উপজেলা নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারিতে শিক্ষক পদায়নের দাবি

উপজেলাভিত্তিক নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের দাবি জানিয়েছেন ২০২৫ ব্যাচের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক। একই সঙ্গে পদায়ন প্রক্রিয়া সবার সামনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান শিক্ষকরা। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া দাবিতে তারা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন তারা। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয় নির্ধারণ করে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় উপজেলাভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, উপজেলাভিত্তিক লটারির ফলে একই উপজেলার একজন শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের কোনো বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সমস্যা, অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষকদেরও নানা বাস্তব জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিজের এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া। বিশেষ করে নারী, বিবাহিত ও দুর্গম এলাকার প্রার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের দাবি, একটি উপজেলার সব বিদ্যালয়কে একত্রে বিবেচনা না করে ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দেওয়া হোক। এতে শিক্ষকরা তুলনামূলকভাবে নিজ এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন তারা।

এ ছাড়া লটারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। কোন বিদ্যালয়ে কতটি শূন্যপদ রয়েছে, লটারি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নির্বাচন করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লটারি প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। সম্ভব হলে শিক্ষক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সবার সামনে লটারি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।

দুর্গম, হাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকার বাস্তবতাকে পদায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষকরা বলেন, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জসহ হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষক এবং যাতায়াত-সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

নারী শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পদায়ন নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। দূরবর্তী বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত যেসব বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো পদায়ন নীতিতে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, ‘আমরা কোনো অনিয়ম বা ব্যক্তিগত সুবিধা দাবি করছি না; আমরা একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, মানবিক ও বাস্তবসম্মত পদায়ন ব্যবস্থা চাই।’

তাদের জোর দাবি, ‘উপজেলাভিত্তিক নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দিতে হবে। লটারি হতে হবে সবার সামনে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে।’

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাস্তবতা ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-২০২৫ ব্যাচের শিক্ষকরা।

মন্তব্য করুন

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের বাসে ছাত্রশিবিরের স্টিকার বিতর্ক, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে
বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উদ্যোগে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণের জন্য বরাদ্দকৃত বাসে নিজেদের নাম-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, বিসিএস পরীক্ষার্থীদের পরিবহণ সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস বরাদ্দের পর পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রণয়ন, সিট পরিকল্পনা তৈরি এবং সামগ্রিক সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি সহযোগিতা করে।

তবে, শুক্রবার ভোরে পরীক্ষার্থীদের বহনকারী বাসগুলো ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার সময় বাসের গায়ে ছাত্রশিবিরের নামযুক্ত স্টিকার লাগানো দেখা যায়। এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন প্রধান এই ঘটনাকে 'দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত' আখ্যা দিয়ে বলেন, "সবাই জানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগেই এই পরিবহণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি বাসে নির্দিষ্ট সংগঠনের স্টিকার লাগানোয় শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সবাই বিব্রত হয়েছেন।"

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি সাদ কবির জানান, "আমরা প্রশাসনের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছি, সেটি জানাতেই স্টিকার লাগানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আমরা দ্রুত স্টিকার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি।"

এ বিষয়ে পরিবহণ প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী বলেন, "প্রতি বছরের মতো এবারও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই পরিবহণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্রশিবির পরীক্ষার্থীদের তালিকা তৈরিতে সহায়তা করেছে এবং ছাত্রদল প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দেয়। তবে বাসে সংগঠনের স্টিকার লাগানো একেবারেই অনুচিত। বিষয়টি নজরে আসার পর তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।"

 

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় নজরুল ভাস্কর্যের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আগারগাঁওগামী ছয়টি বাস (প্রতিটি রুটে তিনটি করে) পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।

মন্তব্য করুন

স্মার্টফোন পেলেই টিসি, নান্দাইলের স্কুলে নতুন নির্দেশনা

ময়মনসিংহের নান্দাইলের চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় চলাকালীন কোনো শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রয়োজনে তাকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অভিভাবক সমাবেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

ইউএনও বলেন, বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীদের কাছে স্মার্টফোন পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি তাকে টিসিও দেওয়া হতে পারে।

খারাপ ফল করা শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতির নির্দেশ

অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান ইউএনও ফাতেমা জান্নাত। বিশেষ করে নির্বাচনী পরীক্ষায় যারা খারাপ ফল করেছে, তাদের পরবর্তী ক্লাসগুলোতে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরও যদি কোনো শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হয়, তাহলে এর দায় শিক্ষকদের নিতে হবে।

১০৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ১৩

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়টির ১০৫ জন শিক্ষার্থী নির্বাচনী (প্রি-টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সম্প্রতি ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

ফলাফলে দেখা গেছে, সব বিষয়ে মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন আড়াই লাখ শিক্ষক

বাংলাদেশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেই। ফলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেলেও অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক এখনো মৌলিক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

মাদরাসা শিক্ষায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২০২৪ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। এখানে আগে নিয়োগ, পরে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকায় অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করেন। এতে শিক্ষার্থীদের উপযোগী আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি প্রয়োগে শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগী হবেন। যেসব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই, তাঁদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান তাঁরা শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ করছেন কি না, সেটিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পটির আওতায় দেওয়া প্রশিক্ষণকে ফাউন্ডেশন কোর্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

এমন বাস্তবতায় শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেই। ফলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেলেও অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই শিক্ষকতা করছেন।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক ছিলেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক এখনো মৌলিক প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

মাদরাসা শিক্ষায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাদরাসা শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ২০২৪ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন। তাঁদের প্রায় ২০ শতাংশের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। এখানে আগে নিয়োগ, পরে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকায় অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করেন। এতে শিক্ষার্থীদের উপযোগী আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি প্রয়োগে শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রার্থীরা নিজেরাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগী হবেন। যেসব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই, তাঁদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান তাঁরা শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ করছেন কি না, সেটিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পটির আওতায় দেওয়া প্রশিক্ষণকে ফাউন্ডেশন কোর্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

এমন বাস্তবতায় শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন

প্রকাশ হলো প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষার ফল, পাসের হার ৪১.৯৩ শতাংশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় ফল প্রকাশ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সারাদেশের ৮২টি কেন্দ্রে ১০৮টি কলেজের নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীসহ মোট ৫১ হাজার ৬৬৩ জন পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৪১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

পরীক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলবিষয়ক ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধন অথবা ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।

মন্তব্য করুন

নিজ জেলায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক বদলির আওতায় থাকবেন না: স্বয়ংক্রিয় বদলির উদ্যোগ হাতে নেওয়া হচ্ছে

শিক্ষামন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেই সকল শিক্ষক যারা নিজ জেলায় নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের বদলির আওতায় না আনার প্রস্তাব এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধিকাংশ কর্মকর্তা এ প্রস্তাবের পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ফলে নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার মাউশিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এই প্রস্তাবটি আলোচিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, মাউমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী, মাউশির উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী, সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম মোসলেম উদ্দিন, এবং টেলিটক ও ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা।

কর্মশালার আলোচনায় বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পেলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কর্মশালায় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, যারা নিজ জেলা থেকে বহু কিলোমিটার দূরে চাকরি করছেন, তাদের বদলি বেশি জরুরি। এছাড়া, এমপি বা মন্ত্রীর সুপারিশের কারণে অনিয়মের সম্ভাবনা থাকায় নিজ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্তদের বদলির সুযোগ না দেওয়ার জন্য সবাই একমত হয়েছেন। শিগগিরই চূড়ান্ত বদলি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।

এক কর্মকর্তা বলেন, “কর্মশালায় টেলিটকের মাধ্যমে বদলি সফটওয়্যার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার তৈরিতে কী ধরনের সহযোগিতা দরকার তা লিখিতভাবে জানানো হবে এবং সফটওয়্যারটি কীভাবে কাজ করবে, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।”

জানা গেছে, এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকায় শিক্ষাপেশার উন্নয়নে বাধা তৈরি হয়। তাই সরকার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বদলির সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সফটওয়্যারের জটিলতার কারণে আগে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবারও আদালতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা বদলির দাবিতে রিট করলে কার্যক্রম স্থবির হয়েছিল।

কর্মশালার পর জানা গেছে, এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ বাস্তবায়িত হবে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি শিগগিরই শুরু হবে।

মন্তব্য করুন

পরীক্ষার ডামাডোলে গভর্নিং বডি নির্বাচন: শিক্ষক-অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ

শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো
শিক্ষা অধিপ্তরের ছবি ও লোগো

৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ: শিক্ষাপঞ্জির সংবেদনশীল সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষাবর্ষের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়—নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশিকা শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, প্রথাগতভাবে এই নির্বাচন বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা এগিয়ে আনা হয়েছে বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার ঠিক মাঝখানে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে।

সংবেদনশীল সময়ে নির্বাচনের নির্দেশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষ করতে হবে। অথচ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এই সময়টিই শিক্ষার্থীদের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির এবং পরীক্ষার সময়।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা: ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা: ২৯ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা যখন পড়াশোনা নিয়ে চূড়ান্তভাবে ব্যস্ত, শিক্ষকেরা প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, ঠিক তখনই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা শঙ্কিত। তাঁদের মতে, এই সময়ে নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ নিশ্চিতভাবেই বিঘ্নিত হবে।

প্রথা ভাঙার কারণ ও উদ্বেগের জায়গা
প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সময়ে পাঠদানের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় নির্বাচন ঘিরে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সবার অংশগ্রহণও স্বতঃস্ফূর্ত থাকে। কিন্তু এবার পরীক্ষার সময় নির্বাচন হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষার পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি, বুথ স্থাপন এবং নির্বাচন আয়োজনের অতিরিক্ত চাপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর একাধিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক  বলেন, "একই সময়ে নির্বাচন ও পরীক্ষা নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষার্থীদের জন্য অসুবিধা তৈরি করবে। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। মন্ত্রণালয়ের উচিত অবশ্যই দুটি বিষয়ের রুটিনের মধ্যে সমন্বয় করা।"

অন্যদিকে অভিভাবকেরা সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার সময় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়লে তা সন্তানের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচনের কারণে স্কুলের স্বাভাবিক রুটিন ও পরিবেশ বিঘ্নিত হলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আগাম প্রচারণায় সরগরম ক্যাম্পাস
নির্বাচনের এখনো দেড় মাস বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের পরিচালনা নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। গেল সপ্তাহে ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আসন্ন গভর্নিং বডি নির্বাচন - ২০২৫ আয়োজন উপলক্ষে বনশ্রী শাখা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় কলেজ শাখার প্রার্থী হিসেবে আহসান উল্ল্যা মানিককে মনোনীত করে অভিভাবকদের প্রতি তাঁকে নির্বাচিত করার আহবান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু। তিনি আগাম প্রচারণার বিষয়ে বলেন, "কলেজের নির্বাচন নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ব্যস্ততা বাড়ে। ঢাকার বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই।" তবে তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচন এগিয়ে আনা বা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শিক্ষক প্রতিনিধি মানে হচ্ছে একটি দল বা উপদল তৈরি করা। এই বিষয়টি নির্বাচনে বাদ দেওয়া উচিত।"

মন্ত্রণালয়ের নীরবতা
সাধারণ অভিভাবক এবং শিক্ষক মহলের প্রশ্ন হলো—শিক্ষাবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হওয়ার মুহূর্তে এমন স্পর্শকাতর সময়ে নির্বাচন আয়োজনের তাড়াহুড়ো কেন? যদিও দীর্ঘদিন ধরে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটির নির্বাচন হয়নি, সেই দিকে মন্ত্রণালয়ের নজর কম থাকলেও পরীক্ষার সময় এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের যৌক্তিকতা কী? শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে কিনা, তা নিয়ে এখন শিক্ষামহলে জোর আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, "এ বিষয়ে আসলে আমার বলার কিছু নেই। এটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক এটি নিয়ে কাজ করছেন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।" তবে বিদ্যালয় পরিদর্শক ও শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন
×