‘শিক্ষককে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়’

স্লিপের টাকা আগে স্কুলের অ্যাকাউন্টে দেওয়ার সুপারিশ ইউনিসেফের

 

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) বাস্তবায়নে রিইম্বার্সমেন্ট বা খরচ করার পর টাকা ফেরত দেওয়ার পদ্ধতি বাদ দিয়ে স্কুলের অ্যাকাউন্টে আগেই অর্থ দেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। একই সঙ্গে স্কুলভিত্তিক অনুদান নির্ধারণে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, বিদ্যালয়ের প্রয়োজন, বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক ডিসেমিনেশন ওয়ার্কশপে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলভিত্তিক অনুদানের অর্থ সরাসরি বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। এতে রিইম্বার্সমেন্টের পরিবর্তে আগে থেকেই অর্থ পাওয়া যায় এবং শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ কত টাকা পাবে তা জানতে পারে। ফলে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করাও সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে অনুদানের ফর্মুলা নির্ধারণ করা উচিত নয়। একটি বিদ্যালয়ের বিশেষ প্রয়োজন, শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতাসহ অর্থ কীভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা প্রকাশের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

‘নিজের পকেট থেকে টাকা খরচের ব্যবস্থা স্বাভাবিক নয়’

স্লিপের বর্তমান রিইম্বার্সমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, একজন প্রধান শিক্ষক মূলত শিক্ষক। তাকে ব্যবসায়ীর মতো নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা হতে পারে না।

গবেষণায় রিইম্বার্সমেন্ট ব্যবস্থাকে স্লিপ বাস্তবায়নের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের টাকা খরচ করে পরে তা ফেরত পাওয়ার কারণে প্রধান শিক্ষকদের ওপর চাপ ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ধার করতে হয়। হিসাব সংরক্ষণ ও অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়ে।

অর্থ ফেরত পেতে দেরি হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণের কার্যক্রমও বিলম্বিত হয় বলে জানান তিনি।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্লিপের মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ে অর্থ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে সেই ক্ষমতা ব্যবহারের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষককে আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে অর্থ সরাসরি ও সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো জরুরি।

‘আগে অর্থ দিতে হবে, জবাবদিহিও থাকতে হবে’

রিইম্বার্সমেন্ট পদ্ধতির সরাসরি বিরোধিতা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষকদের নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে পরে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। স্কুলের প্রয়োজন মেটাতে আগে অর্থ দিতে হবে এবং সেই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী জবাবদিহি ও মনিটরিং থাকতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু টাকা দিয়ে দিলেই হবে না, সেই টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, তার কার্যকর নজরদারিও থাকতে হবে। তবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার নামে এমন ব্যবস্থা করা উচিত নয়, যেখানে একজন শিক্ষককে আগে নিজের টাকা খরচ করতে হবে।

স্লিপের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রেও স্কুলভিত্তিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, একটি পুরোনো ও বড় স্কুলের ভবন সংস্কারে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, নতুন ও ছোট একটি স্কুলের ক্ষেত্রে একই পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন নাও হতে পারে। তাই সব স্কুলকে একই ফর্মুলায় না দেখে প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করা উচিত।

‘সবার জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর নয়’

দীপা শঙ্কর বলেন, ‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ বা সবার জন্য একই ব্যবস্থা কার্যকর নয়। প্রতিটি স্কুল, শিশু ও শিক্ষক আলাদা। তাই কর্মসূচিও এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন প্রাথমিক শিক্ষার পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি পিইডিপি-৫-এর দিকে যাচ্ছে। এ পর্যায়ে স্লিপের অনুদান ও অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। ইউনিসেফের সহায়তায় পিপিআরসির গবেষণার ফলাফল এই সংস্কারের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে তিনি জানান, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই)-এর সহায়তায় বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় যে সংস্কার কার্যক্রমের কথা ভাবা হচ্ছে, তার অন্যতম শর্ত হচ্ছে স্কুল অনুদান বা স্লিপের ফর্মুলা সংশোধন। নতুন ফর্মুলায় শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, স্কুলের প্রয়োজন ও বৈচিত্র্যের পাশাপাশি অর্থ কীভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্ব পাবে।

গবেষণা উপস্থাপনের সময় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্লিপ পুরোপুরি ব্যর্থ নয়; বরং এর সম্ভাবনার তুলনায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পিইডিপি-৫ প্রণয়নের আগে স্লিপের অর্থায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ ও শেখার ফলাফল—এই তিনটি বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিলসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে শেষ ধাপের ফল প্রকাশ

চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে সবশেষ ধাপে অনলাইন আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার পর ভর্তি-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রিজাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এটা শেষ ধাপ। এরপর আর অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে না। এ ধাপের ফলাফল শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

একাদশে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে

মন্তব্য করুন

পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জবি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। ফলে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ৭ অক্টোবর থেকে যথারীতি ক্লাস চালু থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষকদের বদলিতে আবেদন , জটিলতা সমাধানে সভা

 

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে সাড়া পড়েছে। ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আগামী ২৭ আগস্ট আবেদন করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে বদলি আবেদনে নানা ধরনের জটিলতার অভিযোগও করছেন শিক্ষকরা। এসব সমস্যা সমাধানে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে মাউশির একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে বদলি আবেদন করতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় পড়ছেন অনেক শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, কারও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না, আবার কেউ কেউ সিস্টেমে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে প্রতিদিনই মাউশিতে ভিড় করছেন বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকরা।

মাউশির একটি সূত্র জানায়, আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের অধিকাংশই একই ধরনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। সমস্যাগুলো তাদের নিজেদের কোনো ভুলের কারণে হচ্ছে না বলেও দাবি করছেন তারা। বিষয়টি মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। পরে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মাউশির ওই কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের একজন কর্মকর্তা আগামী বৃহস্পতিবার মাউশিতে আসবেন। সকাল ১১টায় তার সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের বদলি আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হবে। সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য হলে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময়সীমা আগামী ২৭ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আবেদনে কারিগরি জটিলতা দূর করা গেলে আরও শিক্ষক আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মন্তব্য করুন

ই-মেইল জটিলতায় কারিগরি শিক্ষকদের বদলির শূন্যপদ এন্ট্রি আটকে আছে

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমে শূন্যপদের তথ্য দিতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছেন শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানের নামে সঠিক ই-মেইল ঠিকানা না থাকা, ভুল ই-মেইল ব্যবহার কিংবা অধিদপ্তরে আগে দেওয়া ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্যপদের তথ্য পাঠানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সমস্যার সমাধান পেতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ভিড় করছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সফটওয়্যারে প্রবেশ এবং ই-মেইল সংশোধনের উপায় জানার চেষ্টা করছেন।

এমন সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষক সোহেল মাহমুদ। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া ই-মেইল ঠিকানা সংশোধনের বিষয়ে জানতে তিনি অধিদপ্তরে এসেছেন।

সোহেল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করা ই-মেইল চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের স্যার অধিদপ্তরে যে ই-মেইল জমা দিয়েছিলেন, সেটি ব্যক্তিগত নামে তৈরি করা। এ কারণে শূন্যপদের চাহিদা দেওয়া যাচ্ছে না। স্যার অসুস্থ থাকায় সমস্যার সমাধানের জন্য আমি অধিদপ্তরে এসেছি।’

যেভাবে দিতে হবে শূন্যপদের তথ্য

শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য এমপিও-টি-টি-এস (MPO-TTS) সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার নির্দেশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের এমপিও শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, শূন্যপদের তথ্য দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিইএমআইএস (TEMIS)-এ দেওয়া নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে সফটওয়্যারে লগইন করতে হবে।

প্রথমবার লগইনের সময় প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ই-মেইলের পাসওয়ার্ড আপডেট করে সফটওয়্যারে থাকা প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

তবে এ তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদের সুযোগ কেবল প্রথমবার লগইনের সময়ই থাকবে। একবার তথ্য আপডেট করার পর পরবর্তীতে আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।

১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়

শূন্যপদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রির জন্য ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। সফটওয়্যার ব্যবহারে কোনো ধরনের সমস্যা হলে অফিস চলাকালীন ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তবে ই-মেইল সংক্রান্ত সমস্যায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আপাতত নতুন করে ই-মেইল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বদলি কার্যক্রমের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যক্তিগত ই-মেইল দিয়েছেন কিংবা ভুল ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে পাঠিয়েছেন। এখন তারা সমস্যায় পড়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকাল থেকেই একই সমস্যা নিয়ে শিক্ষকরা ফোন করছেন। অনেকে অধিদপ্তরেও আসছেন। তবে ই-মেইল সংশোধনের জন্য নতুন করে সময় দেওয়া আপাতত সম্ভব নয়। এজন্য ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কতজন শিক্ষক এ সমস্যায় পড়েছেন, তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আগেই ই-মেইল তৈরির নির্দেশ

এর আগে বদলি কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা ছিল।

অধিদপ্তরের ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে-এর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ই-মেইল থাকা বাধ্যতামূলক। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে তা অধিদপ্তরকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক ই-মেইল ঠিকানা না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন শূন্যপদের তথ্য সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।

মন্তব্য করুন

মাউশির মহাপরিচালক নিয়োগ: সাক্ষাৎকার রবিবার; আলোচনায় যারা

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার  রবিবার (২৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন বিকেলে ছয়জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র শনিবার (২৫ অক্টোবর)  এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, রবিবার বিকেল ৩টার পর সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জানা গেছে, মাউশির ডিজি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ এবং ১৬ ব্যাচের মোট ৬৩ জন কর্মকর্তা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে।

ডিজি পদে আলোচনায় যারা:

মাউশির ডিজি পদে নিয়োগ পেতে জোর তদবির করছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:

  • ড. খন্দকার এহসানুল কবির: তিনি বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগ সুপারিশ পেতে তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা যায়। বিএনপিপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় এ অধ্যাপক বোর্ড চেয়ারম্যান হওয়ার আগে যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

  • কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির: মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইংয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই অধ্যাপকও ডিজির চেয়ার পেতে জোর তদবির চালাচ্ছেন। জানা যায়, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের একজন মন্ত্রীর এপিএস, পরে পিএস হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

  • অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নান: মাউশির কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা বর্তমানে মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ১৪তম বিসিএসের এ কর্মকর্তা মাউশিতে পদায়নের পূর্বে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

  • ড. এ কিউ এম শফিউল আজম ও মো. সাঈদুর রহমান: মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক ড. এ কিউ এম শফিউল আজম এবং প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক মো. সাঈদুর রহমানও ডিজির পদ পেতে চেষ্টা করছেন। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসেই তাদের দুজনের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং বিগত সরকারের আমলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

  • ড. ছদরুদ্দীন আহমদ ও অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়: রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুই কলেজ—সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ ড. ছদরুদ্দীন আহমদ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়ও ডিজির পদের জন্য তদবির চালাচ্ছেন।

  • অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল: ১৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা বর্তমানে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে  শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি স্কুল-কলেজের ১,৩৫৪ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও সংশোধন

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত ১ হাজার ৩৫৪ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে কলেজ পর্যায়ের ২৯৫ শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত মাউশির এমপিও কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাউশির নথি অনুযায়ী, এমপিও সংশোধন হওয়া ১ হাজার ৩৫৪ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে স্কুল পর্যায়ের ১ হাজার ১৯১ এবং কলেজ পর্যায়ের ১৬৩ জন রয়েছেন।

স্কুল পর্যায়ে এমপিও সংশোধন পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৪২, চট্টগ্রামের ৪২, কুমিল্লার ৯৭, ঢাকার ১৩৩, খুলনার ৯৮, ময়মনসিংহের ২৮০, রাজশাহীর ১৯৬, রংপুরের ২৮৭ এবং সিলেটের ১২ জন রয়েছেন। এছাড়া অফলাইনে আবেদন করা চার শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওও সংশোধন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে এমপিও সংশোধন হওয়া ১৬৩ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ২৬, চট্টগ্রামের ১৩, কুমিল্লার ১৩, ঢাকার ২১, খুলনার ২৩, ময়মনসিংহের ৩, রাজশাহীর ৪৫, রংপুরের ১৩ এবং সিলেটের ৬ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া একই সভায় কলেজ পর্যায়ের ২৯৫ শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×