মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে—তা বোঝার গবেষণায় যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন পিটার হেগেম্যান, জর্জ নাগেল ও কার্ল ডেইসেরথ। সোমবার (৫ অক্টোবর) ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের জন্য এ তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে আলো ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ‘অপটোজেনেটিকস’ উদ্ভাবন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, অপটোজেনেটিকসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্নায়ু সার্কিট সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি কারণগত সম্পর্ক অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়েছে। ফলে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া বোঝার পাশাপাশি বিভিন্ন স্নায়বিক ও মানসিক রোগ নিয়ে গবেষণায়ও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শৈবাল থেকে মস্তিষ্কের গবেষণায় অপটোজেনেটিকসের ভিত্তি তৈরি হয় এককোষী শৈবাল Chlamydomonas নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে। পিটার হেগেম্যানের আগ্রহ ছিল—এই ক্ষুদ্র শৈবাল কীভাবে আলোর উৎস শনাক্ত করে এবং সেদিকে সাঁতার কাটে। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল শৈবালের কোষের পৃষ্ঠে থাকা ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামের বিশেষ প্রোটিন শনাক্ত করেন। নীল আলো পড়লে প্রোটিনটির মাধ্যমে একটি চ্যানেল খুলে যায়। এর ফলে চার্জযুক্ত আয়ন কোষে প্রবেশ করে এবং বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়। গবেষকেরা আরও দেখতে পান, এই প্রোটিন অন্য কোনো কোষে প্রবেশ করানো হলেও সেটি আলো-সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। পরবর্তী সময়ে এই বৈশিষ্ট্যই স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতি তৈরির ভিত্তি হয়ে ওঠে। আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ স্নায়ুকোষ এরপর কার্ল ডেইসেরথ চ্যানেলরোডপসিনকে ব্যবহার করে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিন তৈরির জিন প্রবেশ করান। এরপর নীল আলো প্রয়োগ করে ওই স্নায়ুকোষে বৈদ্যুতিক সংকেত সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। ২০০৫ সালে ডেইসেরথ এ গবেষণার ফল প্রকাশ করেন। এর দুই বছর পর জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ সক্রিয় করার ক্ষেত্রেও সফলতা পান তিনি। এ গবেষণার ধারাবাহিকতায় আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিটি ‘অপটোজেনেটিকস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। নিউরোসায়েন্সে নতুন যুগ অপটোজেনেটিকস দ্রুতই বিশ্বজুড়ে নিউরোসায়েন্স গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিতে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ু সার্কিট শনাক্ত এবং সেগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্নায়বিক ও মানসিক রোগের কার্যকারণ বোঝার গবেষণাও এগিয়েছে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়েও অপটোজেনেটিকসের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। নোবেল কমিটি বলছে, অপটোজেনেটিকস মস্তিষ্ক গবেষণার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ ও সার্কিটকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মানুষের স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণের পেছনে থাকা জটিল প্রক্রিয়া বোঝার পথ আরও উন্মুক্ত হয়েছে।
দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ১৬টি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের ২৯ জন শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদল। নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানজীম রুবাইয়াত আফিফ ও সদস্য সচিব মোস্তাফিজুল কবীর স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে সংশ্লিষ্ট নেতাদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও বিগত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের অনুপস্থিতি সংগঠনের কাছে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার কারণ এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এ বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। শোকজপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব, বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং সিটি ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও শোকজ করা হয়েছে। শোকজপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন আশিয়ান মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া পপুলার মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিষয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এবারের বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পিএসসি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আবেদন শুরু ১ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড অথবা পিএসসির ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। সাধারণ প্রার্থীদের আবেদন ফি ২০০ টাকা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ফি ৫০ টাকা। এর সঙ্গে টেলিটকের ভ্যাট ও ডেটা ভেরিফিকেশন চার্জ বাবদ অতিরিক্ত ৫ টাকা দিতে হবে। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবেদন করে ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন। বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে, তারা এ বিশেষ বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের সব লিখিত পরীক্ষা ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হতে হবে। দেশি বা বিদেশি ডিগ্রির সমমানের সনদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌখিক পরীক্ষার সময় জমা দিতে হবে। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে। ৩০০ নম্বরে বাছাই এবারের বিশেষ বিসিএসে মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এর মধ্যে ২০০ নম্বরের লিখিত এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা থাকবে। লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ২০ নম্বর করে থাকবে। মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে থাকবে ১০ নম্বর করে। সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা পদের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে থাকবে ১০০ নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা হবে। নভেম্বরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা পিএসসি জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষা মূলত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ও প্রার্থিতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কোনো ধরনের তদবির করলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল সনদ ব্যবহার কিংবা পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে। এ ছাড়া এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করার কথাও জানিয়েছে পিএসসি। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, পদোন্নতি ও অন্যান্য কারণে শূন্য পদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে।
দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করেছে সরকার। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৭২২টি আসন কমানো হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি মেডিকেলে কমেছে ৩৫৫টি আসন, তবে তিনটি কলেজে ৭৫টি আসন বাড়ানোয় নিট হিসেবে সরকারি কলেজে আসন কমেছে ২৮০টি। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে অধিদপ্তর নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। 🔹 প্রথম সারির ১০ মেডিকেলে আসন কমানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের প্রথম সারির ৯টি পুরনো মেডিকেল কলেজ—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট এমএজি ওসমানী, বরিশালের শের-ই-বাংলা, ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ, রংপুর এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ—প্রত্যেকটির ২৫টি করে আসন কমিয়ে ২৫০ থেকে ২২৫ করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজেও ৫টি কমিয়ে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫টি। ফলে প্রথম সারির এই ১০টি মেডিকেল কলেজে মোট ২৩০টি আসন কমেছে। 🔹 পিছিয়ে থাকা মেডিকেলে বড় কাটছাঁট রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে মান নিয়ে আলোচিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে ৫০টি আসন কমিয়ে ৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নেত্রকোনা, নীলফামারি, নওগাঁ, মাগুরা ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে ২৫টি করে কমিয়ে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০টি করে। 🔹 তিন মেডিকেলে আসন বেড়েছে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে আসন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাজউদ্দীন ও টাঙ্গাইলে ২৫টি করে বাড়িয়ে আসন হয়েছে ১২৫টি এবং পটুয়াখালী মেডিকেলে ২৫টি বাড়িয়ে ১০০ নির্ধারণ করা হয়েছে। 🔹 অধিদপ্তরের যুক্তি: মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো সীমাবদ্ধতা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন বলেন,“এটি আসন কমানো নয়, বরং সমন্বয়। ২০২২ সালে হঠাৎ করে ১০৩০টি আসন বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু অবকাঠামো বাড়ানো হয়নি। অনেক জায়গায় লেকচার গ্যালারির ধারণক্ষমতা ২৫০ হলেও শিক্ষার্থী নেওয়া হয়েছিল ২৫০ বা তারও বেশি। তাই আসন সংখ্যা বাস্তবসম্মতভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, যেন শিক্ষার্থীরা আরামদায়ক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।” তিনি আরও বলেন,“হ্যাঁ, কেউ বলতে পারে সুযোগ কমছে, কিন্তু মানের চিকিৎসক তৈরি করতে গেলে মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। যত্রতত্র ভর্তি নিলে ভালো ডাক্তার তৈরি হবে না।” 🔹 বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি: মানোন্নয়ন হোক, তবে যুক্তিসঙ্গতভাবে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সৈয়দ আকরাম হোসেন বিষয়টিকে “যুক্তিসঙ্গত সমন্বয়ের” প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন,“বাংলাদেশে এখনো জনগোষ্ঠীর তুলনায় চিকিৎসক ঘাটতি রয়েছে। তাই আসন কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে শক্ত যুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থাকতে হবে। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) মানদণ্ডে প্রতিটি মেডিকেল কলেজের মূল্যায়ন করা উচিত। তারপর যেখানে ঘাটতি, সেখানে সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।” অধ্যাপক আকরাম আরও বলেন,রাষ্ট্রের উচিত চিকিৎসক তৈরির প্রক্রিয়াকে শুধু সংখ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মান ও চাহিদার ভারসাম্য বিবেচনা করা। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ক্ষেত্রে। তাই যে মেডিকেল কলেজ ভালো পারফর্ম করছে, সেটি সরকারি হোক বা বেসরকারি—রাষ্ট্রের উচিত তাদের প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া।” তার মতে,“আসন কমানো যুক্তিযুক্ত হতে পারে, কিন্তু সেটি যদি প্রক্রিয়াগতভাবে—যেমন ডব্লিউএফএমই মানদণ্ডে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে—করা হয়, তবেই তা গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক হয়।”
“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)। কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়? সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়— ১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence) অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত। গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। ২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality) অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত— তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়। অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook) অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি. আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation) অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়— প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে। ৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy) অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে— প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন? কারণ— প্রত্যেকটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এবং মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এরপর মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর অধিভুক্ত সব উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি। ৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।” অন্যান্য কোটাগুলো নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে— মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫% শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১% সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০% বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২% অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫% এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান। কোটা নিয়ে মতভেদ মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।” নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে মাউশির মহাপরিচালক বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”
সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের মূল ধারার সাধারণ, কারিগরি ও আলিয়া মাদ্রাসার সমতুল্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো কওমি মাদ্রাসার সব স্তরের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সনদকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করা এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। ১৬ নভেম্বর এটি ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল লক্ষ্যগুলো হলো: সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে যোগ্যতার সমন্বয়; পূর্ব অর্জিত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি; জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি; আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা মূলত দুই ধরনের — ১. আলিয়া মাদ্রাসা: সরকার স্বীকৃত ও সাধারণ বিষয় সমন্বিত; ২. কওমি মাদ্রাসা: স্বতন্ত্র ও ধর্মীয় পাঠ্যক্রমভিত্তিক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সামসুর রহমান খান জানান, কওমি শিক্ষাকে মূল ধারায় আনা হবে। আগে মাস্টার্স স্তরের (দাওরায়ে হাদিস) সমমান স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, এবার নিচ থেকে উপরের দিকে ধাপে ধাপে কাঠামোগত স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সার্টিফিকেশন দেশ ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে। বাস্তবায়ন ম্যানুয়েলে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, পড়ানো বিষয় ও আন্তর্জাতিক মানের তুলনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে। নীতিমালার কমিটি বাস্তবায়নে সুপারিশ করবে। বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকে। বর্তমানে দেশের বিপুল সংখ্যক কওমি শিক্ষার্থী মূল স্রোতের বাইরে। তাই মূল ধারায় আনা জরুরি। বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসাগুলো আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত হয়। সবচেয়ে বড় বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক)। এছাড়া আরও পাঁচটি কওমি শিক্ষা বোর্ড আছে। নীতিমালায় ১০টি স্তরে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই এক ধারা থেকে অন্য ধারায় যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত এবং বাস্তবায়নের নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বলতে এমন একটি শিক্ষা ধারা বোঝানো হয়েছে, যা ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে, শরিয়াহভিত্তিক পাঠক্রম অনুসারে পরিচালিত হয়।