে আর্থিক, বাণিজ্যিক, ব্যাংকিং অথবা পরিসংখ্যানসংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো—

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;

  • সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে;

  • কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে;

  • ন্যূনতম দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে;

  • আগে কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা থাকলে আবেদন করা যাবে না।

মানতে হবে উচ্চশিক্ষা নীতিমালা

জেআইএসপিএ স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।

নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আগ্রহী কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ২০ অক্টোবর ২০২৬

মন্তব্য করুন

চেক সরকারের ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ, মাসে মিলবে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার কোরুনা

উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ দিচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্র সরকার। ‘চেক রিপাবলিক সরকারি স্কলারশিপ’-এর আওতায় ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশসহ নির্ধারিত কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্র উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

যেসব সুবিধা পাবেন

চেক সরকারের এ স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি দেওয়া হবে মাসিক উপবৃত্তি।

  • স্নাতকোত্তর পর্যায়ে: প্রতি মাসে ১৬ হাজার চেক কোরুনা

  • পিএইচডি পর্যায়ে: প্রতি মাসে ২৪ হাজার ৯৬০ চেক কোরুনা

  • স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।

কোন কোন প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে

স্নাতকোত্তর: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত নির্ধারিত স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। এসব প্রোগ্রামের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর।

পিএইচডি: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত নির্ধারিত পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। প্রোগ্রামের মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে চার বছর হতে পারে।

আবেদন করতে যেসব যোগ্যতা লাগবে

স্কলারশিপের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এ ছাড়া—

  • স্নাতকোত্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।

  • পিএইচডির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

  • ভালো অ্যাকাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে।

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

  • নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

আবেদনের সময় সাধারণত প্রয়োজন হবে—

  • হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)

  • সব অ্যাকাডেমিক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট

  • মোটিভেশন লেটার

  • রেফারেন্স লেটার

  • ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ

  • সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ, আবেদন শেষ যেসব তারিখে

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে টিউশন ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ নানা খরচের কারণে অনেকের জন্য সেই স্বপ্ন পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ হতে পারে বড় সহায়তা। এসব বৃত্তির আওতায় শুধু টিউশন ফি নয়, অনেক ক্ষেত্রে মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ও গবেষণার খরচও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এমন স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন চারটি স্কলারশিপ সম্পর্কে—

১. সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড (সিঙ্গা)

সিঙ্গাপুর সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হলো ‘সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ বা সিঙ্গা। এর আওতায় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে।

এই স্কলারশিপের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে বিনা মূল্যে পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬।

বিস্তারিত: Singapore International Graduate Award (SINGA)

২. নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হলো নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

স্কলারশিপটি সাধারণত সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত একাডেমিক খরচ বহন করে। তবে একাধিক বা যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রামে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হোম ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত বা সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬।

বিস্তারিত: Knight-Hennessy Scholars—Stanford University

৩. এডিবি-জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় এডিবি-জেএসপি (Asian Development Bank–Japan Scholarship Program)। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মেধাবী তরুণ ও পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

স্কলারশিপের আওতায় পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ও আবাসন ভাতা, বই ও শিক্ষা উপকরণ, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ব্যয় এবং গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে এ স্কলারশিপের আবেদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনটেকভেদে সময়সীমা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনের সময়: অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন।

বিস্তারিত: ADB–Japan Scholarship Program

৪. ব্রিটিশ শেভেনিং স্কলারশিপ

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি করার সুযোগ দেয় ব্রিটিশ সরকারের বহুল পরিচিত শেভেনিং স্কলারশিপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হয়।

আবেদনকারীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা এবং নিজ দেশ ও সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শেভেনিং স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ভাতা, যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের খরচসহ নির্ধারিত অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয়।

আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬।

বিস্তারিত: Chevening Scholarship—Application Timeline

আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন

স্কলারশিপের সুযোগ থাকলেই আবেদন করলেই হবে না। প্রতিটি প্রোগ্রামের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ফলাফল, ভাষাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের সময়সীমা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে আবেদনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

মন্তব্য করুন

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে তিন মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপে নিয়োগ, মাসে ভাতা ১০ হাজার টাকা

বৃত্তির খবর
বৃত্তির খবর

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) তিন মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে ২০ জন ইন্টার্ন নিয়োগ দেবে। নির্বাচিত ইন্টার্নদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে।

আবেদন করতে পারবেন যাঁরা

ইংরেজি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, অর্থনীতি, বাণিজ্যিক ভূগোল, গণিত, পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্যবসায় প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, লোকপ্রশাসন, জনপ্রশাসন, পাবলিক পলিসি বা উন্নয়ন সহযোগিতা– এসব বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন করার যোগ্যতা

১. আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২. ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে (অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)।
৩. স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, অথবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী হতে হবে। অবতীর্ণ প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
৪. ডিগ্রি অর্জনের দুই বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
৫. অনলাইনে ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
৬. একজন প্রার্থী কেবল একবারই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন।

ইন্টার্নশিপ ভাতা ও শর্তাবলি

১. প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে; অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না।
২. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ নির্ধারিত সুপারভাইজারের অধীনে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।
৩. ভাতা পাওয়ার জন্য প্রতি মাসে সন্তোষজনক কাজের প্রত্যয়ন জমা দিতে হবে।
৪. ইন্টার্নশিপ চলাকালে “চাকরিতে নিয়োজিত” হিসেবে কোনো সনদ দেওয়া হবে না।
৫. ইন্টার্নশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করলে একটি সনদ প্রদান করা হবে, তবে এটি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য হবে না।

আবেদনের শেষ সময়

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

# বিস্তারিত তথ্যের জন্য ওয়েবসাইট

মন্তব্য করুন

স্ট্যানফোর্ডে ৩ বছরের গবেষণার সুযোগ, বছরে ৯৮ হাজার ডলারের ফেলোশিপ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে তিন বছর গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোস ফেলোশিপ। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক পরীক্ষামূলক বা তাত্ত্বিক গবেষণায় আগ্রহী ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের মেধাবী বিজ্ঞানীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ

স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোসের আওতায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা করা যাবে। ক্ষেত্রগুলো হলো—

  • জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অ্যাস্ট্রোফিজিকস

  • জীববিজ্ঞান

  • রসায়ন

  • পৃথিবী ও মহাসাগরবিজ্ঞান

  • গণিত ও পরিসংখ্যান

  • পরীক্ষামূলক পদার্থবিজ্ঞান

  • থিওরি ও সিমুলেশন

  • প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র

ফেলোশিপের মেয়াদ

ফেলোশিপের মেয়াদ তিন বছর। সাধারণত ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফেলোশিপ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

তবে নির্বাচিত ফেলো চাইলে ১ জুলাই বা ১ আগস্ট থেকেও যোগ দিতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পর ফেলোশিপে যোগ দেওয়া যাবে না।

বছরে ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড

ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিত গবেষককে প্রতি বছর ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি স্ট্যানফোর্ডের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার এবং গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া—

  • স্থানান্তর ব্যয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়া হবে।

  • যোগ্য ফেলোদের শিশু যত্নের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

  • ভিসা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্যও সহায়তা পাওয়া যাবে।

আবেদনকারীর যোগ্যতা

এ ফেলোশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের বিজ্ঞানী হতে হবে। ফেলোশিপ শুরু হওয়ার আগের তিন বছরের মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ দুই বছরের পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা থাকা যাবে।

বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ও পোস্টডক্টরাল গবেষকরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া যারা ১ মার্চ ২০২৭-এর আগে স্ট্যানফোর্ডে পোস্টডক্টরাল পদে যোগ দেবেন, তারাও এ ফেলোশিপে আবেদন করার যোগ্য হবেন না।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় প্রার্থীদের কয়েকটি প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো—

  • কারিকুলাম ভিটা (সিভি)

  • কভার লেটার

  • তিনটি সুপারিশপত্র

  • সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার ক্যারিয়ার স্টেটমেন্ট

  • সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার গবেষণা প্রস্তাব

গবেষণা প্রস্তাবে গবেষণার সমস্যা, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে কী অর্জন করা সম্ভব এবং প্রস্তাবিত গবেষণায় স্ট্যানফোর্ড কীভাবে সহায়তা করতে পারে—এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী প্রার্থীদের অ্যাকাডেমিক জবস অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের আগে সম্ভাব্য স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গবেষণার সহযোগিতা ও হোস্টিংয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।

ফেলোশিপ পাওয়ার আগে অন্তত একজন স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যকে আবেদনকারীকে হোস্ট করতে সম্মত হতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১৬ অক্টোবর ২০২৬।

মন্তব্য করুন
×