২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১২ কোটিরও বেশি নতুন পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হবে

এনসিটিবি-NCTB
এনসিটিবি-NCTB

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি), দাখিল এবং কারিগরি শাখার ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭১টি নতুন পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই বিশাল সংখ্যক বইয়ের জন্য মোট ৪৪৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬১ টাকা ব্যয় হবে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

তিন ধাপে অনুমোদিত বই ও ব্যয়:

১. ষষ্ঠ শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির ষষ্ঠ শ্রেণির মোট ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

  • এতে মোট ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা।

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ টাকা ৫৮ পয়সা।

২. অষ্টম শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির অষ্টম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৮ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

  • এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার ৯৭ টাকা।

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ টাকা।

৩. সপ্তম শ্রেণির বই:

  • মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল ও কারিগরির সপ্তম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯২ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

  • এই বইগুলোর জন্য ব্যয় হবে ১৫০ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৪ টাকা।

  • প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের জন্য গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ টাকা ৭ পয়সা।

ক্রয় প্রক্রিয়া:

জানা গেছে, তিনটি শ্রেণির জন্যই আলাদাভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি কমিটি (টিইসি)-এর সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বইগুলো ক্রয় করার প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়।

মন্তব্য করুন

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল বদলেছে? একাদশে আবেদনের সুযোগ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলাফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থী এখন নতুন করে একাদশে ভর্তির আবেদন করতে অথবা আগে করা আবেদন পরিমার্জন করতে পারবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত ফলাফলগুলো ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তারা আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর আগে আবেদন করে থাকলে পছন্দক্রমসহ আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। যারা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

মন্তব্য করুন

বগুড়ায় মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার স্কুল সরকারি

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কে সরকারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০২৬ (১১ ভাদ্র ১৪৩৩) থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য করুন

'এখন ১০ শতাংশ নয়, শিক্ষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান'

পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষক নেতাদের সময়মতো দাবি ও হিসাব-নিকাশ পেশ না করার কারণে চলতি বাজেটে বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, "এখন ১০ শতাংশ নয়, পরের বাজেটে বাড়ানো যেতে পারে।"

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সময়মতো প্রস্তাব না দেওয়ায় বরাদ্দ কম

অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষক নেতারা যদি প্রাথমিক হিসাবটা আগেভাগে মন্ত্রণালয়ে দিতেন, তবে বাজেট ঘোষণার আগেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো যেত। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য এবং সময়মতো প্রস্তাব গেলে এখনকার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হতো।

তবে, বর্তমানে যেখানে অর্থের সংস্থান নেই, সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

 

পরের বাজেটে বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার আগামী বছরের বাজেটে কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে। তিনি শিক্ষক নেতাদের ধৈর্য ধরার এবং আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করছি, কিন্তু তাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।"

 

শিক্ষক নেতারা রাজি নন

অধ্যাপক আবরার জানান, শিক্ষক নেতারা সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এখনই ১০ শতাংশ এবং সামনের বছর আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবে, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তারা তাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, "সংস্থান থাকলে আমরা এখনই দিতাম। কিন্তু বাস্তবতায় অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে।" শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেন তিনি।

 

পে-কমিশনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আবরার নতুন পে-কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠন করেছে, যার প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পে কমিশনের রিপোর্টে ৫০, ৭০ বা এমনকি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

 

ভবিষ্যতের জন্য 'থোক বরাদ্দ' থেকে মুক্তি

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, তারা বর্তমানে 'থোক বরাদ্দ' থেকে শতকরা হারে ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে যাচ্ছেন, যা একটি বড় অগ্রগতি। কারণ ভবিষ্যতে মূল বেতন বাড়লে সেই অনুপাতে বাড়ি ভাড়াও বাড়বে।

তিনি শিক্ষক নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ভবিষ্যৎ সরকার 'থোক বরাদ্দ' পদ্ধতিতেই থেকে যেতে পারে, যা শিক্ষকদের জন্য লাভজনক হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে, কিন্তু বর্তমানে সময় ও অর্থ দুটোই সীমিত। তিনি শিক্ষক নেতাদের এই সুযোগ না হারানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে, জেনে নিন নতুন বেতন

নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো আগামী ১ জুলাই থেকেই তাদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছে।

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই গ্রেড অনুযায়ী বাড়বে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা যেভাবে বাড়বে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একই হারে সেই সুবিধা পাবেন না। এমনকি নতুন কাঠামোয় টেলিফোন বিল পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

তিন ধাপে বাড়বে বেসিক

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন তিন ধাপে বাড়ানো হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসিক ৩০ শতাংশ বাড়বে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৬৫ শতাংশ হবে। সর্বশেষ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেসিক শতভাগ বাড়বে বলে জানা গেছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর অন্যান্য চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে যাবে।

কোন গ্রেডে কত বেতন

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে চতুর্থ গ্রেডের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষদের মূল বেতন ৫০ হাজার থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।

ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের বর্তমান মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা।

নবম গ্রেডের প্রভাষকদের বর্তমান মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা। নতুন কাঠামোয় এই বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিএড ডিগ্রিধারীরা ১০ম গ্রেডে বেতন পান। এ গ্রেডে বর্তমানে মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।

১১তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।

১৬তম গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের বর্তমান বেতন ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা। নতুন পে-স্কেলে তা বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

১৮তম গ্রেডের ল্যাব সহকারীদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা।

অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়াদের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা। নতুন বেতন কাঠামোয় তাদের মূল বেতন বেড়ে হবে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।

অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ধরনের ভাতা ও সুবিধা একইভাবে বাড়বে না।

মন্তব্য করুন

বগুড়ায় আরও এক বেসরকারি স্কুল সরকারি, বদলেছে নাম

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করা হয়েছে। সরকারি হওয়ার পর বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাধীন গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ২৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো। প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে।

তবে আত্তীকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কেও সরকারি করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বা ২৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করবে মাউশি

৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাউশি জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

গঠন হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য মাউশির মহাপরিচালক একটি প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করেছেন।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচন করা হবে।

যেসব শর্ত মানতে হবে

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই পত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা অফিস আদেশসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণক জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময় বাড়ল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদনের পূর্বনির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। শিক্ষকদের অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন
×