মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিয়ে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অন্যদিকে, ছেলেদের শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবারে গুরুত্ব

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার যেন পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন। কোনোভাবেই খাবারের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না বলেও তিনি নির্দেশনা দেন।

মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য করুন

পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জবি

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১০ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। ফলে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ৭ অক্টোবর থেকে যথারীতি ক্লাস চালু থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী কমেছে সাড়ে ৯ লাখ, সবচেয়ে বেশি মাধ্যমিকে

দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়েই শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখের বেশি। তবে একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৪৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ১১২ জন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছিলেন ৬ লাখ ৯১ হাজার ২২৬ জন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের শিক্ষা পরিসংখ্যানে একই স্তরে ৮২ হাজার ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯১ জন। শিক্ষক ছিলেন ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯ জন।

অর্থাৎ, এক বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৩টি এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২৪ হাজার ১২৭ জন বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন।

সবচেয়ে বেশি কমেছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে

ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিক্ষার্থী কমার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে। ২০২৫ সালে এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন।

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫০৭ জন। অর্থাৎ, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী হ্রাসের বড় একটি অংশই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের।

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী এ হিসাবে নেই

শিক্ষার্থী কমার হিসাব সম্পর্কে ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য ব্যবহার করি না। আমাদের মোট শিক্ষার্থীর হিসাব প্রাথমিকোত্তর স্তরের। অর্থাৎ, মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়। তবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রাথমিকোত্তর স্তরের মোট শিক্ষার্থীর হিসাবে যোগ করা হয় না। ফলে এক বছরে সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।’

ব্যানবেইস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত একটি সরকারি সংস্থা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন ও প্রকাশ করে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা নিয়ম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও সভাপতি হতে পারবেন রাজনৈতিক নেতারা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আবারও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আসার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু থাকা এ সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করলেও এবার তা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপতিত্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অথবা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধিমালায় রাজনৈতিক নেতা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই বিধিমালায় সভাপতি মনোনয়নের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান রাখা হয়।

নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে বাস্তবে অন্যদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে।’

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি

 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং এনটিআরসিএর কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে সভাটি শেষ হয়।

সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ১২টি বোর্ডে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল—দুই শিফটে মোট ৩৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

এদিকে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে এনটিআরসিএ। সংস্থাটি আগামী দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চায়।

তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে এনটিআরসিএ।

এ কারণে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অক্টোবরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ না হলে নভেম্বরের দিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

মন্তব্য করুন

বেসরকারি স্কুল-কলেজের ১,৩৫৪ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও সংশোধন

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত ১ হাজার ৩৫৪ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে কলেজ পর্যায়ের ২৯৫ শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত মাউশির এমপিও কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাউশির নথি অনুযায়ী, এমপিও সংশোধন হওয়া ১ হাজার ৩৫৪ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে স্কুল পর্যায়ের ১ হাজার ১৯১ এবং কলেজ পর্যায়ের ১৬৩ জন রয়েছেন।

স্কুল পর্যায়ে এমপিও সংশোধন পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ৪২, চট্টগ্রামের ৪২, কুমিল্লার ৯৭, ঢাকার ১৩৩, খুলনার ৯৮, ময়মনসিংহের ২৮০, রাজশাহীর ১৯৬, রংপুরের ২৮৭ এবং সিলেটের ১২ জন রয়েছেন। এছাড়া অফলাইনে আবেদন করা চার শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওও সংশোধন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কলেজ পর্যায়ে এমপিও সংশোধন হওয়া ১৬৩ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের ২৬, চট্টগ্রামের ১৩, কুমিল্লার ১৩, ঢাকার ২১, খুলনার ২৩, ময়মনসিংহের ৩, রাজশাহীর ৪৫, রংপুরের ১৩ এবং সিলেটের ৬ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া একই সভায় কলেজ পর্যায়ের ২৯৫ শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আগামী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়

 

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে নতুন চারটি বই ও বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা, আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করে তুলতেই এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হবে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক বই ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এসব বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, শিক্ষা খাতই তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সময় হিসেবে আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করছি।’

২০২৮ সালে বড় পরিসরে কারিকুলাম সংস্কার

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ২০২৭ সালের পরিবর্তনকে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পুরো শিক্ষাক্রম নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সময় কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে।

তিনি বলেন, ‘২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এতে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশে একটি টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।’

নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও খেলাধুলার মতো সমসাময়িক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি আনন্দময় ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
×