স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: কক্সবাজার থেকে আটক রাজুকে কুমিল্লা ডিবিতে হস্তান্তর

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার লালোয়া রিসোর্টের সামনে অভিযান চালিয়ে রাজুকে আটক করে পুলিশ। তিনি বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে। কক্সবাজার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর তাঁকে আটক করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানের একপর্যায়ে রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয় ও সম্পর্কের সময়কাল ছিল প্রায় ১৮ দিন। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজু তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তবে তাজমিন হত্যাকাণ্ডে রাজুর সম্পৃক্ততা, ঘটনার পেছনের কারণ ও হত্যার প্রকৃত রহস্য এখনো তদন্তাধীন। এসব বিষয়ে তাঁর ভূমিকা নিশ্চিত করতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে মানসম্মত সমন্বয়ের ওপর জোর, প্রাথমিক স্তরে আইটি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

একাধিক শিক্ষাধারা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘জগাখিচুড়ি’ তৈরি করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের বাংলা, ইংরেজি ও মাদ্রাসা—এই ভিন্নধর্মী শিক্ষাব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়ছে। তাই সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রম ও মানের মধ্যে সমন্বয় আনা জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) সিলেটের ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েল ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট এডুকেশন (রাইজ) ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুল-এর শিক্ষার্থীদের বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাধারা সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন মান ও দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠছে, যা পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি শিক্ষার মান নিশ্চিত না করা যায় এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ ও কর্মজীবনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী তৈরি না করে সব ধারার শিক্ষার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখতে হবে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের মধ্যে সামঞ্জস্য ও কাছাকাছি মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু মৌলিক বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো উচিত। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাইজ স্কুলের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাইজ স্কুল ও ইউরোকিডস প্রি-স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন গাউন ও ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ দিনের ছুটি: ৭ অক্টোবর পর্যন্ত, ৮ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু

সম্প্রতি দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে দেশের নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটি শুরু হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে, যা চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মনে করেছেন, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আসলে সঠিক নয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী এই বিষয়ে পরিষ্কার করেছেন যে, ছুটি শুধুমাত্র ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ৮ অক্টোবর থেকে শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। ৮ ও ৯ অক্টোবর শুধুমাত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, তবে স্কুল খুলে যাবে।

এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির বিষয়, এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোনো ছুটি বাড়ানোর কথা বলা হয়নি। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, তারা ভুল করেছে। সঠিক তথ্য পেতে চাইলে মাউশিতে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

 
মন্তব্য করুন

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, প্রস্তুত থাকবে সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

রোববার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব কিংবা ছবি আপলোডের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

দুর্গাপূজা চলাকালে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ, সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।

সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউয়ের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ ও এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসানসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

মন্তব্য করুন

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, এ ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর এ ভাষণে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, জাতীয় ঐক্য গঠন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

জাতীয় পর্যায়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

মন্তব্য করুন

৯৫ জনের ৯৪ জন পেলেন নিয়োগপত্র, বাদ ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী তালহা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবু তালহা। আট মাসের অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও শেষ ধাপে এসে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন তিনি। পরে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দ্বিতীয় দফায় গাইবান্ধায় ছয়জন নিয়োগপত্র পেলেও তালহার ভাগ্যে জোটেনি নিয়োগপত্র। ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৯৫ জনের মধ্যে ৯৪ জন নিয়োগপত্র পেলেও একমাত্র তালহাই এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় নিয়োগপত্র প্রকাশের সময় তালহাসহ অনেক চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। পরে বিভিন্ন জেলার বঞ্চিত প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংগঠিত হয়ে নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

এরপর শাহবাগে জড়ো হয়ে দিনভর আন্দোলন করেন তারা। আন্দোলনের পর সরকার দ্বিতীয় দফায় বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু করে। বিভিন্ন ধাপে যোগদানের দিন পর্যন্ত অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র পেলেও এখনো শতাধিক প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কেন বাদ পড়েছিলেন প্রার্থীরা?

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে দেশের ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

তবে ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায়, চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সবার নাম সেখানে নেই। প্রার্থীদের দাবি, প্রথম দফায় দুই হাজারের বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এনএসআই বা গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্য, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় অসংগতি এবং ফৌজদারি মামলাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক প্রার্থী প্রথম দফায় নিয়োগপত্র পাননি।

পরে নিয়োগপত্রবঞ্চিতরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের আন্দোলনের পর ধাপে ধাপে অনেককে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

আমরণ অনশনের ঘোষণা

এখনো শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে দাবি করছেন বঞ্চিতরা। তাঁদের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ত্রুটিও নেই। তারপরও তাঁরা নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নিয়োগের আগে পদায়নের দাবিতে এসব প্রার্থী আগামীকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন।

রোববার থেকে নতুন শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে আগামীকাল রবিবার (৪ অক্টোবর)। নতুন শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ধারণা দিতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন শেষে নতুন শিক্ষকদের ১১ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৪ অক্টোবর পদায়নের কথা জানানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের দাবি, পদায়নের আগে তাঁদের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক।

মন্তব্য করুন

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যিনি হাসপাতালে অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন।

অসুস্থতা ও চিকিৎসা

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে থাকা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করেন। গাড়িচালকের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খবর পেয়ে মাজহারুল ইসলামসহ ঘনিষ্ঠজনরা যান।

চিকিৎসকেরা জানান যে তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়েছিল। এরপর তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রে স্টেন্টিং করা (রিং পরানো) হয়।

 

শারীরিক অবস্থার অবনতি ও লাইফ সাপোর্ট

শনিবার থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তাঁর অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরে আবার অবনতি হয়। অবশেষে, আজ বিকেল ৫টায় চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ আজ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন
×