একই স্কুল-কলেজ পেরিয়ে একই বিভাগে রাবিতে জমজ দুই ভাই
শৈশব থেকে একসঙ্গে পথচলা। একই স্কুল, একই কলেজ—শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই পাশাপাশি ছিলেন শেরপুরের জমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি। এবার সেই পথচলা এসে পৌঁছেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই নয়, দুজনই সুযোগ পেয়েছেন একই বিভাগে। আবাসিক হলও পেয়েছেন একই। বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে মতিহার হলে থাকছেন তারা।
শেরপুর সদর উপজেলার মোবারকপুরের এই দুই ভাইয়ের শিক্ষাজীবনের শুরু শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমিতে। সেখানে মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে এসএসসি পরীক্ষায় দুজনই জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
এরপরও তাদের পথ আলাদা হয়নি। দুজনই ভর্তি হন শেরপুর সরকারি কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ধরে রাখেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা। শাকিবুল হাসান জনি জিপিএ-৪.৯২ এবং রাকিবুল হাসান রনি জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য এরপর তাদের গন্তব্য হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়ে দুজনই সুযোগ পান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে পড়ার পাশাপাশি তাদের আবাসিক ঠিকানাও হয়েছে একই—মতিহার হল। এমনকি একই কক্ষে বসে ক্লাস করার সুযোগও পাচ্ছেন দুই ভাই।
রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান রব চেয়েছেন বলেই আজ আমরা স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও একইসঙ্গে একরুমে বসে ক্লাস করতে পারছি। মাঝে মধ্যে ভাবলে নিজেরাই অবাক হয়ে যাই। ক্লাস নাইনে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার পর থেকেই বিষয়টি আমাদের খুব পছন্দের ছিল। পছন্দের বিভাগে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি একই হলও বরাদ্দ পেয়েছি। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে।’
শাকিবুল হাসান জনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই ভাইয়ের সবসময় একসঙ্গে পড়ার স্বপ্ন ছিল। সেটা এত সুন্দরভাবে পূরণ হবে, তা কখনো ভাবিনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা ভবিষ্যতেও সফলতা একসঙ্গে ধরে রাখতে চাই।’
একই স্কুল, একই কলেজ, একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই বিভাগ এবং একই আবাসিক হল—শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের সঙ্গী হয়ে আছেন শেরপুরের এই জমজ দুই ভাই।
মোবারকপুরের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার ক্যাম্পাসে এসে এবার পদার্থবিজ্ঞানের জগতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জনি ও রনি। সামনে তাদের লক্ষ্যও এক—একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প আরও দীর্ঘ করা।