শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশ: দিনটি ‘ঐতিহাসিক’ - উপদেষ্টা

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে ‘সৌভাগ্যবান’ বলেও মনে করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশ করার বিষয়ে সম্মতিপত্র জারি করে। এরপর এক বিবৃতিতে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আজকের এই দিনটি শিক্ষা বিভাগের জন্য সত্যিই ঐতিহাসিক। চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) হারে বাড়িভাড়া কার্যকর হবে, আর ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আরও ৭.৫ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট ১৫ শতাংশ ভাতা চালু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সম্মানিত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে পেরে একজন শিক্ষক হিসেবে এবং শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা উপদেষ্টা বিশ্বাস করেন—শিক্ষকরা সমাজে আরও বেশি সম্মানের দাবিদার, এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

সি আর আবরার বলেন, “বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পথটা সহজ ছিল না। নানা মতভেদ, বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। কিন্তু কোনো বিতর্কে জড়ানো ছাড়া আমরা ন্যায্য ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যেই কাজ করে গেছি।”

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নেপথ্যে থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপদেষ্টা পরিষদ এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “এটি কারও একার অর্জন নয়; এটি যৌথ সাফল্য। শিক্ষকদের আন্দোলন আমাদের বাস্তবতা বুঝিয়েছে, সরকার দায়িত্বশীলভাবে সাড়া দিয়েছে, আর একসঙ্গে কাজ করার ফলেই আমরা আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি—যেখানে সম্মান, সংলাপ ও সমঝোতাই জয়ী হয়েছে।”

শেষে তিনি বলেন, “এখন সময় ক্লাসে ফেরা, শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়া—আমাদের আসল কাজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার। আজকের এই সমঝোতা হোক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও মানসম্মত শিক্ষার নতুন সূচনা। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিতে পারব।”

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও, কার্যকর ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে-স্কেলের আওতায় আসছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো গত ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তাদের নবম পে-স্কেলের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেদিন থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, একই সময় থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও তা কার্যকর হবে।

তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা যেসব ভাতা পাবেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সব ক্ষেত্রে একই হারে বা একই ধরনের ভাতা পাবেন না বলে জানিয়েছে সূত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত জনবল নবম পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের যখন থেকে পে-স্কেল কার্যকর হবে, তখন থেকে শিক্ষকরাও এটি পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও সমন্বয় করা হবে। তবে ভাতা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্তদের পার্থক্য থাকবে।

মন্তব্য করুন

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন শিক্ষামন্ত্রী

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

সফরে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, সফরকালে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক ফোরাম ও সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সফরের অংশ হিসেবে চীনের বিভিন্ন কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করবেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসব সফরের মাধ্যমে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ হবে।

সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ কার্যক্রমের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করবে মাউশি

৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাউশি জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

গঠন হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য মাউশির মহাপরিচালক একটি প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করেছেন।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচন করা হবে।

যেসব শর্ত মানতে হবে

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই পত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা অফিস আদেশসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণক জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময় বাড়ল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদনের পূর্বনির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। শিক্ষকদের অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

১৮ দৈনিক মজুরির কর্মীর নাম নেই তালিকায়, এক দিনে ১২ গাড়ি ভাড়ায় ৯৬ হাজার টাকা

নায়েমের ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে ডিআইএর প্রশ্ন

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) হোস্টেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৬৯ হাজার ১১১ টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। এর মধ্যে হোস্টেল খাতের ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আর নায়েমের জমিতে থাকা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করা ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

শুধু অর্থের হিসাব নয়, নায়েমের প্রশিক্ষণ, হোস্টেল ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্সে নানা অনিয়মের তথ্য পেয়েছে ডিআইএ। এমনকি দৈনিক মজুরিভিত্তিক ১৮ জন কর্মচারীকে সম্মানী ও মজুরি দেওয়া হলেও তাদের কাউকেই নায়েমের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের তালিকায় পাওয়া যায়নি।

২৬ প্রশিক্ষণের ৭৮টি টপিকে মিল

ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নায়েম পরিচালিত ২৬ ধরনের প্রশিক্ষণের মডিউল ও টপিকে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণের জন্য আলাদাভাবে মডিউল প্রণয়ন না করায় অর্থ ও সময়ের অপচয় হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে এসিইএম (ACEM) কোর্সে ১০৮টি এবং এসএসসিইএম (SSCEM) কোর্সে ১১৫টি টপিক রয়েছে। দুই কোর্সের ৭৮টি টপিকে সাদৃশ্য পেয়েছে ডিআইএ।

এসিইএম কোর্সটি সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের এবং এসএসসিইএম অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য পরিচালিত হয়। পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতার স্তর ভিন্ন হলেও দুই কোর্সে প্রায় একই ধরনের পাঠ্যসূচি অনুসরণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিআইএর মতে, এতে কোর্স দুটির স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

এ ছাড়া এসিইএম কোর্সের অনুমোদিত উদ্দেশ্য ছিল সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ পুস্তিকার মডিউল ও সিলেবাসে অনুমোদিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি পাওয়া গেছে।

হোস্টেলের অব্যয়িত ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা হয়নি

নায়েমের পাঁচটি হোস্টেলে মোট আসন রয়েছে ৫৫২টি। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এসব হোস্টেলের বিভিন্ন কোর্স বাবদ ১২ কোটি ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। বিপরীতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬৫ টাকা।

তবে এসব ব্যয়ের পক্ষে কোনো স্টক রেজিস্টার বা বিল-ভাউচার নায়েম কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে ডিআইএ। বিভিন্ন ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোস্টেলের প্রকৃত আয় পুরোপুরি প্রদর্শিত হয়নি এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ছিল না। হিসাব অনুযায়ী অব্যয়িত ৩ কোটি ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৬১ টাকা রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয় ৩০ লাখ টাকা, জমা হয়নি কোষাগারে

নায়েমের জমিতে থাকা ক্যাফেটেরিয়া-১, লন্ড্রি, সেলুন ও মনোহারী দোকান থেকে আদায় করা অর্থ নায়েম কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নিজস্ব তহবিলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত পাঁচ বছরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া বাবদ আদায় করা হয়েছে—

  • ক্যাফেটেরিয়া-১ থেকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা

  • লন্ড্রি থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা

  • সেলুন থেকে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫০ টাকা

  • মনোহারী দোকান থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা

সব মিলিয়ে ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে পাওয়া পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

সরকারি বেতন নেওয়া কর্মচারী ক্যাফেটেরিয়ার দায়িত্বে

নায়েমের রাজস্ব খাত থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া একজন কর্মচারী প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন না করে ক্যাফেটেরিয়া-১-এর দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিপিআর না মেনে ক্রয়

রাজস্ব খাতের সরকারি বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে ডিআইএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে পণ্য সংগ্রহ ও পূর্ত—দুই ধরনের কাজই দেওয়া হয়েছে। পণ্য গ্রহণের জন্য কমিটি থাকলেও বাস্তবে শুধু স্টোরকিপারের মাধ্যমে পণ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

পণ্য গ্রহণের সময় গ্রহণকারী কমিটির মাধ্যমে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মান যাচাই, হিসাবসংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং একই প্রকৃতির কাজের সঙ্গে ভিন্ন প্রকৃতির আইটেম যুক্ত করে ক্রয় না করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এক দিনে ১২ গাড়ি, ভাড়া দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার টাকা

জাতীয়করণকৃত কলেজের শিক্ষকদের ৪৫ দিনের বেসিক ট্রেনিং কোর্স হিসেবে এসইডিপির অর্থায়নে ইপিএসটি স্কিমের আওতায় ইনডাকশন ট্রেনিং পরিচালনা করে নায়েম। নিরীক্ষাকাল পর্যন্ত মোট ৪০টি কোর্স সম্পন্ন হয়েছে।

এর মধ্যে পঞ্চম ইনডাকশন ট্রেনিং কোর্স পর্যালোচনা করে ডিআইএ দেখতে পায়, দৈনিক মজুরিভিত্তিক ১৮ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন ধরনের সম্মানী ও মজুরি দেওয়া হয়েছে। তবে নায়েমের দৈনিক মজুরিভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মীদের তালিকায় তাদের কারও নাম পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অর্থ কাদের পরিশোধ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ডিআইএ।

এ ছাড়া অফিস অ্যাটাচমেন্টে থাকা ৪০ জন এবং কোর্স পরিচালকদের তিনজনের জন্য একদিনে ১২টি গাড়ি ভাড়া করা হয়। এ বাবদ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঞ্চম এসিএসডি কোর্সে অফিস অ্যাটাচমেন্টের প্রতিটি গাড়ির ভাড়া ছিল ৪ হাজার টাকা। অথচ পঞ্চম ইনডাকশন কোর্সে প্রতিটি গাড়ির ভাড়া দেখানো হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এটিকে অস্বাভাবিক বেশি বলে উল্লেখ করেছে ডিআইএ।

নিরীক্ষায় অস্বাভাবিক সংখ্যক যানবাহন ও সহায়ক জনবল ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র ও গ্রহণপত্রের ঘাটতি, পুনরাবৃত্ত সামগ্রী ক্রয় এবং যানবাহন ও জ্বালানি খাতে একই ধরনের ব্যয়ের প্রবণতাও চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্টক টেকিং নেই, পড়ে আছে অকেজো মালামাল

পরিদর্শনের সময় নায়েমের প্রশাসনিক ভবনের বেজমেন্ট ও স্টোর রুমের সামনের করিডোরে নিলামযোগ্য চেয়ার, এসি, ফটোকপি মেশিন, ডেস্কটপ কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ফ্রিজ স্তুপাকারে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ছাড়া ১০ আসনবিশিষ্ট একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা-মেট্রো-চ-৫১-৯৬৭৩) দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকা মালামাল নিলামের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত স্টক টেকিং চালুর সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

মন্তব্য করুন

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিতে সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব

 

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে প্রাথমিক থেকে সব পর্যায়ের শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বাড়বে সরকারি বরাদ্দ

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান উন্নয়নের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দও বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমাতে জাতীয় প্রতিযোগিতা

বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য দূর করার বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’-এর মতো জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে।

এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, ‘কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম তৈরির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিভাগ ও জেলায় চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’

বেকারত্ব কমিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্থানীয় কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মাহদী আমিন বলেন, বেসরকারি খাতকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাসস

মন্তব্য করুন

'এখন ১০ শতাংশ নয়, শিক্ষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান'

পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। ছবি- সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষক নেতাদের সময়মতো দাবি ও হিসাব-নিকাশ পেশ না করার কারণে চলতি বাজেটে বেশি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, "এখন ১০ শতাংশ নয়, পরের বাজেটে বাড়ানো যেতে পারে।"

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সময়মতো প্রস্তাব না দেওয়ায় বরাদ্দ কম

অধ্যাপক আবরার বলেন, শিক্ষক নেতারা যদি প্রাথমিক হিসাবটা আগেভাগে মন্ত্রণালয়ে দিতেন, তবে বাজেট ঘোষণার আগেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে যৌক্তিক প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো যেত। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতা অনস্বীকার্য এবং সময়মতো প্রস্তাব গেলে এখনকার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হতো।

তবে, বর্তমানে যেখানে অর্থের সংস্থান নেই, সেখানে এর বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি শিক্ষক নেতাদের জানিয়েছেন।

 

পরের বাজেটে বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, সরকার আগামী বছরের বাজেটে কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে। তিনি শিক্ষক নেতাদের ধৈর্য ধরার এবং আন্দোলনের পথে না গিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমরা এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করছি, কিন্তু তাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে।"

 

শিক্ষক নেতারা রাজি নন

অধ্যাপক আবরার জানান, শিক্ষক নেতারা সরকারের এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এখনই ১০ শতাংশ এবং সামনের বছর আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তবে, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তারা তাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, "সংস্থান থাকলে আমরা এখনই দিতাম। কিন্তু বাস্তবতায় অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে।" শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধও করেন তিনি।

 

পে-কমিশনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আবরার নতুন পে-কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পে কমিশন গঠন করেছে, যার প্রতিবেদন আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পে কমিশনের রিপোর্টে ৫০, ৭০ বা এমনকি ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে।

 

ভবিষ্যতের জন্য 'থোক বরাদ্দ' থেকে মুক্তি

শিক্ষা উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা দেন যে, তারা বর্তমানে 'থোক বরাদ্দ' থেকে শতকরা হারে ভাতা নির্ধারণের পদ্ধতিতে যাচ্ছেন, যা একটি বড় অগ্রগতি। কারণ ভবিষ্যতে মূল বেতন বাড়লে সেই অনুপাতে বাড়ি ভাড়াও বাড়বে।

তিনি শিক্ষক নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ভবিষ্যৎ সরকার 'থোক বরাদ্দ' পদ্ধতিতেই থেকে যেতে পারে, যা শিক্ষকদের জন্য লাভজনক হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় সব কাজ করেছে, কিন্তু বর্তমানে সময় ও অর্থ দুটোই সীমিত। তিনি শিক্ষক নেতাদের এই সুযোগ না হারানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন
×