ফাতেহা-ই ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখ পরিবর্তন

পবিত্র ফাতেহা-ই ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি থাকবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই ইয়াজদাহমের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে পূর্বনির্ধারিত তারিখের পরিবর্তে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল বদলেছে? একাদশে আবেদনের সুযোগ

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলাফল একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব শিক্ষার্থী এখন নতুন করে একাদশে ভর্তির আবেদন করতে অথবা আগে করা আবেদন পরিমার্জন করতে পারবেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদনের পোর্টালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত ফলাফলগুলো ভর্তি আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, তারা আবেদন না করে থাকলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আর আগে আবেদন করে থাকলে পছন্দক্রমসহ আবেদন পরিমার্জনের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আগামী রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। যারা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি, তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এবং রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে।

মন্তব্য করুন

চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুতে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ, জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

নবম পে-স্কেলে এমপিওভুক্তদের বেতন বাড়বে দ্বিগুণ, যেভাবে হবে কার্যকর

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা কার্যকর করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এ জন্য গেজেট প্রকাশের পর চারটি প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে একটি চিঠি দেওয়া হবে। ওই চিঠিতে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা হিসাব করে জানাতে বলা হবে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর মাউশি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করবে। এটি হবে দ্বিতীয় ধাপ। পরে ওই সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

তৃতীয় ধাপে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পৃথক দুটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়ের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চাওয়া হবে এসব চিঠিতে।

সবশেষে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি জানিয়ে দুই বিভাগে চিঠি পাঠাবে। এই অনুমোদন পাওয়ার পরই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা পে-স্কেলের গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছি। গেজেট জারির পর দ্রুত সময়ের মধ্যে মাউশিকে চিঠি পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে দ্রুত গেজেট জারি করে শিক্ষকদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।’

কার বেতন কত হতে পারে

নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে—

  • চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষ: বর্তমানে মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় হবে ১ লাখ টাকা।

  • ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক: বর্তমান ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৭১ হাজার টাকা।

  • সপ্তম গ্রেডের উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক: বর্তমান ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৫৮ হাজার টাকা।

  • নবম গ্রেডের প্রভাষক: বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা।

  • দশম গ্রেডের বিএডধারী শিক্ষক: বর্তমান মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ৩২ হাজার টাকা।

  • একাদশ গ্রেডের সহকারী শিক্ষক: বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২৫ হাজার টাকা।

  • ষোড়শ গ্রেডের জুনিয়র শিক্ষক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর: বর্তমান ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।

  • অষ্টাদশ গ্রেডের ল্যাব সহকারী: বর্তমান ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২১ হাজার টাকা।

  • বিংশ গ্রেডের অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া: বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন পাওয়া যায়। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

ইউনেস্কোর ‘ডিজিটাল লার্নিং উইকে’ যোগ দিতে ফ্রান্সে শিক্ষামন্ত্রী

ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ অংশ নিতে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আগামী ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা: সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা’ (Education in the Age of AI: Facts, Frictions, Frontiers)।

সূচি অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কো সদর দপ্তরে ‘Age Appropriateness and AI in Education’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেবেন শিক্ষামন্ত্রী।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ‘Teachers at the Center: Agency, Competencies and the Teacher-Student Relationship’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এবারের ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষার ভবিষ্যৎ, শিক্ষকদের ভূমিকা, এআই ব্যবহারের উপযুক্ততা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব

দেশের ৫৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

সম্প্রতি বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। পরে সভার কার্যবিবরণীতে প্রস্তাবটি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন বিষয়ক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বগুড়ার সব সংসদ সদস্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।

সভায় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেই বগুড়ায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। এরপর বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের তেমন উন্নয়ন হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া চারবার বগুড়া থেকে নির্বাচন করে প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।

এ সময় তিনি বগুড়ায় নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব দেন।

পুরোনো আইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ২০০১ সালের ১৫ জুলাই আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। দীর্ঘদিন পর ২০২৩ সালের ১০ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ২০১৯ সালে অনুমোদিত নতুন আইনের খসড়া বাতিল করা হয়। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ২০০১ সালেই একটি আইন পাস হয়েছিল।

তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ বিষয়ে মন্ত্রিসভার নীতিগত সম্মতি ছিল। তবে ভেটিংয়ের জন্য আইনটি লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠানোর পর দেখা যায়, ২০০১ সালেই এ বিষয়ে একটি আইন পাস করা হয়েছিল। ওই আইনে সরকার গেজেট প্রকাশ করলেই আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইন পাস হওয়ার পর সরকার পরিবর্তন হলে বিষয়টি আর এগোয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রথম উপাচার্য নিয়োগ ও কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ৩ জুন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর গত ৭ জুলাই ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত করা হয়। এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬’ বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

তবে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রতিটি অনুষদে দুটি করে বিভাগ চালুর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন
×