সরকারি স্কুলে ছয় ক্যাটাগরিতে ১৪%, বেসরকারিতে ১৫% কোটা
২০২৭ সালের স্কুল ভর্তি: সরকারি-বেসরকারিতে কোটা নিয়ে নতুন প্রস্তাব
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ছয় ক্যাটাগরিতে মোট ১৪ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্যাটাগরি বাড়িয়ে মোট ১৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।
ইতোমধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এই নীতিমালার আলোকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
এ বিষয়ে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় চাইলে নীতিমালায় একাধিক পরিবর্তন আনতে পারে।’
কোন কোটায় কত শতাংশ
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ সুবিধা পেতে আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে এসব আসন সাধারণ কোটা থেকে পূরণ করা হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তারা এ সুবিধা পাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। যোগ্য শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আসন পূরণ করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। কোনো একটি কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে নির্ধারিত নিয়মে অন্য কোটার যোগ্য প্রার্থীদের দিয়ে আসন পূরণ করা যাবে।
এ ছাড়া যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ এবং সহোদর-সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো একটি কোটায় আসন খালি থাকলে তা অন্য ক্যাটাগরি দিয়ে পূরণ করা যাবে। কোনো অবস্থাতেই কোটার আসন শূন্য রাখা হবে না।
বেসরকারি স্কুলে বাড়ছে আরও এক কোটা
সরকারি বিদ্যালয়ের ১৪ শতাংশ কোটার বাইরে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরও ১ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করার লক্ষ্যে এ কোটা রাখা হবে। এসব শিশু নিকটস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।
ঢাকার ক্যাচমেন্ট এলাকায় ৪০ শতাংশ আসন
খসড়া নীতিমালায় ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। মাউশি ঢাকা মহানগরীর সব সরকারি বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্টদের জানাবে।
এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
বদলি হওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সুবিধা
কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১০ মাসের মধ্যে প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।
মহানগর, সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থল আগের কর্মস্থল থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রে নতুন কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকবে।
বদলিজনিত কারণে ভর্তির জন্য প্রতি শ্রেণি-শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিদ্যালয়ে আগে থেকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। একই কর্মকর্তা-কর্মচারী পরবর্তী সময়ে আগের কর্মস্থলে ফিরে এলে তাঁর সন্তানকে আগের বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত আসন
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভর্তিযোগ্য সন্তানের সংখ্যার সমানসংখ্যক অতিরিক্ত আসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে।
তবে বালক বিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর ভর্তিযোগ্য সন্তান বালিকা হলে নিকটবর্তী সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত আসন রাখা হবে। একইভাবে বালিকা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীর ভর্তিযোগ্য সন্তান বালক হলে নিকটবর্তী সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করা হবে।
সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কর্মরত বিদ্যালয়েই অতিরিক্ত আসন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকলে নিকটবর্তী উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করা হবে।
এতিম শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা
কর্মরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেলে তাঁর সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবে, সেই এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এমন কোনো শিক্ষার্থী, যার বাবা-মা নেই এবং কোনো কারণে বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়, সে নতুন এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পারস্পরিক বদলিভিত্তিক ভর্তির সুযোগ
একই ভর্তি কমিটির আওতাধীন দুটি বিদ্যালয়ের সম্মতিতে শিক্ষার্থীকে একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির ভিত্তিতে ভর্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে।
শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কোনো রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করতে হবে। এরপর বোর্ড নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করবে।
তবে এসব বিধান এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের সময় প্রস্তাবিত নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে।