শিক্ষকদের ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি অযৌক্তিক: গণশিক্ষা উপদেষ্টা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেড থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার যে দাবি তুলেছেন, সে বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার মন্তব্য করেছেন যে, এক লাফে ১০ম গ্রেডে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। তিনি বলেন, অধিকাংশ সহকারী শিক্ষকই মনে করেন, এ দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও সাধারণ শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাদের একই গ্রেডে আনা সম্ভব নয়। তাই একবারে ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে, তিনি জানিয়েছেন যে, সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেডের সুযোগ তৈরি করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি, এ মুহূর্তে আন্দোলনে যাওয়াকে অযৌক্তিক মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক রায় পোদ্দার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ভূমিকা নিয়ে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে এসব মন্তব্য করেন। সভায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষকদের নৈতিকতা, ব্যবহারিক দক্ষতা, সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে, তিনি আরও জানান, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে। এখন ৮০ শতাংশ পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে, যা আগে ছিল ৬৫ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন চলবে

সরকারি আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিতের পর ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

সরকারি আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ফের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা। তারা জানিয়েছেন, চলমান কর্মবিরতি ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি একসঙ্গে চলবে। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় শিক্ষক নেতারা অর্থসচিব ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকে বসবেন।

এর আগে রোববার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টায় সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।

বৈঠকে উপস্থিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ জানান, বৈঠকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো— সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন, এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।

বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আশ্বাস দেয় যে এসব দাবি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং দ্রুততম সময়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন, তবে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু এরপরই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে মতানৈক্য তৈরি হয়। শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষক ও নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন। সবশেষ রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমান জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, কর্মবিরতি স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, কেউ ভুলভাবে প্রচার করে থাকতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আগামীকাল লক্ষাধিক শিক্ষক কেন্দ্রীয় অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। শিক্ষকদের ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে বহু শিক্ষক আহত হন। পরে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং রোববার থেকে সারাদেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক পাঠদান থেকে বিরত থাকেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। কর্মবিরতি শুরুর পর থেকে এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করলেও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড ১৩তম থেকে ১২তম করার প্রস্তাব দেয়। এতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন।

মন্তব্য করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি
‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি

বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি। এর উদ্বোধন হবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাবে। সপ্তাহের পাঁচটি স্কুল দিবসে নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে—

  • রবিবার: ১২০ গ্রাম বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • সোমবার: বনরুটি ও ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ

  • মঙ্গলবার: ৭৫ গ্রাম ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা/মৌসুমি ফল

  • বুধবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • বৃহস্পতিবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় মোট এনার্জির ২৫.৯%, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২.২%, প্রোটিনের ১৬.৪% এবং ফ্যাটের ২১.৭% গ্রহণ করতে পারবে—যা শিশুদের শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টির অবস্থা উন্নত করা এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ বাড়ানোও এই প্রকল্পের অংশ।

তিনি আরও বলেন, ফিডিং কর্মসূচি চালু হলে বিদ্যালয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি হবে এবং ক্ষুধা নিবারণের ফলে শেখার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

মন্তব্য করুন

মিড-ডে মিলে নতুন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে নতুন পদ্ধতি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে কুপন ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সার কুপন দেওয়া হবে। ওই কুপন দিয়ে স্থানীয়ভাবে তালিকাভুক্ত খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে তারা।

তবে তালিকাভুক্ত দোকান বা ব্যবসায়ীর কাছে পছন্দের খাবার না পেলে শিক্ষার্থী খাবার কিনবে না এবং কুপনের অর্থ তার কাছেই থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করা হবে। শিক্ষার্থীরা ওই তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কুপনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের খাবার কিনতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী যদি তালিকাভুক্ত দোকানে বা ব্যবসায়ীর কাছে পছন্দ অনুযায়ী খাবার না পায়, তখন কিনবে না। কুপনের অর্থ শিক্ষার্থীর কাছেই থাকবে।’

মন্ত্রী জানান, কুপনভিত্তিক মিড-ডে মিলের এই পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

বিনামূল্যের বইয়ের মান নিয়েও সতর্ক মন্ত্রণালয়

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের বইয়ের মান নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বইয়ের মান নিশ্চিত করতে পাঁচ স্তরে যাচাই করা হচ্ছে। মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট বই বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘কেউ কাগজের মান খারাপ দিলেই সেই বই বাতিল করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ বই কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এত কিছুর পরও কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বই সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে যাওয়ার পরও যদি কোনো বইয়ের মান খারাপ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রিন্টার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

ক্লাস চলাকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেঝে ধসে আহত ৫ শিক্ষার্থী

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ক্লাস চলাকালে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মেঝের একাংশ ধসে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির একটি কক্ষে ক্লাস চলছিল। হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে ফাটল দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঝের একাংশ নিচের দিকে ধসে পড়ে। এতে কক্ষে থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাহিম বাদশা, মো. আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। তারা সবাই বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সবুতর নেছা বলেন, ‘ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝে ধসে পড়ে। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তারা সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেঝের এক পাশের বালি ও মাটি সরে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়টির ভবনটি নতুন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার কারণ এবং ভবনের অবস্থা যাচাই করতে এলজিইডির প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ছুটি কমছে: প্রস্তাব ৫৫-৬০ দিনে নামিয়ে আনার

শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কমাতে এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে বছরে গড়ে ৭৫ দিন ছুটি দেওয়া হলেও, তা কমিয়ে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি মেনে নেওয়ার শর্তে নতুন ছুটির সিদ্ধান্ত মানার কথা জানানো হয়েছে।

ছুটি কমানোর পরিকল্পনা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান যে, বর্তমানে বছরে মাত্র ১৮০ দিন স্কুল খোলা থাকছে। বিভিন্ন আন্দোলন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বার্ষিক ছুটির সংখ্যা ১৬ থেকে ২০ দিন কমিয়ে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক পোদ্দার আরও জানান, এই কাজ বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে।

শিক্ষকদের জন্য উদ্যোগ: শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখার উদ্যোগও নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনই থাকবে; এই ছুটি অন্যভাবে সমন্বয় করা হবে।

উচ্চপর্যায়ের আলোচনা: এর আগে গত মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ সভায় ছুটি কমানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ছুটি কমানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এখনো তাতে সম্মতি জানায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, শিক্ষার মান ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় ছুটি কমিয়ে শিক্ষার সময় বাড়ানো প্রয়োজন।

সিদ্ধান্তের প্রাথমিক পর্যায়: যদিও বিষয়টি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রস্তাবটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পর্যালোচনাধীন আছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

শিক্ষকদের শর্ত: এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষকরা ছুটি কমানোর এই সিদ্ধান্ত মানতে আপত্তি জানিয়েছেন, যতক্ষণ না তাঁদের পূর্বের দাবিগুলো পূরণ করা হয়। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছুটি কমানোর আগে প্রাথমিক বিভাগকে 'নন-ভ্যাকেশনাল' (non-vacational) ঘোষণা করতে হবে। এটি হলে অবসরের পর শিক্ষকরা কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনও মেনে নিতে হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় দিবস ও প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকা সংরক্ষিত ছুটিসহ ৭-৮ দিনের ছুটি শিক্ষকরা কখনোই ভোগ করতে পারেন না।

বিশ্লেষকদের অভিমত: শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান অত্যন্ত জরুরি। তবে ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন

বেতন–পদোন্নতির দাবিতে রাস্তায় শিক্ষকরা, ক্লাস বন্ধ এক কোটি শিক্ষার্থীর

সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে দেশের সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থী পাঠচ্যুত হয়েছে।

বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকরা পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে।

শাহবাগে হামলার পর কর্মসূচি এগিয়ে আনলেন শিক্ষকরা : ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ডাকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। মূলত ১৫ নভেম্বরের পর কর্মবিরতির পরিকল্পনা থাকলেও, শনিবার (৮ নভেম্বর) শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার পরই শিক্ষকরা তা আগাম শুরু করেন।

সংগঠনের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের ওপর হামলায় বহু শিক্ষক আহত হয়েছেন, কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের শিক্ষকরা একযোগে ক্লাস বর্জন করেছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”

তিনি আরও জানান, তারা ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে “স্কুলে তালা ঝুলিয়ে” দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষার তিন সপ্তাহ আগে শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রজব আলী বলেন,

“আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এখন ক্লাস বন্ধ থাকায় তার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এক বছরে দ্বিতীয় দফা আন্দোলন

চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কর্মবিরতিতে গেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর আগে মে মাসে তারা ধাপে ধাপে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা এবং আধাবেলা কর্মবিরতি পালনের পর ২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের আশ্বাসে ১ জুন তারা ক্লাসে ফেরেন। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ—প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।


১১তম গ্রেডের আশ্বাস, শিক্ষকদের দাবি ১০ম গ্রেড

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতা আবুল কাশেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন নতুন পে-কমিশনের আলোকে তারা ১০ম গ্রেডের দাবি তুলেছেন।

“সরকার বলছে ১১তম গ্রেড দেবে, কিন্তু এখনো অনুমোদন দেয়নি। তাই আমরা দশম গ্রেডের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি,” বলেন তিনি।


‘দশম গ্রেড যৌক্তিক নয়’—অভিযোগ উপদেষ্টার

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,

“প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন, তাই সহকারী শিক্ষকদের এক লাফে ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে আনা সম্ভব নয়। আমরা ১১তম গ্রেডের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামানও জানান,

“সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছি। অনুমোদন পেলেই তা কার্যকর হবে।”


শিখন ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা

তিনি আরও বলেন,

“বার্ষিক পরীক্ষার আগে এ কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ফেলবে। বই পেতে দেরি, আগের কর্মবিরতি—সব মিলিয়ে শিখন ঘাটতি অনেক বেড়েছে।”

মন্তব্য করুন
×