সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি, খসড়া তালিকায় ১,০২০ শিক্ষক

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে খসড়া গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এতে ২০১১ ও ২০১২ সালে যোগদান করা ১ হাজার ২০ জন সহকারী শিক্ষক স্থান পেয়েছেন।

খসড়া তালিকায় কোনো ধরনের অসংগতি থাকলে প্রমাণকসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সাত কর্মদিবসের মধ্যে আপত্তি জানানোর নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

[খসড়া গ্রেডেশন তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

মাউশির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ২০১১ ও ২০১২ সালে যোগদান করা সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে দুটি পৃথক খসড়া গ্রেডেশন তালিকা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তালিকায় বর্তমান কর্মস্থল, নিয়োগ ও যোগদানের তারিখ, চাকরি স্থায়ীকরণের তারিখ, জন্মতারিখ, নিজ জেলা এবং বিএড পাসের তারিখসংক্রান্ত কোনো ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রামাণ্য কাগজপত্রসহ আপত্তি জানাতে হবে। এ ছাড়া খসড়া তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হলেও প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ আবেদন করা যাবে।

এ সংক্রান্ত আবেদন addshesecondary1@gmail.com ই-মেইল ঠিকানায় আগামী সাত দিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোনো শিক্ষক মৃত্যুবরণ করলে, সাময়িক বরখাস্ত হলে কিংবা চাকরি থেকে অব্যাহতি পেলে সে বিষয়ে অধিদপ্তরকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এবার এইচএসসিতে এত কম পাসের কারণ কী ?

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার (৫৮.৮৩%) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার এই ফলাফলকে "বাস্তবভিত্তিক" এবং "স্বাভাবিক" বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও মূল্যায়নে কঠোরতা তুলে ধরেছেন।

পাসের হার কমার প্রধান কারণগুলো হলো:

১. শিক্ষার প্রকৃত ঘাটতি (Learning Crisis):

  • শিক্ষা উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশে শেখার সংকট শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকেই এবং সেই ঘাটতি বছর বছর সঞ্চিত হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এসে বড় আকারে ধরা পড়েছে।

  • দীর্ঘদিন ধরে শুধু 'ভালো' ফলাফল দেখানোর জন্য পাসের হার ও জিপিএ-৫-কে সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে ধরার প্রবণতা ছিল, যা শেখার প্রকৃত ঘাটতিকে আড়াল করে রেখেছিল।
     

    বছর

    পাসের হার (%)

    ২০১৫

    ৭৪.৭৭

    ২০১৬

    ৭৮.০৫

    ২০১৭

    ৭৮.৭৭

    ২০১৮

    ৭৬.৭৪

    ২০১৯

    ৭৩.৯৭

    ২০২০

    ১০০ (অটোপাস)

    ২০২১

    ৯৫.২৬

    ২০২২

    ৮৫.৯৫

    ২০২৩

    ৭৮.৬৪

    ২০২৪

    ৭৭.৭৮

    ২০২৫

    ৫৮.৮৩

২. মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন ও কঠোরতা:

  • শিক্ষা উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবারের মূল্যায়নে "অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি" নয়, বরং "ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততা"-কে বেছে নেওয়া হয়েছে।

  • তিনি সকল শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছিলেন— যেন ফলাফলের বাস্তবতা বিকৃত না হয় এবং সীমান্তরেখায় থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায্যতা বজায় রেখে কঠোরভাবে খাতা দেখা হয়।

  • এর অর্থ হলো, আগে যে "গ্রেস মার্কস" বা কিছুটা উদারভাবে নম্বর দেওয়ার প্রবণতা ছিল, এবার তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব ফলাফলে পড়েছে।

৩. বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা:

  • ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবিরের মতে, শিক্ষার্থীরা ইংরেজি, গণিত এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা দেখিয়েছে, যা সামগ্রিক পাসের হার কমিয়ে দিয়েছে।

৪. কোভিড-পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা:

  • এটিই প্রথম পরীক্ষা, যা কোভিড-১৯ মহামারীর পরে পূর্ণ নম্বর, পূর্ণ সময় এবং পূর্ণ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে (বিশেষ করে ২০২০, ২০২১ ও ২০২২) পরীক্ষা বাতিল, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিষয় ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রকাশিত হওয়ায় পাসের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ফেরায় পাসের হার কমেছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা এই ফলাফলকে "ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মসমালোচনার সুযোগ" হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার মান ও ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

ভুল চাহিদায় ১৯৫ শিক্ষক প্রতিস্থাপন, বিপাকে বদলিপ্রত্যাশীরা

৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদায় সুপারিশ পাওয়া ১৯৫ শিক্ষককে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে এসব পদে বদলির জন্য আবেদন করা শিক্ষকদের অনেকেই এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

এ বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, প্রতিস্থাপনের কারণে যেসব পদে বদলির আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়েছেন, তাদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। টেলিটক ও মাউশির মধ্যে অনুষ্ঠেয় সভায় এ বিষয়ে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৫টি পদের বিষয়ে আমরা অবগত। আমাদের পরিকল্পনা হলো—ভুক্তভোগী প্রার্থীদের নিজ উপজেলার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য থাকলে সেখানে বদলির সুযোগ দেওয়া। উপজেলায় সুযোগ না থাকলে জেলায় এবং জেলা পর্যায়েও সুযোগ না থাকলে পাশের জেলায় বদলির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯৫ শিক্ষককে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ।

এদিকে, ভুল চাহিদায় সুপারিশ পাওয়া শিক্ষকদের যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের পদে আগে থেকেই বদলির আবেদন করেছিলেন অনেক শিক্ষক। নতুন করে পদগুলো পূরণ হয়ে যাওয়ায় তাদের বদলি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী বদলিপ্রত্যাশীদের জন্য বিকল্প প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে মাউশি।

মন্তব্য করুন

অনুমোদন পেল ৯ম জাতীয় পে-স্কেল, প্রজ্ঞাপন রোববার

প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। এখন নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা। আগামী রোববার অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থসচিব বলেন, রোববার অর্থ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তখন নতুন বেতনকাঠামোর সব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

এর আগে সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বৈঠকে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত নতুন বেতনস্কেল ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

২০টি গ্রেডই বহাল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকারের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

কমেছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান

নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমানো হয়েছে।

বর্তমানে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫। নতুন পে-স্কেলে এ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

ফলে নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।

মন্তব্য করুন

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল বদলেছে? একাদশে আবেদনের সুযোগ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলাফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থী এখন নতুন করে একাদশে ভর্তির আবেদন করতে অথবা আগে করা আবেদন পরিমার্জন করতে পারবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত ফলাফলগুলো ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তারা আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর আগে আবেদন করে থাকলে পছন্দক্রমসহ আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। যারা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএসে ৬৫১ জনকে নিয়োগ, যোগদান ১২ অক্টোবর

৪৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬৫১ জনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের তারিখ ও আবাসিক ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির সময়সূচিও জানানো হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর পূর্বাহ্নে নিয়োগপ্রাপ্তদের সশরীরে যোগদান করতে হবে। এরপর ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিনব্যাপী আবাসিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ পাওয়া ৬১১ ও ৪০ জনসহ মোট ৬৫১ জনকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ৪৪,০০০ থেকে ১,০৫,৯০০ টাকা বেতনক্রমে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবর পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ায় উপস্থিত হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। একই স্থানে ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিনব্যাপী আবাসিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, প্রার্থীদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে চাকরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।

এ ছাড়া নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ সময় সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী মনে হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।

বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ করার পর চাকরিতে স্থায়ী করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। পাশাপাশি একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড করতে হবে। শিক্ষানবিশকালে বা শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালে পাওয়া বেতন-ভাতা, অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। ৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।

মন্তব্য করুন
×