নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই দিতে প্রস্তুত এনসিটিবি

এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা
এনসিটিবি লোগো । গ্রাফিক্স- এডুকেশন বাংলা

সব ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কাজ করছে—বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে এনসিটিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছানো এনসিটিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং চলছে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো ছাপা ও বিতরণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে সংস্থাটি। বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির নিজস্ব তদারকির পাশাপাশি নিরপেক্ষ ইন্সপেকশন ফার্ম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়েও নজরদারি করছে। প্রেস মালিকদের সঙ্গেও চলছে নিয়মিত সমন্বয়।

সম্প্রতি এনসিটিবি অডিটোরিয়ামে বই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেখানে মালিকরা মুদ্রণ ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করা কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরেন এবং সেগুলো সমাধান করা হলে সময়মতো বই সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে মত দেন।

এর পরপরই গত মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা ভার্চুয়ালি দেশের এক হাজারের বেশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় আগের মতবিনিময় সভায় আলোচিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরবরাহকৃত বইয়ের বিল দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়। পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বই পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বই গ্রহণের ব্যবস্থা এবং বই পাঠানোর সময় মাঠপর্যায় সঠিকভাবে অবহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বই সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত স্থান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান মালিকরাও শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মানসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা থাকলে নির্ধারিত সময়ে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।

মন্তব্য করুন

শিক্ষার্থীদের সুস্থতা বৃদ্ধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলি ও পিটি বাধ্যতামূলক: মাউশি

শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) এবং পিটি (শারীরিক প্রশিক্ষণ) আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে বছরজুড়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়োপযোগী ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে মাউশি জানিয়েছে, অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে অবশ্যই নিয়মিত অ্যাসেম্বলি ও পিটি আয়োজন করতে হবে।

এছাড়াও, যেসব প্রতিষ্ঠানে ক্যান্টিন বা অন্য কোনো মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হয়, সেই খাবার অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এই বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনাটি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোকেও এই বিষয়ে অবগত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের: মাউশি

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন বা অধ্যাদেশ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন সব দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাইবার স্পেসে আচরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই নীতিমালাগুলো অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারীর 'আচরণবিধি লঙ্ঘনের' শামিল হবে। এর পাশাপাশি এটি অনেক ক্ষেত্রে 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি' এবং 'শাস্তিযোগ্য অপরাধ' হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে 'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)' এবং 'সাইবার সুরক্ষা আইন/অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২৫ নং অধ্যাদেশ)'-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সব আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের ফল ১৬ অক্টোবর প্রকাশ হতে পারে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ১৬ অক্টোবর প্রকাশ করা হতে পারে। এই তারিখ চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠাবে। মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবে সায় দিলে ১৬ অক্টোবরই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "এইচএসসি পরীক্ষার ফল ১৬ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার প্রকাশের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তারিখ রেখে মন্ত্রণালয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে ১৬ অক্টোবরই ফল প্রকাশ করা হবে।"

এর আগে, বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু ১৭ ও ১৮ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) থাকায় ১৬ অক্টোবরের মধ্যেই এইচএসসি ফল প্রকাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেছিলেন যে ফল তৈরির কাজ প্রায় শেষ। ৯ অক্টোবরের বৈঠকে সব বোর্ড চেয়ারম্যানের মতামত নিয়ে ১২ থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যেই ফল প্রকাশের তারিখ ঠিক করা হবে। বোর্ড থেকে তিনটি তারিখ প্রস্তাব করা হবে, যার মধ্যে একটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বড় কোনো সমস্যা না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটিই চূড়ান্ত করবে।

উল্লেখ্য, এ বছর ২৬ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিতের কারণে তা শেষ হয় ১৯ আগস্ট। নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষের দিন থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হয়।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। সারাদেশে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন

নিজ জেলায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক বদলির আওতায় থাকবেন না: স্বয়ংক্রিয় বদলির উদ্যোগ হাতে নেওয়া হচ্ছে

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেই সকল শিক্ষক যারা নিজ জেলায় নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের বদলির আওতায় না আনার প্রস্তাব এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধিকাংশ কর্মকর্তা এ প্রস্তাবের পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ফলে নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার মাউশিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এই প্রস্তাবটি আলোচিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, মাউমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী, মাউশির উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী, সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম মোসলেম উদ্দিন, এবং টেলিটক ও ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা।

কর্মশালার আলোচনায় বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কর্মশালায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, যারা নিজ জেলা থেকে বহু কিলোমিটার দূরে চাকরি করছেন, তাদের বদলি বেশি জরুরি। এছাড়া, এমপি বা মন্ত্রীর সুপারিশের কারণে অনিয়মের সম্ভাবনা থাকায় নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্তদের বদলির সুযোগ না দেওয়ার জন্য সবাই একমত হয়েছেন। শিগগিরই চূড়ান্ত বদলি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।

এক কর্মকর্তা বলেন, “কর্মশালায় টেলিটকের মাধ্যমে বদলি সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার তৈরিতে কী ধরনের সহযোগিতা দরকার তা লিখিতভাবে জানানো হবে এবং সফটওয়্যারটি কীভাবে কাজ করবে, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।”

জানা গেছে, এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকায় শিক্ষাপেশার উন্নয়নে বাধা তৈরি হয়। তাই সরকার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলির সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সফটওয়্যারের জটিলতার কারণে আগে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবারও আদালতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা বদলির দাবিতে রিট করলে কার্যক্রম স্থবির হয়েছিল।

কর্মশালার পর জানা গেছে, এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ বাস্তবায়িত হবে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি শিগগিরই শুরু হবে।

মন্তব্য করুন

পরীক্ষার ডামাডোলে গভর্নিং বডি নির্বাচন: শিক্ষক-অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ

শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো
শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো

৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ: শিক্ষাপঞ্জির সংবেদনশীল সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষাবর্ষের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়—নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশিকা শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, প্রথাগতভাবে এই নির্বাচন বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা এগিয়ে আনা হয়েছে বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার ঠিক মাঝখানে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে।

সংবেদনশীল সময়ে নির্বাচনের নির্দেশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষ করতে হবে। অথচ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এই সময়টিই শিক্ষার্থীদের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির এবং পরীক্ষার সময়।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা: ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা: ২৯ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা যখন পড়াশোনা নিয়ে চূড়ান্তভাবে ব্যস্ত, শিক্ষকেরা প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, ঠিক তখনই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা শঙ্কিত। তাঁদের মতে, এই সময়ে নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ নিশ্চিতভাবেই বিঘ্নিত হবে।

প্রথা ভাঙার কারণ ও উদ্বেগের জায়গা
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সময়ে পাঠদানের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় নির্বাচন ঘিরে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সবার অংশগ্রহণও স্বতঃস্ফূর্ত থাকে। কিন্তু এবার পরীক্ষার সময় নির্বাচন হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষার পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি, বুথ স্থাপন এবং নির্বাচন আয়োজনের অতিরিক্ত চাপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর একাধিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক  বলেন, "একই সময়ে নির্বাচন ও পরীক্ষা নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষার্থীদের জন্য অসুবিধা তৈরি করবে। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। মন্ত্রণালয়ের উচিত অবশ্যই দুটি বিষয়ের রুটিনের মধ্যে সমন্বয় করা।"

অন্যদিকে অভিভাবকেরা সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার সময় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়লে তা সন্তানের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচনের কারণে স্কুলের স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ বিঘ্নিত হলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আগাম প্রচারণায় সরগরম ক্যাম্পাস
নির্বাচনের এখনো দেড় মাস বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের পরিচালনা নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। গেল সপ্তাহে ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আসন্ন গভর্নিং বডি নির্বাচন - ২০২৫ আয়োজন উপলক্ষে বনশ্রী শাখা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় কলেজ শাখার প্রার্থী হিসেবে আহসান উল্ল্যা মানিককে মনোনীত করে অভিভাবকদের প্রতি তাঁকে নির্বাচিত করার আহবান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু। তিনি আগাম প্রচারণার বিষয়ে বলেন, "কলেজের নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ব্যস্ততা বাড়ে। ঢাকার বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই।" তবে তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শিক্ষক প্রতিনিধি মানে হচ্ছে একটি দল বা উপদল তৈরি করা। এই বিষয়টি নির্বাচনে বাদ দেওয়া উচিত।"

মন্ত্রণালয়ের নীরবতা
সাধারণ অভিভাবক এবং শিক্ষক মহলের প্রশ্ন হলো—শিক্ষাবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হওয়ার মুহূর্তে এমন স্পর্শকাতর সময়ে নির্বাচন আয়োজনের তাড়াহুড়ো কেন? যদিও দীর্ঘদিন ধরে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটির নির্বাচন হয়নি, সেই দিকে মন্ত্রণালয়ের নজর কম থাকলেও পরীক্ষার সময় এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের যৌক্তিকতা কী? শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে কিনা, তা নিয়ে এখন শিক্ষামহলে জোর আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, "এ বিষয়ে আসলে আমার বলার কিছু নেই। এটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এটি নিয়ে কাজ করছেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।" তবে বিদ্যালয় পরিদর্শক ও শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

বিজয়া দশমীতে ছাত্রদল নেতা তারিকের ভিন্নধর্মী কর্মসূচি

হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার শেষ দিন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচির আয়োজন করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তিনি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা তারিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের পক্ষে হাতের লেখা চিঠির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা ও গোলাপ ফুল প্রদান করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় লেখা রয়েছে- ‘শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের সংস্কৃতির যৌথ আনন্দের উৎস। ধর্মের ভিন্নতা থাকলেও হৃদয়ের বন্ধনে আমরা এক। আসুন মুসলিম-হিন্দু মিলেই তৈরি করি সম্প্রীতির সেই রঙিন দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।

 

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার। আমরা সেই আদর্শ ও নীতিতে বিশ্বাসী। তাই আমরা সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, আজ দুর্গাপূজার শেষ দিন তথা বিজয়া দশমীতে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্বেও পূজামণ্ডপে গিয়ে আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। এজন্য আমাদের সনাতনী ভাইবোনেরা আমাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম প্রধান, রাকিব হোসেন, জুল হোসেন, সদস্য সাব্বির হোসেন, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন ও তরিকুল ইসলাম তারেক, শেখ মুজিবুর রহমান হলের সদস্য তাহমিদ হুমায়ুন তানিম, ঢাবি ছাত্রদল কর্মী রুহুল আমিন, রাকিব হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য নূর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ফজলে রাব্বি রাদ, মুজতবা তাহমিদ মুবিন, মো. নাজমুল হক, মো. তানভিরুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণের মো. জুবায়ের হোসেন ও মো. ফাহাদ হোসেন, মহানগর পূর্বের মো. জাহিদ হাসান, মো. সোয়াইবুল ইসলাম রেম্পি, মুন্তাসির হাসনাত, মহানগর পশ্চিমের মো. মাহমুদুল হাসান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরাফাত হোসেন, ওসমান খান, ইউসুফ আহমেদ অপু, জামাল খান, আবদুল্লাহ আহমেদ তোফায়েল সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
×