পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ২০২৭ সালের ২৭ মে’র মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে না। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। নির্বাচন কমিশন শুধু নির্বাচনের ধাপ ও তারিখ জানিয়ে দেবে।

এদিকে, গত সেপ্টেম্বরে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬’-এর সংশোধিত চূড়ান্ত গেজেটে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালার গেজেটে গত বৃহস্পতিবার ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করেন। পরে বুধবার এটি প্রকাশ করা হয়।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না।

জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে তাঁর জামানত ফেরত দেওয়া হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এ ছাড়া জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী সরকারি গেজেটে নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে অর্থ গ্রহণ না করলে তা অফেরতযোগ্য হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব খোলার বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে খরচ করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন-পূর্ব প্রচারণাসহ সব ধরনের নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিমালার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিধিমালার পরিপন্থি কোনো কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

মন্তব্য করুন

ইতালি পাঠানোর কথা বলে মালয়েশিয়ায় পাচার, ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ; পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং তার কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতারকুল এলাকার নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার ভেলানগর এলাকার স্বদেশ চন্দ্র দাসের ছেলে শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। পিবিআই জানিয়েছে, সুবোধ এই চক্রের মূল হোতা এবং শিমুল তার প্রধান সহযোগী।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী আব্দুর রউফকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তিতে রাজি করায় চক্রটি। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করা হয়।

পরে ২০২৫ সালের ৪ জুন ইতালি না পাঠিয়ে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে রউফকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

দেশে ফিরে বিষয়টি আসামিদের জানালে তারা ভুল স্বীকার করে আবারও ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয় এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। ইতালি যাওয়ার আশায় রউফ দফায় দফায় তাদের হাতে মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ইতালি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় চক্রটি। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুর রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনসহ পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা করা হয়।

পরে তদন্তকারী দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুর থেকে চক্রের মূল হোতা সুবোধকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর টাউয়াদী এলাকা থেকে সহযোগী শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা মানবপাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আজ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, টাকা লেনদেন না করার নির্দেশ

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (১২ অক্টোবর)। এ কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

গত ৮ অক্টোবর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী সব এলাকার থানা ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম একযোগে শুরু হবে। এ জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এর অংশ হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে মসজিদে এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় প্রচারণার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রচারণার জন্য প্রস্তুত করা বার্তায় জানানো হয়েছে, সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে কোন পরিবারের সহায়তা বেশি প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে। এ কারণে পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা তুলে ধরে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মসজিদে জুমার নামাজের আগে তিন মিনিটের ঘোষণায় পরিবারের সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন থেকে সতর্ক থাকার বার্তা প্রচার করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তা বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই বলেও প্রচারণার বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারে দুই মিনিটের ঘোষণায় সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় যেন কেউ বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কেউ অর্থ দাবি করলে ১০৯৮ নম্বরে জানানোর বিষয়টিও প্রচারণার বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

দুর্গাপূজায় টানা ৭ দিনের ছুটি, সুবিধা পাবেন যারা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা কয়েক দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ টানা ৭ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার। মহানবমী উপলক্ষে এদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মূল সরকারি ছুটি দুই দিন।

এর আগে ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ফলে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এক দিনের ছুটি নিলে এর সঙ্গে পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে ছুটির ধারাবাহিকতা মিলিয়ে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধা পাবেন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

টানা ৭ দিনের এই ছুটির সুবিধা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটি পাবেন, তবে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে টানা ছুটি বাড়ানোর সুযোগ তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বন্ধ থাকবে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হতে পারে।

এ সময় এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে।

জরুরি সেবায় থাকছে না ছুটি

সরকারি ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। জনসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির দিনেও কর্মীদের দায়িত্বে রাখতে পারে।

এর মধ্যে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীরা রয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কর্মসূচি অনুযায়ী ছুটির নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির নিয়ম আলাদা

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটির নিয়ম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে।

সরকারি ছুটির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

আবরার ফাহাদ হল উদ্বোধনে ইবিতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী

নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ’ হল উদ্বোধন করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানান ইবি উপাচার্য।

সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন ও অগ্রগতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন উপাচার্য। এ সময় তিনি নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ইবি ক্যাম্পাসে আসার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন বলে জানান উপাচার্য।

সাক্ষাৎ শেষে অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি তেমন কোনো কমিটমেন্ট দেননি। তবে কুষ্টিয়া সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সফরের আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলটি তাঁকে দিয়ে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসে তাঁর কুষ্টিয়া সফরের সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও সফরসূচিতে অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করছি।’

এ সময় উপাচার্য তাঁর লেখা কয়েকটি বই প্রধানমন্ত্রীকে সৌজন্য উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

মন্তব্য করুন

তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হন। কেউ গাছের ছায়ায় বসে আছেন, কেউ আবার মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতাও শোনা যাচ্ছে তাঁদের অবস্থানস্থলে।

 

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার এখনো তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেয়নি। তাই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

 

এই আন্দোলনের কারণে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সামনে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে তাঁরা ঢাকায় আরও বড় পরিসরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

মন্তব্য করুন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিবৃতি

এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

আজ বাংলাদেশের আদালত যে রায় দিয়েছে, তা সারা দেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে : যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ এবং এখনও সেই ক্ষত বহনকারী পরিবারগুলোর জন্য এই রায় সীমিত মাত্রায় হলেও ন্যায়বিচার এনে দিয়েছে।

আমরা বছরের পর বছরের নিপীড়নে ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। যে অপরাধগুলো নিয়ে বিচার হয়েছে— তরুণ ও শিশু, যাদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তাদের কণ্ঠস্বর, তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগের আদেশ, যা আমাদের আইন এবং সরকার–নাগরিক সম্পর্কের মৌলিক বন্ধনকে লঙ্ঘন করেছে। এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মূল মূল্যবোধ— মর্যাদা, দৃঢ়তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার— কে আঘাত করেছে।

প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তারা শুধুই সংখ্যা নন; তারা ছিলেন আমাদের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। গত কয়েক মাসের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, কীভাবে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি— এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও— ব্যবহার করা হয়েছিল। এই রায় তাদের ভোগান্তিকে স্বীকৃতি দেয় এবং আমাদের বিচারব্যবস্থায় অপরাধীদের জবাবদিহির নিশ্চয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহিতার ধারায় পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, এবং তাদের অনেকেই জীবন দিয়ে মূল্য দিয়েছেন— তাদের বর্তমান উৎসর্গ করেছেন আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।

সামনের পথচলায় শুধু আইনি জবাবদিহিতা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও জরুরি। প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য মানুষ কেন সবকিছু ঝুঁকির মুখে ফেলে— তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা তৈরি করা অপরিহার্য। আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সাথে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাংলাদেশে শুধু নামেমাত্র টিকে থাকবে না; এটি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুদৃঢ় হবে।

মন্তব্য করুন
×