একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় এ ফল প্রকাশ করা হয়।

ফল দেখতে শিক্ষার্থীদের xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর হোমপেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। পরে স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা পূরণ করে ‘সাবমিট’ করলে ফল দেখা যাবে।

ফলাফলে শিক্ষার্থী কোন কলেজ বা মাদ্রাসায় ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তা জানা যাবে।

প্রায় ১০ লাখ আবেদন

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ।

ফলে মোট আসনের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবেন না। কারণ, তুলনামূলক ভালো ও জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসনসংখ্যা সীমিত।

মন্তব্য করুন

জিএসটি গুচ্ছে এবারও ২০ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্ত হতে পারে আরও ৩টি

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে গুচ্ছে আরও দুই থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সভায় ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান। কো-কনভেনর করা হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীকে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনায় মূল কমিটির পাশাপাশি টেকনিক্যাল, ক্রয় ও অর্থসহ একাধিক কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি গঠনের পরই ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

মূল কমিটির কনভেনর অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, ‘২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হোস্ট ও কোনটি কো-হোস্ট হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিগগির আরেকটি সভা করে টেকনিক্যাল, ক্রয় ও অর্থ কমিটি গঠন করা হবে। সেখানেই ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।’

কো-কনভেনর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘গুচ্ছভুক্ত ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের প্রথম সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগির আরেকটি সভা ডেকে ভর্তি পরীক্ষার সময় ঘোষণা করা হবে।’

তিনি জানান, এবার মূল কমিটির কনভেনর ও কো-কনভেনর নির্বাচন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিষ্ঠা ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর সময়ের সিনিয়রিটির ভিত্তিতে। ২০০২ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা পবিপ্রবি এবং ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করা নোবিপ্রবির উপাচার্যকে সেই বিবেচনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে কম সিনিয়র বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও দায়িত্ব পাবে।

গুচ্ছে থাকছে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়—এই ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছের বর্তমান তালিকায় রয়েছে।

যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় ৩ বিশ্ববিদ্যালয়

গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে নতুন তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আগেরবারের মতো এবারও ২০ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন সাপেক্ষে আরও দুই থেকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এতে যুক্ত হতে পারে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় গুচ্ছে যুক্ত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রমও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ২৩ জানুয়ারি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১ স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭। তবে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর জানানো হবে।

চুয়েটের স্নাতক ভর্তি কমিটির সভাপতি ও তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ২৩ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা, শর্তাবলি, সময়সূচি ও মানবণ্টনসহ যাবতীয় তথ্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে চুয়েট প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে ভর্তি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর এ কমিটি প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে দেশের আরও দুটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

একাদশে ভর্তিতে নটর ডেম ও হলিক্রসের বিশেষ শর্ত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজধানীর নটর ডেম কলেজ ও হলিক্রস কলেজ। দুই কলেজেই নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। জিপিএ ও অন্যান্য একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ভর্তিচ্ছুদের জন্য কিছু বিশেষ শর্তও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

এর মধ্যে নটর ডেম কলেজ ধূমপায়ীদের আবেদন না করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে হলিক্রস কলেজ জানিয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নটর ডেম কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, কলেজের আইডি কার্ড ব্যবহার এবং নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ধূমপায়ীদেরও আবেদন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে হলিক্রস কলেজের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি, নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান, শরীরচর্চা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব নিয়ম মানতে অনাগ্রহী বা আপত্তি রয়েছে—এমন শিক্ষার্থীদের আবেদন না করার পরামর্শ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিবাহিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকে টিসি দেওয়া হবে। পাশাপাশি কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব নিয়ম ও শর্তে যাদের আপত্তি রয়েছে, তাদেরও আবেদন না করার জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ডিসিইউ ও তিতুমীর কলেজের সমন্বয়হীনতা, ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) ও তিতুমীর কলেজ প্রশাসনের মধ্যকার সমন্বয়হীনতার কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডিসিইউ থেকে ভর্তির নোটিশ দেওয়া হলেও তিতুমীর কলেজ প্রশাসন এখনো নিজস্ব বিজ্ঞপ্তি ও ফরম প্রকাশ করেনি। ফলে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দূরদূরান্ত থেকে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না এবং তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।


সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিস সহায়কদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ এখনো ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি ক্যাম্পাসে এসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করলেই ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। নোটিশ না থাকায় ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।


এই অব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ইংরেজি বিভাগে ভর্তিচ্ছু রাকিবুল হাসান জানান, ডিসিইউর নোটিশ থাকার পরও তিতুমীর কলেজ প্রশাসন কেবল অজুহাত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে আসা এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ভবনের প্রথম তলা থেকে বলা হচ্ছে ভর্তি নেওয়া হবে না, আবার দ্বিতীয় তলা থেকে বলা হচ্ছে ভর্তি চলবে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতও দেওয়া হচ্ছে এবং হয়রানির শিকার হয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে তাদের আবারও কলেজে আসার উপক্রম হয়েছে।


ক্যাম্পাসে এমন অচলাবস্থা বিরাজ করলেও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তির কাজ চলছে। উল্লেখ্য, ডিসিইউর বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমে ১৩ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ভর্তির সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও, পরে তা বাড়িয়ে ১৭ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা ১৬ জানুয়ারি, থাকছে না প্রাথমিক বাছাই

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারও প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা ছাড়াই শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তিযোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়েছিল। এবারও একই পদ্ধতিতে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা ছাড়াই কেবল লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন কবে শুরু হবে, আবেদনের যোগ্যতা, আবেদন ফি এবং লিখিত পরীক্ষার বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে সোমবারের বিজ্ঞপ্তিতে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ১০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে।

মন্তব্য করুন

সরকারি স্কুলে ভর্তি: স্কুলে ভর্তিতে ৬৩ শতাংশই কোটা

সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি।

৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে
প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়।

প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ
ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে।

মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ,
“অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।”

অন্যান্য কোটাগুলো
নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে—

  • মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫%

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১%

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০%

  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২%

  • অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫%

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে।

অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান।

কোটা নিয়ে মতভেদ
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।”

নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে
মাউশির মহাপরিচালক  বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”

মন্তব্য করুন
×