রাবিতে চালু হলো ‘পেপারলেস এক্সাম’, পরীক্ষা শেষে মিলছে ফল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে চালু হয়েছে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’। এ ব্যবস্থায় খাতা-কলম ও প্রশ্নপত্র ছাড়াই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাচ্ছে ফলাফল। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে এ ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ ব্যবস্থায় টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে সিস্টেমটি তৈরি করেছেন আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সিস্টেমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তারা ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে, সঠিক উত্তর কী এবং তার ব্যাখ্যাও জানার সুযোগ রয়েছে।

সিস্টেমটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজেই প্রশ্ন তৈরি করতে এবং একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের কারণে খাতা দেখার সময় কমার পাশাপাশি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে কাগজের ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাগজবিহীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, নতুন এ পরীক্ষা পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ‘ই-এক্সাম’ তাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। এতে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষা পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী বলেও জানান তিনি।

সিস্টেমটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন এবং মূল্যায়নে নির্ভুলতা বৃদ্ধি।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আইসিই বিভাগে পদ্ধতিটি চালু করা হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি শিক্ষা।

মন্তব্য করুন

একই স্কুল-কলেজ পেরিয়ে একই বিভাগে রাবিতে জমজ দুই ভাই

শৈশব থেকে একসঙ্গে পথচলা। একই স্কুল, একই কলেজ—শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই পাশাপাশি ছিলেন শেরপুরের জমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি। এবার সেই পথচলা এসে পৌঁছেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই নয়, দুজনই সুযোগ পেয়েছেন একই বিভাগে। আবাসিক হলও পেয়েছেন একই। বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে মতিহার হলে থাকছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলার মোবারকপুরের এই দুই ভাইয়ের শিক্ষাজীবনের শুরু শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমিতে। সেখানে মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে এসএসসি পরীক্ষায় দুজনই জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

এরপরও তাদের পথ আলাদা হয়নি। দুজনই ভর্তি হন শেরপুর সরকারি কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ধরে রাখেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা। শাকিবুল হাসান জনি জিপিএ-৪.৯২ এবং রাকিবুল হাসান রনি জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য এরপর তাদের গন্তব্য হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়ে দুজনই সুযোগ পান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে পড়ার পাশাপাশি তাদের আবাসিক ঠিকানাও হয়েছে একই—মতিহার হল। এমনকি একই কক্ষে বসে ক্লাস করার সুযোগও পাচ্ছেন দুই ভাই।

রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান রব চেয়েছেন বলেই আজ আমরা স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও একইসঙ্গে একরুমে বসে ক্লাস করতে পারছি। মাঝে মধ্যে ভাবলে নিজেরাই অবাক হয়ে যাই। ক্লাস নাইনে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার পর থেকেই বিষয়টি আমাদের খুব পছন্দের ছিল। পছন্দের বিভাগে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি একই হলও বরাদ্দ পেয়েছি। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে।’

শাকিবুল হাসান জনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই ভাইয়ের সবসময় একসঙ্গে পড়ার স্বপ্ন ছিল। সেটা এত সুন্দরভাবে পূরণ হবে, তা কখনো ভাবিনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা ভবিষ্যতেও সফলতা একসঙ্গে ধরে রাখতে চাই।’

একই স্কুল, একই কলেজ, একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই বিভাগ এবং একই আবাসিক হল—শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের সঙ্গী হয়ে আছেন শেরপুরের এই জমজ দুই ভাই।

মোবারকপুরের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার ক্যাম্পাসে এসে এবার পদার্থবিজ্ঞানের জগতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জনি ও রনি। সামনে তাদের লক্ষ্যও এক—একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প আরও দীর্ঘ করা।

মন্তব্য করুন

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিয়ামত এলাহি

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন, ২০১৩-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার বছরের জন্য নিয়োগ

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে—পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জবির নতুন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইউট্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী দুই বছর সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী দুই বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

মন্তব্য করুন

শেকৃবির বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে ড. নূর জাহিদ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. মো. নূর জাহিদ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংযোগ আরও কার্যকর করার ধারাবাহিকতায় তাঁকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিল্প ও পেশাগত ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিভাগের পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ড. মো. নূর জাহিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা।
এদিকে, পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ড. নূর জাহিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়রা হক।
পৃথক এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ড. জাহিদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ বিভাগের পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ড. মো. নূর জাহিদ বর্তমানে জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি, বীজ, বায়োটেকনোলজি, কৃষি ইনপুট এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের এমন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

ইবিতে দুই শিক্ষার্থী আটক, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের উদ্যোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের একটি নির্জন এলাকা থেকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে মাদ্রাসা মসজিদসংলগ্ন একটি কাঁঠালবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, আটক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তরুণী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি মেসে থাকেন।

পরে তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা জানান এবং বিয়েতে সম্মতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করার কথা রয়েছে।

আটক শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘গত সাত-আট মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। আমি ভুল করেছি। আমি তাকে ভালোবাসি এবং তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই শিক্ষার্থী কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্জন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিষয়টি লক্ষ্য করার পর শুক্রবার তাদের আটক করে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিয়েতে সম্মতি জানান। তাদের বাবা-মাকে ডাকা হবে। এরপর বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই ছাত্রী যে মেসে থাকেন, সেটির মালিককেও তলব করা হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।’

মন্তব্য করুন

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জবির ২৯ শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে মনোনীত

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ২৯ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য পৃথক তালিকায় এসব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালের জন্য সাতজন করে, ২০২৪ সালের জন্য সাতজন এবং ২০২৫ সালের জন্য আটজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীত শিক্ষার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে।

যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন ফরম অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত ফরম নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। পূরণ করা ফরমের দুই সেট হার্ডকপি জমা দিতে হবে।

এর সঙ্গে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট বা গ্রেডশিটের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, জমা দেওয়া সব কাগজপত্র যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক অথবা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এসব কাগজপত্রের হার্ডকপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দিতে হবে।

হার্ডকপির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সফটকপি পিডিএফ আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। এ জন্য darainju@gmail.com ঠিকানা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

২০২২ সালের মনোনীতরা

সাদ্দাম হোসাইন, রুমানা সিদ্দিকা মারুফা, আয়েশা আক্তার, রোকেয়া পারভিন, মো. বিল্লাল হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রোমা ও মুজতানিবা জাহান মাশরাকা।

২০২৩ সালের মনোনীতরা

মো. আনোয়ার শাহ, সারমিন আক্তার, সাদিয়া জান্নাত মিতু, জয় পাল, মোছা. শুমোনা আক্তার, তানজুম আহমেদ নূদী ও তাসনিমা আক্তার।

২০২৪ সালের মনোনীতরা

আরিফুল ইসলাম, আসমা আক্তার, মুহাম্মদ গোলাম রোহমান শাফি, সাদিয়া খানম, রাগিব শাহরিয়ার রাফি, জান্নাতুন নাহের উর্মি ও মো. মুহিব আহসান চৌধুরী।

২০২৫ সালের মনোনীতরা

সোমাইয়া তাবাসসুম, ফারিয়া আক্তার ইভা, শানজিদা সারমিন মৌরি, দীপান্বিতা বৈদ্য, আনিকা তাবাসসুম অন্তরা, আভা রহমান, বিদিশা অধিকারী ও মোছা. ফারিয়া ইয়াসমিন।

মন্তব্য করুন
×