ইতালি পাঠানোর কথা বলে মালয়েশিয়ায় পাচার, ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ; পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং তার কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক অভিযান চালিয়ে গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতারকুল এলাকার নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার ভেলানগর এলাকার স্বদেশ চন্দ্র দাসের ছেলে শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। পিবিআই জানিয়েছে, সুবোধ এই চক্রের মূল হোতা এবং শিমুল তার প্রধান সহযোগী।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী আব্দুর রউফকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তিতে রাজি করায় চক্রটি। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করা হয়।

পরে ২০২৫ সালের ৪ জুন ইতালি না পাঠিয়ে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে রউফকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

দেশে ফিরে বিষয়টি আসামিদের জানালে তারা ভুল স্বীকার করে আবারও ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয় এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। ইতালি যাওয়ার আশায় রউফ দফায় দফায় তাদের হাতে মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা তুলে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ইতালি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় চক্রটি। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আব্দুর রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনসহ পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা করা হয়।

পরে তদন্তকারী দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুর থেকে চক্রের মূল হোতা সুবোধকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর টাউয়াদী এলাকা থেকে সহযোগী শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা মানবপাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

দুর্গাপূজায় টানা ৭ দিনের ছুটি, সুবিধা পাবেন যারা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী অক্টোবর মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা কয়েক দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বোচ্চ টানা ৭ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার। মহানবমী উপলক্ষে এদিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মূল সরকারি ছুটি দুই দিন।

এর আগে ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ফলে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ২০ ও ২১ অক্টোবরের সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এক দিনের ছুটি নিলে এর সঙ্গে পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। ফলে ছুটির ধারাবাহিকতা মিলিয়ে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধা পাবেন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

টানা ৭ দিনের এই ছুটির সুবিধা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটি পাবেন, তবে ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে টানা ছুটি বাড়ানোর সুযোগ তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বন্ধ থাকবে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু রাখা হতে পারে।

এ সময় এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে।

জরুরি সেবায় থাকছে না ছুটি

সরকারি ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। জনসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির দিনেও কর্মীদের দায়িত্বে রাখতে পারে।

এর মধ্যে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীরা রয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কর্মসূচি অনুযায়ী ছুটির নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির নিয়ম আলাদা

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটির নিয়ম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে।

সরকারি ছুটির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

৮ বিভাগে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ

দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সভায় বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করছেন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘জেলায় জেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে। অথচ সরকারি মাদ্রাসা মাত্র তিনটি। এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক সভায় মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। আশা করছি, এ সরকারের আমলে এ বিষয়ে ভালো কিছু হবে।’

দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাত্র ৩টি

বর্তমানে দেশে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে।

ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ১৭৮০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ঢাকার বকশীবাজারে বর্তমান স্থায়ী ক্যাম্পাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ১৯১৩ সালে আসাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধীনে সিলেট শহরের চৌহাট্টায় এটি সিনিয়র মাদ্রাসা হিসেবে পুনঃস্থাপিত হয়। ১৯৩৩ সালে এটি নিউ স্কিম উচ্চ মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৩৫ সালে কামিল হাদিসের স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা ধারার প্রথম কামিল মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

সরকারি স্কুল-কলেজের তুলনায় মাদ্রাসা খুবই কম

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। সরকারি কলেজ রয়েছে ৭০৮টি। এছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে রয়েছে সরকারি স্কুল-কলেজের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৯৪টি।

অন্যদিকে, দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৭টি, আলিম ১ হাজার ২৮৫টি, ফাজিল ৯৯৩টি এবং কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি। এছাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে ১ হাজার ২৫৮টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি স্কুল-কলেজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকলেও বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগে অন্তত একটি করে আলিয়া মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। সীমিত সুযোগের মধ্যেও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভালো করছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটসহ) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হচ্ছেন।

‘জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মানও বাড়বে’

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার তুলনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বর পেয়ে পড়াশোনা করছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।’

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা জাতীয়করণ হলে শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়বে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ পাবে। তবে জাতীয়করণের বিষয়টি এখনো আলোচনা ও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

মন্তব্য করুন

লাওসে বাংলাদেশিদের শ্রমিক নিয়োগ ও ভিসা স্থগিত

বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দেশটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

লাওসে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার প্রলোভনে পড়ে কাউকে অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুমোদন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।

একই নির্দেশনার আওতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রমিক শ্রেণির ভিসা ইস্যুও বন্ধ রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা ইস্যু স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।দেশি পোশাক বাছুন

এই পরিস্থিতিতে লাওসে কাজের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ভুয়া ভিসা, কাল্পনিক চাকরির প্রস্তাব এবং অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার বিষয়ে অর্থ প্রদান কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা উচিত। অনুমোদিত নয়—এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাওসের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দেশটির সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।

মন্তব্য করুন

সাতকানিয়ায় দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ; প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল

বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী ঈশা দাশ (১২) মারা গেছে। দুর্ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর রয়েল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার সুনীল দাশের মেয়ে।

নিহতের জেঠা ও ঠাকুরদিঘী পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ জানান, দুর্ঘটনার পর ঈশাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে রয়েল হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে টিফিনের ছুটি হলে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় মহাসড়ক পার হচ্ছিল ঈশা। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম নগরীর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে প্রায় চার ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঈশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। তারা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন তারা।

বিক্ষুব্ধরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে বাসের ভেতরের কয়েকটি সিট খুলে মহাসড়কে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপন করতে হবে। তাদের অবরোধে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা।

সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে জানা যায়, ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গতিরোধক স্থাপনের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ।

মন্তব্য করুন

আবরার ফাহাদ হল উদ্বোধনে ইবিতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী

নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ’ হল উদ্বোধন করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানান ইবি উপাচার্য।

সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন ও অগ্রগতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন উপাচার্য। এ সময় তিনি নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ইবি ক্যাম্পাসে আসার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন বলে জানান উপাচার্য।

সাক্ষাৎ শেষে অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি তেমন কোনো কমিটমেন্ট দেননি। তবে কুষ্টিয়া সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সফরের আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হলটি তাঁকে দিয়ে উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী মাসে তাঁর কুষ্টিয়া সফরের সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও সফরসূচিতে অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করছি।’

এ সময় উপাচার্য তাঁর লেখা কয়েকটি বই প্রধানমন্ত্রীকে সৌজন্য উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

মন্তব্য করুন

অপ্রতীম হত্যার পর কুবি শিক্ষকের পরিবারকে ফোনে গালিগালাজ-হুমকি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামীণফোনের একটি নম্বর থেকে অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করা হয়। ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পরই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ফোন কেটে দিলে ওই নম্বর থেকে বারবার কল আসতে থাকে। পরে নম্বরটি ব্লক করে দেন তিনি।

এরপর এয়ারটেল (সার্কেল) অপারেটরের আরেকটি নম্বর থেকেও তাকে একাধিকবার কল করা হয়। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে নম্বর দুটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু-কলারে নম্বর দুটি ‘রাসেল স্টোর’ ও ‘মোহাম্মদ আলি’ নামে সংরক্ষিত দেখা যায়।

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। তাকে আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, সেটি আমরা জানি না। আমাদের মধ্যেও শঙ্কা কাজ করছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন ফোন করে খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার পর আসামিরাই আমার সঙ্গে এসে ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের নেতৃত্বদানকারীরা যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা ব্যবস্থা না হলে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?’

নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে অভিযান চালানোর পর সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা হলেন—মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)।

মন্তব্য করুন
×