যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড়, কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত: তদন্ত কমিটি গঠন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানকে থাপ্পড় মেরে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ ছয় দফা দাবিতে প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিভাগের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান ও শহীদ মশিয়ুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামানের কাছে ছয় দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্ত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হকের ছাত্রত্ব বাতিল, তাকে অবিলম্বে হল থেকে বহিষ্কার, আহত শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহন, ঘটনায় জড়িত সব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১টার মধ্যে তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিভাগের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

জানা গেছে, শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে গোসল করাকে কেন্দ্র করে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের সঙ্গে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হকের কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিকেলে ক্যাম্পাসের বাইরে জুয়েল আল ইমরান ও তার কয়েকজন বন্ধু যান। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হক জুয়েলকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ইংরেজি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য, অস্কারসহ আরও ৮-১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরে আহত অবস্থায় জুয়েল আল ইমরানকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় তার কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত তানভীর হকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরান।

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ থেকে কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

মেয়েদের আসনে ছেলেরা, ‘মুক্তি’ বাসে নিয়ম মানা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

মন্তব্য করুন

জবির নতুন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইউট্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী দুই বছর সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী দুই বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

মন্তব্য করুন

জাবিপ্রবিতে ৩ নতুন বিভাগ, ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) তিনটি নতুন বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগগুলো হলো—ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে জমা দিলে জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) জাবিপ্রবিতে আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইন্টার্নশিপে মাসে ১৭ হাজার টাকা

শিক্ষার্থীদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইন্টার্নশিপ ভাতার বিষয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউজিসির গবেষণা নীতিমালায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গবেষণা ফান্ডের ২৫ শতাংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।’

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইন্টার্নশিপ নীতিমালা তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠালে শিক্ষার্থীরা মাসিক ১৭ হাজার টাকা করে ইন্টার্নশিপ ভাতা পাবেন।

জাবিপ্রবিতে খুলছে ৩ নতুন বিভাগ

শিল্প ও প্রযুক্তির পরিবর্তিত চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে জাবিপ্রবিতে ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড এআই, স্ট্যাটিস্টিকস এবং রোবটিক্স বিভাগ খোলার বিষয়ে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এসব বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

স্টার্টআপে কর শূন্য শতাংশ

তরুণ উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন ইউজিসি সদস্য।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ইনোভেশন ফান্ডে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর দাবি, তরুণ উদ্যোক্তাদের ইনোভেশন বা স্টার্টআপের ক্ষেত্রে আগে ১৫ শতাংশ কর দিতে হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী তরুণদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হবে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’

শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ কোর্স চালুর উদ্যোগের কথাও জানান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রথম ধাপে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু করা হবে, যার মধ্যে জাবিপ্রবিও রয়েছে।

এ ছাড়া ‘আইসিটি স্কিলস উইথ এআই’, এথিক্স এবং সিভি লেখা ও ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো মৌলিক অন-জব ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের মতো সরকারি ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান ইউজিসির এই সদস্য।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন, যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের যৌথ উদ্যোগে এই ক্লাসরুমে সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক এই স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পাঠদান ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও প্রাণবন্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুগোপযোগী এই ক্লাসরুমটি এখন থেকে মূলত পিএইচডি (PhD) গবেষকদের ডিফেন্স এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত ভার্চুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার এই গুণগত আধুনিকায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিডিরেন (BdREN)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের প্রধান গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় রাজশাহী রেলস্টেশনে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে আইয়ুব আলী সেখানে এগিয়ে গেলে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আইয়ুবের বন্ধু নাইমুল ইসলাম অভ্র জানান, মারধরের একপর্যায়ে আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। পরে তার জ্ঞান ছিল না। কয়েকবার বমি করার পাশাপাশি তার নাক দিয়ে রক্তপাতও হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে রাবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেললাইন অবরোধ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার পর তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে লং মার্চ করেন।

আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। তিনি জানান, আইয়ুবের চিকিৎসার বিষয়ে নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

একই স্কুল-কলেজ পেরিয়ে একই বিভাগে রাবিতে জমজ দুই ভাই

শৈশব থেকে একসঙ্গে পথচলা। একই স্কুল, একই কলেজ—শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই পাশাপাশি ছিলেন শেরপুরের জমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি। এবার সেই পথচলা এসে পৌঁছেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই নয়, দুজনই সুযোগ পেয়েছেন একই বিভাগে। আবাসিক হলও পেয়েছেন একই। বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে মতিহার হলে থাকছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলার মোবারকপুরের এই দুই ভাইয়ের শিক্ষাজীবনের শুরু শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমিতে। সেখানে মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে এসএসসি পরীক্ষায় দুজনই জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

এরপরও তাদের পথ আলাদা হয়নি। দুজনই ভর্তি হন শেরপুর সরকারি কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ধরে রাখেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা। শাকিবুল হাসান জনি জিপিএ-৪.৯২ এবং রাকিবুল হাসান রনি জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য এরপর তাদের গন্তব্য হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়ে দুজনই সুযোগ পান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে পড়ার পাশাপাশি তাদের আবাসিক ঠিকানাও হয়েছে একই—মতিহার হল। এমনকি একই কক্ষে বসে ক্লাস করার সুযোগও পাচ্ছেন দুই ভাই।

রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান রব চেয়েছেন বলেই আজ আমরা স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও একইসঙ্গে একরুমে বসে ক্লাস করতে পারছি। মাঝে মধ্যে ভাবলে নিজেরাই অবাক হয়ে যাই। ক্লাস নাইনে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার পর থেকেই বিষয়টি আমাদের খুব পছন্দের ছিল। পছন্দের বিভাগে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি একই হলও বরাদ্দ পেয়েছি। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে।’

শাকিবুল হাসান জনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই ভাইয়ের সবসময় একসঙ্গে পড়ার স্বপ্ন ছিল। সেটা এত সুন্দরভাবে পূরণ হবে, তা কখনো ভাবিনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা ভবিষ্যতেও সফলতা একসঙ্গে ধরে রাখতে চাই।’

একই স্কুল, একই কলেজ, একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই বিভাগ এবং একই আবাসিক হল—শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের সঙ্গী হয়ে আছেন শেরপুরের এই জমজ দুই ভাই।

মোবারকপুরের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার ক্যাম্পাসে এসে এবার পদার্থবিজ্ঞানের জগতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জনি ও রনি। সামনে তাদের লক্ষ্যও এক—একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প আরও দীর্ঘ করা।

মন্তব্য করুন
×